ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মেসওয়াক:

শুধু দাঁত পরিষ্কার নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রিয় সুন্নত

  • Tareq Jamil
  • আপডেট সময় : ০৫:১৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৬৫ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

মানুষের বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা যেমন সুস্থতার জন্য জরুরি, তেমনি মুখের পবিত্রতা একজন মুমিনের ইবাদত ও আধ্যাত্মিক জীবনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ইসলাম পরিচ্ছন্নতাকে ইমানের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আর সেই পরিচ্ছন্নতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো মেসওয়াক।

আজ অনেকেই মেসওয়াককে শুধু দাঁত পরিষ্কারের একটি প্রাচীন উপকরণ মনে করেন। আধুনিক টুথব্রাশ ও টুথপেস্টের সহজলভ্যতার কারণে অনেক মুসলমানই এ সুন্নত থেকে দূরে সরে গেছেন। অথচ হাদিসের আলোকে স্পষ্ট হয়, মেসওয়াক কেবল মুখ পরিষ্কারের মাধ্যম নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি বরকতময় আমল, যা মহানবী (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় সুন্নতগুলোর অন্যতম।

মেসওয়াক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ

‘মেসওয়াক মুখকে পবিত্র করে এবং মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।’ (বুখারি ৮৮৭, নাসাঈ ৫, মুসনাদ আহমাদ ২৪৩০৪)

এই সংক্ষিপ্ত হাদিসেই মেসওয়াকের জাগতিক ও আধ্যাত্মিক—উভয় উপকারিতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এটি যেমন মুখের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে, তেমনি বান্দাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাছেও পৌঁছে দেয়।

মেসওয়াকের গুরুত্ব কতটুকু?

রাসুলুল্লাহ (সা.) মেসওয়াককে এতটাই গুরুত্ব দিতেন যে, উম্মতের কষ্টের আশঙ্কা না থাকলে তিনি এটিকে প্রত্যেক অজু কিংবা প্রত্যেক নামাজের সঙ্গে আবশ্যক করে দিতেন। তিনি বলেছেন—

لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ وُضُوءٍ

‘যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি তাদের প্রত্যেক অজুর সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’

অন্য বর্ণনায় এসেছে—

عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ

‘প্রত্যেক নামাজের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ বুখারি ৮৮৭, মুসলিম ২৫২)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, যদিও মেসওয়াক সুন্নত, তবুও এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। উম্মতের কষ্টের কথা বিবেচনা করেই নবীজি (সা.) এটিকে ফরজ করেননি। তাই একজন মুমিনের জীবনে এ সুন্নত কখনোই অবহেলার বিষয় হতে পারে না।

জীবনের শেষ মুহূর্তেও নবীজি (সা.)-এর প্রিয় ছিল মেসওয়াক

মেসওয়াকের গুরুত্ব সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শীভাবে ফুটে ওঠে মহানবী (সা.)-এর জীবনের শেষ মুহূর্তে। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন তাঁর কোলে শায়িত ছিলেন এবং মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তার ভাই আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) হাতে একটি মেসওয়াক নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন।

নবীজি (সা.) মেসওয়াকটির দিকে তাকিয়ে ইশারা করলেন। হজরত আয়েশা (রা.) বুঝতে পেরে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি কি মেসওয়াক করতে চান?’ তিনি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন।

হজরত আয়েশা (রা.) মেসওয়াকটি নিজের দাঁত দিয়ে নরম করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে দিলেন। তিনি অত্যন্ত যত্নসহকারে মেসওয়াক করলেন। এরপর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মহান রবের সান্নিধ্যে চলে গেলেন।’ (বুখারি ৪৪৪৯, ৮৯০, মুসলিম ২৪৪৪)

জীবনের শেষ মুহূর্তেও মেসওয়াকের প্রতি নবীজি (সা.)-এর এই গভীর আগ্রহ একজন মুমিনের কাছে এ সুন্নতের গুরুত্ব স্পষ্ট করে দেয়।

কখন কখন মেসওয়াক করা সুন্নত?

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন থেকে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে মেসওয়াক করা বিশেষভাবে সুন্নত—

১. অজুর সময়

অজুর শুরুতে দুই হাতের কবজি ধোয়ার পর এবং কুলি করার আগে মেসওয়াক করা উত্তম।

২. প্রত্যেক নামাজের আগে

প্রত্যেক ফরজ ও নফল নামাজের পূর্বে মেসওয়াক করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সুন্নত।

৩. ঘরে প্রবেশের সময়

হজরত আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে প্রবেশ করে প্রথম কী করতেন?

তিনি বলেন—

كَانَ إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ بَدَأَ بِالسِّوَاكِ

‘তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, সর্বপ্রথম মেসওয়াক করতেন।’ (মুসলিম ২৫৩)

৪. জুমার দিন

জুমার দিনের বিশেষ সুন্নতগুলোর মধ্যে মেসওয়াক অন্যতম। গোসল, সুগন্ধি ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে এ সুন্নতও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা উচিত।

৫. ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে জেগে মেসওয়াক করতেন। এটি দিনের সূচনাকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্নাহসম্মত করে।

৬. কুরআন তিলাওয়াতের আগে

কুরআন তিলাওয়াতের পূর্বে মুখ পবিত্র করার জন্য মেসওয়াক করা উত্তম। আল্লাহর কালাম পাঠের আগে মুখ পরিচ্ছন্ন রাখা আদবের অন্তর্ভুক্ত।

কিছু বর্ণনায় এসেছে, মেসওয়াক করে কুরআন তিলাওয়াত করলে ফেরেশতারা সেই তিলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তবে এ বর্ণনার সনদ দুর্বল হওয়ায় এটিকে ফজিলতের নির্ভরযোগ্য দলিল হিসেবে নয়, বরং উৎসাহমূলক বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

মানুষের বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা যেমন সুস্থতার জন্য জরুরি, তেমনি মুখের পবিত্রতা একজন মুমিনের ইবাদত ও আধ্যাত্মিক জীবনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ইসলাম পরিচ্ছন্নতাকে ইমানের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আর সেই পরিচ্ছন্নতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো মেসওয়াক।

আজ অনেকেই মেসওয়াককে শুধু দাঁত পরিষ্কারের একটি প্রাচীন উপকরণ মনে করেন। আধুনিক টুথব্রাশ ও টুথপেস্টের সহজলভ্যতার কারণে অনেক মুসলমানই এ সুন্নত থেকে দূরে সরে গেছেন। অথচ হাদিসের আলোকে স্পষ্ট হয়, মেসওয়াক কেবল মুখ পরিষ্কারের মাধ্যম নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি বরকতময় আমল, যা মহানবী (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় সুন্নতগুলোর অন্যতম।

মেসওয়াক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ

‘মেসওয়াক মুখকে পবিত্র করে এবং মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।’ (বুখারি ৮৮৭, নাসাঈ ৫, মুসনাদ আহমাদ ২৪৩০৪)

এই সংক্ষিপ্ত হাদিসেই মেসওয়াকের জাগতিক ও আধ্যাত্মিক—উভয় উপকারিতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এটি যেমন মুখের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে, তেমনি বান্দাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাছেও পৌঁছে দেয়।

মেসওয়াকের গুরুত্ব কতটুকু?

রাসুলুল্লাহ (সা.) মেসওয়াককে এতটাই গুরুত্ব দিতেন যে, উম্মতের কষ্টের আশঙ্কা না থাকলে তিনি এটিকে প্রত্যেক অজু কিংবা প্রত্যেক নামাজের সঙ্গে আবশ্যক করে দিতেন। তিনি বলেছেন—

لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ وُضُوءٍ

‘যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি তাদের প্রত্যেক অজুর সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’

অন্য বর্ণনায় এসেছে—

عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ

‘প্রত্যেক নামাজের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ বুখারি ৮৮৭, মুসলিম ২৫২)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, যদিও মেসওয়াক সুন্নত, তবুও এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। উম্মতের কষ্টের কথা বিবেচনা করেই নবীজি (সা.) এটিকে ফরজ করেননি। তাই একজন মুমিনের জীবনে এ সুন্নত কখনোই অবহেলার বিষয় হতে পারে না।

জীবনের শেষ মুহূর্তেও নবীজি (সা.)-এর প্রিয় ছিল মেসওয়াক

মেসওয়াকের গুরুত্ব সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শীভাবে ফুটে ওঠে মহানবী (সা.)-এর জীবনের শেষ মুহূর্তে। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন তাঁর কোলে শায়িত ছিলেন এবং মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তার ভাই আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) হাতে একটি মেসওয়াক নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন।

নবীজি (সা.) মেসওয়াকটির দিকে তাকিয়ে ইশারা করলেন। হজরত আয়েশা (রা.) বুঝতে পেরে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি কি মেসওয়াক করতে চান?’ তিনি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন।

হজরত আয়েশা (রা.) মেসওয়াকটি নিজের দাঁত দিয়ে নরম করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে দিলেন। তিনি অত্যন্ত যত্নসহকারে মেসওয়াক করলেন। এরপর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মহান রবের সান্নিধ্যে চলে গেলেন।’ (বুখারি ৪৪৪৯, ৮৯০, মুসলিম ২৪৪৪)

জীবনের শেষ মুহূর্তেও মেসওয়াকের প্রতি নবীজি (সা.)-এর এই গভীর আগ্রহ একজন মুমিনের কাছে এ সুন্নতের গুরুত্ব স্পষ্ট করে দেয়।

কখন কখন মেসওয়াক করা সুন্নত?

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন থেকে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে মেসওয়াক করা বিশেষভাবে সুন্নত—

১. অজুর সময়

অজুর শুরুতে দুই হাতের কবজি ধোয়ার পর এবং কুলি করার আগে মেসওয়াক করা উত্তম।

২. প্রত্যেক নামাজের আগে

প্রত্যেক ফরজ ও নফল নামাজের পূর্বে মেসওয়াক করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সুন্নত।

৩. ঘরে প্রবেশের সময়

হজরত আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে প্রবেশ করে প্রথম কী করতেন?

তিনি বলেন—

كَانَ إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ بَدَأَ بِالسِّوَاكِ

‘তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, সর্বপ্রথম মেসওয়াক করতেন।’ (মুসলিম ২৫৩)

৪. জুমার দিন

জুমার দিনের বিশেষ সুন্নতগুলোর মধ্যে মেসওয়াক অন্যতম। গোসল, সুগন্ধি ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে এ সুন্নতও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা উচিত।

৫. ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে জেগে মেসওয়াক করতেন। এটি দিনের সূচনাকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্নাহসম্মত করে।

৬. কুরআন তিলাওয়াতের আগে

কুরআন তিলাওয়াতের পূর্বে মুখ পবিত্র করার জন্য মেসওয়াক করা উত্তম। আল্লাহর কালাম পাঠের আগে মুখ পরিচ্ছন্ন রাখা আদবের অন্তর্ভুক্ত।

কিছু বর্ণনায় এসেছে, মেসওয়াক করে কুরআন তিলাওয়াত করলে ফেরেশতারা সেই তিলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তবে এ বর্ণনার সনদ দুর্বল হওয়ায় এটিকে ফজিলতের নির্ভরযোগ্য দলিল হিসেবে নয়, বরং উৎসাহমূলক বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

মেসওয়াক:

শুধু দাঁত পরিষ্কার নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রিয় সুন্নত

আপডেট সময় : ০৫:১৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

মানুষের বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা যেমন সুস্থতার জন্য জরুরি, তেমনি মুখের পবিত্রতা একজন মুমিনের ইবাদত ও আধ্যাত্মিক জীবনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ইসলাম পরিচ্ছন্নতাকে ইমানের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আর সেই পরিচ্ছন্নতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো মেসওয়াক।

আজ অনেকেই মেসওয়াককে শুধু দাঁত পরিষ্কারের একটি প্রাচীন উপকরণ মনে করেন। আধুনিক টুথব্রাশ ও টুথপেস্টের সহজলভ্যতার কারণে অনেক মুসলমানই এ সুন্নত থেকে দূরে সরে গেছেন। অথচ হাদিসের আলোকে স্পষ্ট হয়, মেসওয়াক কেবল মুখ পরিষ্কারের মাধ্যম নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি বরকতময় আমল, যা মহানবী (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় সুন্নতগুলোর অন্যতম।

মেসওয়াক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ

‘মেসওয়াক মুখকে পবিত্র করে এবং মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।’ (বুখারি ৮৮৭, নাসাঈ ৫, মুসনাদ আহমাদ ২৪৩০৪)

এই সংক্ষিপ্ত হাদিসেই মেসওয়াকের জাগতিক ও আধ্যাত্মিক—উভয় উপকারিতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এটি যেমন মুখের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে, তেমনি বান্দাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাছেও পৌঁছে দেয়।

মেসওয়াকের গুরুত্ব কতটুকু?

রাসুলুল্লাহ (সা.) মেসওয়াককে এতটাই গুরুত্ব দিতেন যে, উম্মতের কষ্টের আশঙ্কা না থাকলে তিনি এটিকে প্রত্যেক অজু কিংবা প্রত্যেক নামাজের সঙ্গে আবশ্যক করে দিতেন। তিনি বলেছেন—

لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ وُضُوءٍ

‘যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি তাদের প্রত্যেক অজুর সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’

অন্য বর্ণনায় এসেছে—

عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ

‘প্রত্যেক নামাজের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ বুখারি ৮৮৭, মুসলিম ২৫২)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, যদিও মেসওয়াক সুন্নত, তবুও এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। উম্মতের কষ্টের কথা বিবেচনা করেই নবীজি (সা.) এটিকে ফরজ করেননি। তাই একজন মুমিনের জীবনে এ সুন্নত কখনোই অবহেলার বিষয় হতে পারে না।

জীবনের শেষ মুহূর্তেও নবীজি (সা.)-এর প্রিয় ছিল মেসওয়াক

মেসওয়াকের গুরুত্ব সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শীভাবে ফুটে ওঠে মহানবী (সা.)-এর জীবনের শেষ মুহূর্তে। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন তাঁর কোলে শায়িত ছিলেন এবং মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তার ভাই আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) হাতে একটি মেসওয়াক নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন।

নবীজি (সা.) মেসওয়াকটির দিকে তাকিয়ে ইশারা করলেন। হজরত আয়েশা (রা.) বুঝতে পেরে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি কি মেসওয়াক করতে চান?’ তিনি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন।

হজরত আয়েশা (রা.) মেসওয়াকটি নিজের দাঁত দিয়ে নরম করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে দিলেন। তিনি অত্যন্ত যত্নসহকারে মেসওয়াক করলেন। এরপর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মহান রবের সান্নিধ্যে চলে গেলেন।’ (বুখারি ৪৪৪৯, ৮৯০, মুসলিম ২৪৪৪)

জীবনের শেষ মুহূর্তেও মেসওয়াকের প্রতি নবীজি (সা.)-এর এই গভীর আগ্রহ একজন মুমিনের কাছে এ সুন্নতের গুরুত্ব স্পষ্ট করে দেয়।

কখন কখন মেসওয়াক করা সুন্নত?

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন থেকে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে মেসওয়াক করা বিশেষভাবে সুন্নত—

১. অজুর সময়

অজুর শুরুতে দুই হাতের কবজি ধোয়ার পর এবং কুলি করার আগে মেসওয়াক করা উত্তম।

২. প্রত্যেক নামাজের আগে

প্রত্যেক ফরজ ও নফল নামাজের পূর্বে মেসওয়াক করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সুন্নত।

৩. ঘরে প্রবেশের সময়

হজরত আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে প্রবেশ করে প্রথম কী করতেন?

তিনি বলেন—

كَانَ إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ بَدَأَ بِالسِّوَاكِ

‘তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, সর্বপ্রথম মেসওয়াক করতেন।’ (মুসলিম ২৫৩)

৪. জুমার দিন

জুমার দিনের বিশেষ সুন্নতগুলোর মধ্যে মেসওয়াক অন্যতম। গোসল, সুগন্ধি ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে এ সুন্নতও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা উচিত।

৫. ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে জেগে মেসওয়াক করতেন। এটি দিনের সূচনাকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্নাহসম্মত করে।

৬. কুরআন তিলাওয়াতের আগে

কুরআন তিলাওয়াতের পূর্বে মুখ পবিত্র করার জন্য মেসওয়াক করা উত্তম। আল্লাহর কালাম পাঠের আগে মুখ পরিচ্ছন্ন রাখা আদবের অন্তর্ভুক্ত।

কিছু বর্ণনায় এসেছে, মেসওয়াক করে কুরআন তিলাওয়াত করলে ফেরেশতারা সেই তিলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তবে এ বর্ণনার সনদ দুর্বল হওয়ায় এটিকে ফজিলতের নির্ভরযোগ্য দলিল হিসেবে নয়, বরং উৎসাহমূলক বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

মানুষের বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা যেমন সুস্থতার জন্য জরুরি, তেমনি মুখের পবিত্রতা একজন মুমিনের ইবাদত ও আধ্যাত্মিক জীবনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ইসলাম পরিচ্ছন্নতাকে ইমানের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আর সেই পরিচ্ছন্নতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো মেসওয়াক।

আজ অনেকেই মেসওয়াককে শুধু দাঁত পরিষ্কারের একটি প্রাচীন উপকরণ মনে করেন। আধুনিক টুথব্রাশ ও টুথপেস্টের সহজলভ্যতার কারণে অনেক মুসলমানই এ সুন্নত থেকে দূরে সরে গেছেন। অথচ হাদিসের আলোকে স্পষ্ট হয়, মেসওয়াক কেবল মুখ পরিষ্কারের মাধ্যম নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি বরকতময় আমল, যা মহানবী (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় সুন্নতগুলোর অন্যতম।

মেসওয়াক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ

‘মেসওয়াক মুখকে পবিত্র করে এবং মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।’ (বুখারি ৮৮৭, নাসাঈ ৫, মুসনাদ আহমাদ ২৪৩০৪)

এই সংক্ষিপ্ত হাদিসেই মেসওয়াকের জাগতিক ও আধ্যাত্মিক—উভয় উপকারিতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এটি যেমন মুখের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে, তেমনি বান্দাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাছেও পৌঁছে দেয়।

মেসওয়াকের গুরুত্ব কতটুকু?

রাসুলুল্লাহ (সা.) মেসওয়াককে এতটাই গুরুত্ব দিতেন যে, উম্মতের কষ্টের আশঙ্কা না থাকলে তিনি এটিকে প্রত্যেক অজু কিংবা প্রত্যেক নামাজের সঙ্গে আবশ্যক করে দিতেন। তিনি বলেছেন—

لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ وُضُوءٍ

‘যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি তাদের প্রত্যেক অজুর সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’

অন্য বর্ণনায় এসেছে—

عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ

‘প্রত্যেক নামাজের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ বুখারি ৮৮৭, মুসলিম ২৫২)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, যদিও মেসওয়াক সুন্নত, তবুও এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। উম্মতের কষ্টের কথা বিবেচনা করেই নবীজি (সা.) এটিকে ফরজ করেননি। তাই একজন মুমিনের জীবনে এ সুন্নত কখনোই অবহেলার বিষয় হতে পারে না।

জীবনের শেষ মুহূর্তেও নবীজি (সা.)-এর প্রিয় ছিল মেসওয়াক

মেসওয়াকের গুরুত্ব সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শীভাবে ফুটে ওঠে মহানবী (সা.)-এর জীবনের শেষ মুহূর্তে। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন তাঁর কোলে শায়িত ছিলেন এবং মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তার ভাই আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) হাতে একটি মেসওয়াক নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন।

নবীজি (সা.) মেসওয়াকটির দিকে তাকিয়ে ইশারা করলেন। হজরত আয়েশা (রা.) বুঝতে পেরে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি কি মেসওয়াক করতে চান?’ তিনি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন।

হজরত আয়েশা (রা.) মেসওয়াকটি নিজের দাঁত দিয়ে নরম করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে দিলেন। তিনি অত্যন্ত যত্নসহকারে মেসওয়াক করলেন। এরপর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মহান রবের সান্নিধ্যে চলে গেলেন।’ (বুখারি ৪৪৪৯, ৮৯০, মুসলিম ২৪৪৪)

জীবনের শেষ মুহূর্তেও মেসওয়াকের প্রতি নবীজি (সা.)-এর এই গভীর আগ্রহ একজন মুমিনের কাছে এ সুন্নতের গুরুত্ব স্পষ্ট করে দেয়।

কখন কখন মেসওয়াক করা সুন্নত?

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন থেকে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে মেসওয়াক করা বিশেষভাবে সুন্নত—

১. অজুর সময়

অজুর শুরুতে দুই হাতের কবজি ধোয়ার পর এবং কুলি করার আগে মেসওয়াক করা উত্তম।

২. প্রত্যেক নামাজের আগে

প্রত্যেক ফরজ ও নফল নামাজের পূর্বে মেসওয়াক করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সুন্নত।

৩. ঘরে প্রবেশের সময়

হজরত আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে প্রবেশ করে প্রথম কী করতেন?

তিনি বলেন—

كَانَ إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ بَدَأَ بِالسِّوَاكِ

‘তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, সর্বপ্রথম মেসওয়াক করতেন।’ (মুসলিম ২৫৩)

৪. জুমার দিন

জুমার দিনের বিশেষ সুন্নতগুলোর মধ্যে মেসওয়াক অন্যতম। গোসল, সুগন্ধি ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে এ সুন্নতও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা উচিত।

৫. ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে জেগে মেসওয়াক করতেন। এটি দিনের সূচনাকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্নাহসম্মত করে।

৬. কুরআন তিলাওয়াতের আগে

কুরআন তিলাওয়াতের পূর্বে মুখ পবিত্র করার জন্য মেসওয়াক করা উত্তম। আল্লাহর কালাম পাঠের আগে মুখ পরিচ্ছন্ন রাখা আদবের অন্তর্ভুক্ত।

কিছু বর্ণনায় এসেছে, মেসওয়াক করে কুরআন তিলাওয়াত করলে ফেরেশতারা সেই তিলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তবে এ বর্ণনার সনদ দুর্বল হওয়ায় এটিকে ফজিলতের নির্ভরযোগ্য দলিল হিসেবে নয়, বরং উৎসাহমূলক বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।