ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সব অবৈধ ক্লিনিক ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চালু করা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভালোবেসে বিয়ে, ১৪ বছর পর ঘরছাড়া ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু ক্ষমতায় নেতানিয়াহু—কীভাবে? শ্রমিকদের আন্দোলনে ভর করে রাজনৈতিক ফায়দার চেষ্টা: আমজনতার তারেক বাসের ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ দিল্লির রাজপথে বিরোধীদের শক্তি প্রদর্শন, চাপে মোদি সরকার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে: মাওলানা জালালুদ্দীন রামলীলা ময়দানের সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি রাজনীতিতে কী বার্তা দিচ্ছে? ২ নভেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত? মাদরাসার গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে স্থগিত

সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু ক্ষমতায় নেতানিয়াহু—কীভাবে?

  • Tareq Jamil
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ২২১ বার পড়া হয়েছে

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। চমক দেখিয়ে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে নতুন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব দলগুলো।

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফলে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নেতানিয়াহু আপাতত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন সরকার গঠনের পথ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও দর-কষাকষিতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল

ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, তিনটি রাজনৈতিক শিবিরের আসনসংখ্যা হলো—

নেতানিয়াহু সমর্থিত জোট: ৫৩ আসন

– লিকুদ: ২৭

– ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম: ৭

– ওতজমা ইয়েহুদিত: ৭

– শাস: ৬

– রিলিজিয়াস জায়নিজম: ৬

গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: ৪৮ আসন

– ইয়াশার: ২১

– বি’ইয়াচাদ: ১২

– দ্য ডেমোক্র্যাটস: ৮

– ইসরায়েল বেইতেনু: ৭

আরব নেতৃত্বাধীন দল: ১৯ আসন

– জয়েন্ট লিস্ট: ১১

– রা’আম: ৮

ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পায়নি। ফলে নতুন সরকার গঠনে দলগুলোর মধ্যে জোট পরিবর্তন, সমঝোতা কিংবা নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রয়োজন হতে পারে। আরব দলগুলোর সমর্থন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নির্বাচনের পর কী হবে?

ভোট গণনা ও ফল ঘোষণার পর নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করে আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে জমা দেওয়ার কথা। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের পর ১১ নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট একজন পার্লামেন্ট সদস্যকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট গঠনে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় বলে বিবেচিত হবেন, তাকেই বেছে নেবেন প্রেসিডেন্ট।

 

প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন পাওয়ার পর সরকার গঠনের জন্য ওই সংসদ সদস্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো হতে পারে।

যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠন সম্ভব না হয়, তাহলে দেশটিতে নতুন নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

নির্বাচনের ফল নিয়ে যা বললেন আইজেনকট

নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট দাবি করেছেন, ইসরাইলের  অধিকাংশ ভোটারই নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যেভাবেই হিসাব করা হোক না কেন, ৫ লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে ইসরাইলের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক ৭ অক্টোবরের সরকার এবং সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এড়িয়ে যাওয়ার নীতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তারা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।’

 

আইজেনকট আরও বলেন, ‘কেউ যেন কাউকে বিভ্রান্ত না করেন। ইসরাইল রাষ্ট্রে পার্লামেন্টই সরকারকে আস্থার ভোট দেয়, সরকার পার্লামেন্টকে নয়।’

সূত্র: আল জাজিরা,  টাইমস অব ইসরাইল

 

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু   ইসরাইল   নির্বাচন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সব অবৈধ ক্লিনিক ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চালু করা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু ক্ষমতায় নেতানিয়াহু—কীভাবে?

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। চমক দেখিয়ে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে নতুন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব দলগুলো।

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফলে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নেতানিয়াহু আপাতত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন সরকার গঠনের পথ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও দর-কষাকষিতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল

ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, তিনটি রাজনৈতিক শিবিরের আসনসংখ্যা হলো—

নেতানিয়াহু সমর্থিত জোট: ৫৩ আসন

– লিকুদ: ২৭

– ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম: ৭

– ওতজমা ইয়েহুদিত: ৭

– শাস: ৬

– রিলিজিয়াস জায়নিজম: ৬

গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: ৪৮ আসন

– ইয়াশার: ২১

– বি’ইয়াচাদ: ১২

– দ্য ডেমোক্র্যাটস: ৮

– ইসরায়েল বেইতেনু: ৭

আরব নেতৃত্বাধীন দল: ১৯ আসন

– জয়েন্ট লিস্ট: ১১

– রা’আম: ৮

ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পায়নি। ফলে নতুন সরকার গঠনে দলগুলোর মধ্যে জোট পরিবর্তন, সমঝোতা কিংবা নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রয়োজন হতে পারে। আরব দলগুলোর সমর্থন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নির্বাচনের পর কী হবে?

ভোট গণনা ও ফল ঘোষণার পর নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করে আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে জমা দেওয়ার কথা। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের পর ১১ নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট একজন পার্লামেন্ট সদস্যকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট গঠনে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় বলে বিবেচিত হবেন, তাকেই বেছে নেবেন প্রেসিডেন্ট।

 

প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন পাওয়ার পর সরকার গঠনের জন্য ওই সংসদ সদস্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো হতে পারে।

যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠন সম্ভব না হয়, তাহলে দেশটিতে নতুন নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

নির্বাচনের ফল নিয়ে যা বললেন আইজেনকট

নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট দাবি করেছেন, ইসরাইলের  অধিকাংশ ভোটারই নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যেভাবেই হিসাব করা হোক না কেন, ৫ লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে ইসরাইলের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক ৭ অক্টোবরের সরকার এবং সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এড়িয়ে যাওয়ার নীতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তারা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।’

 

আইজেনকট আরও বলেন, ‘কেউ যেন কাউকে বিভ্রান্ত না করেন। ইসরাইল রাষ্ট্রে পার্লামেন্টই সরকারকে আস্থার ভোট দেয়, সরকার পার্লামেন্টকে নয়।’

সূত্র: আল জাজিরা,  টাইমস অব ইসরাইল

 

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু   ইসরাইল   নির্বাচন