ইসলামী দলগুলো বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরির জন্য নির্বাচনী পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে সংসদে যাওয়া, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখা এবং ইসলামের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন তরুন আলেম, লেখক ও অনলাইন এক্টিভিট নাছির বিন নূর
তিনি বলেন, ইসলামী রাজনীতি মানেই নির্বাচন বা সংসদে যাওয়া নয়। শূরা, ন্যায়বিচার, আমানতদারি, জবাবদিহি ও জনকল্যাণ ইসলামী রাজনীতির মৌলিক ভিত্তি। তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্কার, জনমত তৈরি, যোগ্য নেতৃত্ব গঠন, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের নসিহত এবং অন্যায়-জুলুমের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, সবই ইসলামী রাজনীতির অংশ।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে গণতন্ত্র ছাড়া কি ইসলামী রাজনীতি করার অন্য কোন পন্থা আছে, এবং গণতন্ত্রের পদ্ধতিতে যারা ইসলামী রাজনীতি করছে তাদের কি কোন ভবিষ্যৎ আছে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ও কথা বলেন তিনি।
গণতন্ত্রের পদ্ধতিতে যারা ইসলামী রাজনীতি করছে তাদের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের ভবিষ্যৎ আছে কি না, তা নির্ভর করবে আদর্শের পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্ব, জনসম্পৃক্ততা ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতার ওপর। বাংলাদেশে ইসলামী দলগুলোর ধর্মীয় ও সামাজিক জনভিত্তি এবং মসজিদ-মাদরাসাভিত্তিক সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। তবে ধর্মীয় আবেগ ও আলেমদের প্রতি শ্রদ্ধা সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক সমর্থনে রূপ নেয় না। আমি মনে করি, মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য, দুর্নীতি ও সুশাসনের প্রশ্নেও তাদের কার্যকর কর্মসূচি থাকতে হবে। দ্বীনি ইলমের পাশাপাশি অর্থনীতি, আইন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও প্রশাসনে দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। তবেই কিছুটা ইতিবাচক ভবিষ্যত আশা করা যায়।
সব ইসলামী দলই খেলাফত কায়েম করতে চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ইসলামী দলগুলোর জন্য আত্মসমালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। আমি মাঝেমধ্যে আমাকেও এই প্রশ্ন করি। সত্যি বললে, এর সঠিক জবাব আমি পাই না। অবশ্য খেলাফত সম্পর্কে সবার ধারণা, রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মপদ্ধতি এক নয়। কেউ সমাজ সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেন, কেউ রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জনকে; কেউ নির্বাচনী রাজনীতিকে প্রধান মাধ্যম মনে করেন, কেউ দাওয়াত ও সাংগঠনিক আন্দোলনকে। ফলে একীভূত হওয়া সম্ভব না। তবে অভিন্ন লক্ষ্য ও আদর্শের জায়গাগুলোতে অন্তত ন্যূনতম ঐক্য, সমন্বয় ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকা অবশ্যই জরুরি।
এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখতে হবে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রক্ষমতায় অংশগ্রহণ করা এক বিষয়, আর খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা আরেক বিষয়। নির্বাচনে জয়লাভ করলেই খেলাফত প্রতিষ্ঠা হয়ে যায় না। আমার বিবেচনায়, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়ে ইসলামী মূল্যবোধ ও নীতিমালার আলোকে রাষ্ট্র রিচালনার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। কিন্তু শুধু নির্বাচনী বিজয়ের মাধ্যমে খেলাফত প্রতিষ্ঠা সম্ভব, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
ইসলামী রাজনীতি নাছির বিন নূর
Tareq Jamil 





























