ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানি

‘বিসিবির তদন্ত রিপোর্ট কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না’

  • Tareq Jamil
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ২২৮ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত।

ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অন্যতম সফল ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় এসেছে নারী ক্রিকেট দলের হাত ধরে। আট বছর আগে এশিয়ার সেরা হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন বাংলার মেয়েরা। তবে দেশজুড়ে নারী অগ্রযাত্রার এই জয়যাত্রার পাশাপাশি নারী ক্রিকেটারদের জন্য খেলার মাঠ কতটা নিরাপদ—সেই প্রশ্ন আবারও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।

নারী জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিসিবির গঠিত তদন্ত কমিটির ৭০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন ঘিরে চলমান আলোচনার মাঝেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই তদন্ত রিপোর্ট কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।

বুধবার (৪ নভেম্বর) হাইকোর্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, হাইকোর্টের নির্দেশিত ও বিসিবি গৃহীত নিজস্ব নীতিমালার আলোকেই এই তদন্ত প্রতিবেদন গোপন রাখা বাধ্যতামূলক। ভিকটিম, অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের পরিচয় সুরক্ষা এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্মান রক্ষার্থেই এই রিপোর্ট পাবলিক ডোমেইনে আনা হবে না।

জাহানারা আলমের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিসিবি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জমা হওয়া ওই রিপোর্টে জাহানারার অভিযুক্ত ৫ জনের মধ্যে সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মনজুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ’ এবং ‘অসংবেদনশীল ও বাজে আচরণের’ সত্যতা মেলে।

এই রিপোর্টের ফাইন্ডিংসের ওপর ভিত্তি করে বোর্ড পরিচালনা পর্ষদ মনজুরুলকে বিসিবির সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে মনজুরুল আলম এই শাস্তির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট পিটিশন দায়ের করলে বিসিবির পক্ষ থেকে মূল তদন্ত রিপোর্টটি মাননীয় আদালতের বেঞ্চে জমা দেওয়া হয়। আদালত বিস্তারিত পর্যালোচনার পর মনজুরুল ইসলামের দুটি রিটই খারিজ করে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন বলেন, ‘রিপোর্টটি গণমাধ্যমে না আসায় অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, যৌন হয়রানির তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথি সম্পূর্ণ গোপনীয়। আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনে আমরা এটি প্রদর্শন করেছি এবং ভবিষ্যতেও বিচারিক প্রয়োজন হলে আদালতকে অবহিত করা হবে, কিন্তু বিসিবি নিজ থেকে এটি প্রকাশ্যে আনবে না।’

বিসিবির এই আইনজীবী আরও জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পশ’ (POSH – Prevention of Sexual Harassment) গাইডলাইন অনুমোদন করে সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে বিসিবির ওয়েবসাইটে নারী ক্রিকেটার ও নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ জানানোর জন্য ডেডিকেটেড কমপ্লেন সেল ও প্রম্পট যুক্ত করা হয়েছে।

পাশাপাশি, ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে ভিকটিম বা অভিযোগকারী নিজে যদি আলাদা কোনো আইনি পদক্ষেপ বা ফৌজদারি মামলা নিতে চান, তবে বিসিবির পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের লজিস্টিক ও আইনি সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

 

নারী ক্রিকেট

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকার জনগণ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন: ওবামা

নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানি

‘বিসিবির তদন্ত রিপোর্ট কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না’

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অন্যতম সফল ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় এসেছে নারী ক্রিকেট দলের হাত ধরে। আট বছর আগে এশিয়ার সেরা হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন বাংলার মেয়েরা। তবে দেশজুড়ে নারী অগ্রযাত্রার এই জয়যাত্রার পাশাপাশি নারী ক্রিকেটারদের জন্য খেলার মাঠ কতটা নিরাপদ—সেই প্রশ্ন আবারও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।

নারী জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিসিবির গঠিত তদন্ত কমিটির ৭০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন ঘিরে চলমান আলোচনার মাঝেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই তদন্ত রিপোর্ট কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।

বুধবার (৪ নভেম্বর) হাইকোর্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, হাইকোর্টের নির্দেশিত ও বিসিবি গৃহীত নিজস্ব নীতিমালার আলোকেই এই তদন্ত প্রতিবেদন গোপন রাখা বাধ্যতামূলক। ভিকটিম, অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের পরিচয় সুরক্ষা এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্মান রক্ষার্থেই এই রিপোর্ট পাবলিক ডোমেইনে আনা হবে না।

জাহানারা আলমের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিসিবি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জমা হওয়া ওই রিপোর্টে জাহানারার অভিযুক্ত ৫ জনের মধ্যে সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মনজুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ’ এবং ‘অসংবেদনশীল ও বাজে আচরণের’ সত্যতা মেলে।

এই রিপোর্টের ফাইন্ডিংসের ওপর ভিত্তি করে বোর্ড পরিচালনা পর্ষদ মনজুরুলকে বিসিবির সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে মনজুরুল আলম এই শাস্তির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট পিটিশন দায়ের করলে বিসিবির পক্ষ থেকে মূল তদন্ত রিপোর্টটি মাননীয় আদালতের বেঞ্চে জমা দেওয়া হয়। আদালত বিস্তারিত পর্যালোচনার পর মনজুরুল ইসলামের দুটি রিটই খারিজ করে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন বলেন, ‘রিপোর্টটি গণমাধ্যমে না আসায় অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, যৌন হয়রানির তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথি সম্পূর্ণ গোপনীয়। আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনে আমরা এটি প্রদর্শন করেছি এবং ভবিষ্যতেও বিচারিক প্রয়োজন হলে আদালতকে অবহিত করা হবে, কিন্তু বিসিবি নিজ থেকে এটি প্রকাশ্যে আনবে না।’

বিসিবির এই আইনজীবী আরও জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পশ’ (POSH – Prevention of Sexual Harassment) গাইডলাইন অনুমোদন করে সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে বিসিবির ওয়েবসাইটে নারী ক্রিকেটার ও নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ জানানোর জন্য ডেডিকেটেড কমপ্লেন সেল ও প্রম্পট যুক্ত করা হয়েছে।

পাশাপাশি, ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে ভিকটিম বা অভিযোগকারী নিজে যদি আলাদা কোনো আইনি পদক্ষেপ বা ফৌজদারি মামলা নিতে চান, তবে বিসিবির পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের লজিস্টিক ও আইনি সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

 

নারী ক্রিকেট