ঢাকা ০৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

বন্ধুকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দিল কুয়েত

  • Tareq Jamil
  • আপডেট সময় : ০৩:৫১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ২৩৬ বার পড়া হয়েছে

কুয়েত সিটিতে অবস্থিত কুয়েত টাওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পর তা মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে বন্ধুকে হত্যা করেছেন এক বাংলাদেশি প্রবাসী। এ ঘটনায় ওই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুয়েতের একটি ফৌজদারি আদালত।

কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন আদালত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীর ছবি প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, নিহত ওই ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্তের বন্ধুত্ব ছিল। কিন্তু অভিযুক্তের স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করার পর তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। ছবিগুলো মুছে ফেলার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও বন্ধু তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপরই বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত একটি ছুরি সংগ্রহ করেন। এরপর কর্মস্থলের একটি নির্দিষ্ট স্থানে তার বন্ধু অবস্থান করছেন নিশ্চিত হয়ে বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন।

 

একপর্যায়ে ভুক্তভোগী বাইরে বেরিয়ে এলে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন অভিযুক্ত। এ সময় তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

আদালতের শুনানিতে অভিযুক্ত হত্যার দায় স্বীকার করেন। তিনি জানান, বিরোধ তৈরির আগে নিহত ব্যক্তির সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, একবার তার বাসায় বেড়াতে এসে বন্ধু অনুমতি ছাড়াই তার স্ত্রীর ছবি তোলেন। পরে সেই ছবিগুলো ফেসবুকে প্রকাশ করেন।

অভিযুক্তের দাবি, ফেসবুকে ছবিগুলো প্রকাশের পর তার স্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা শুরু হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি বন্ধুকে ছবিগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ করেন। কিন্তু বন্ধু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করেন।

বরং পরবর্তী সময়ে তার স্ত্রীর আরও ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেন ওই বন্ধু। এতে অভিযুক্ত ও তার স্ত্রীর মধ্যে উত্তেজনা ও পারিবারিক অশান্তি তৈরি হয় বলে আদালতে জানান তিনি।

 

অভিযুক্ত আরও বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার মধ্যে প্রতিশোধ নেওয়ার মনোভাব তৈরি হয়। একপর্যায়ে বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেন।

সব তথ্য-প্রমাণ ও অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি পর্যালোচনা করে আদালত তাকে ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

 

তথ্যসূত্র: গলফ নিউজ

কুয়েত   মৃত্যুদণ্ড   প্রবাসী

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ

বন্ধুকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দিল কুয়েত

আপডেট সময় : ০৩:৫১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পর তা মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে বন্ধুকে হত্যা করেছেন এক বাংলাদেশি প্রবাসী। এ ঘটনায় ওই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুয়েতের একটি ফৌজদারি আদালত।

কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন আদালত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীর ছবি প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, নিহত ওই ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্তের বন্ধুত্ব ছিল। কিন্তু অভিযুক্তের স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করার পর তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। ছবিগুলো মুছে ফেলার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও বন্ধু তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপরই বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত একটি ছুরি সংগ্রহ করেন। এরপর কর্মস্থলের একটি নির্দিষ্ট স্থানে তার বন্ধু অবস্থান করছেন নিশ্চিত হয়ে বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন।

 

একপর্যায়ে ভুক্তভোগী বাইরে বেরিয়ে এলে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন অভিযুক্ত। এ সময় তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

আদালতের শুনানিতে অভিযুক্ত হত্যার দায় স্বীকার করেন। তিনি জানান, বিরোধ তৈরির আগে নিহত ব্যক্তির সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, একবার তার বাসায় বেড়াতে এসে বন্ধু অনুমতি ছাড়াই তার স্ত্রীর ছবি তোলেন। পরে সেই ছবিগুলো ফেসবুকে প্রকাশ করেন।

অভিযুক্তের দাবি, ফেসবুকে ছবিগুলো প্রকাশের পর তার স্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা শুরু হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি বন্ধুকে ছবিগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ করেন। কিন্তু বন্ধু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করেন।

বরং পরবর্তী সময়ে তার স্ত্রীর আরও ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেন ওই বন্ধু। এতে অভিযুক্ত ও তার স্ত্রীর মধ্যে উত্তেজনা ও পারিবারিক অশান্তি তৈরি হয় বলে আদালতে জানান তিনি।

 

অভিযুক্ত আরও বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার মধ্যে প্রতিশোধ নেওয়ার মনোভাব তৈরি হয়। একপর্যায়ে বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেন।

সব তথ্য-প্রমাণ ও অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি পর্যালোচনা করে আদালত তাকে ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

 

তথ্যসূত্র: গলফ নিউজ

কুয়েত   মৃত্যুদণ্ড   প্রবাসী