ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রী পরকীয়া থেকে ফিরে এলে তার সঙ্গে কি সংসার করা জায়েজ?

  • Tareq Jamil
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৪৬ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান সময়ে এক মহামারি আকার ধারণ করেছে পরকীয়া। বিবাহবহির্ভূত এমন অবৈধ সম্পর্কের কারণে সংসারে অশান্তি-ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে। পুরুষ-নারী উভয়কেই পরকীয়ায় লিপ্ত হতে দেখা যাচ্ছে। 

বিশেষ করে জীবন-জীবিকার তাগিদে অনেক মানুষ স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের জন্য পরিবার থেকে দূরে প্রবাসে থাকেন। ফলে অনেক সময় তাদের স্ত্রী পরকীয়া, অবৈধ সম্পর্ক ও যেনা-ব্যভিচারে জড়িত হয়ে পড়েন। স্ত্রী যদি পরকীয়ায় লিপ্ত হয় এবং পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তওবা করে তবে কি তার সঙ্গে সংসার করা জায়েজ?

সম্প্রতি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহর কাছে এক ব্যক্তি এমন প্রশ্ন রাখেন।

জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, পরকীয়া বা ব্যভিচারের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার আগের বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায় না। তওবা করার পর নতুন করে বিয়ে পড়ানোরও প্রয়োজন নেই, আগের বিয়েটিই বহাল থাকে।

তিনি বলেন, স্ত্রীকে অবশ্যই আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে তওবা করতে হবে। খাঁটি তওবার শর্তগুলো হলো—পাপটির জন্য অনুতপ্ত হওয়া, অবিলম্বে সেই কাজ চিরতরে ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আর কখনো এমন না করার দৃঢ় সংকল্প করা।

তিনি আরও বলেন, সংসার চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একান্তই স্বামীর ব্যক্তিগত ব্যাপার। যদি স্বামী মনে করেন যে, তিনি ক্ষমা করে অতীত ভুলে স্ত্রীকে নিয়ে নতুন করে সুন্দর সংসার করতে পারবেন, তবে তিনি তা করতে পারেন।

 

আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলামে বান্দার পাপ গোপন রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। স্ত্রীর এই পাপের কথা জনসমক্ষে না এনে দুজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উত্তম।

তবে যদি স্বামী মনে করেন যে, তার পক্ষে এই বিশ্বাসভঙ্গ মেনে নিয়ে সংসার করা সম্ভব নয় এবং দাম্পত্য জীবন স্থায়ী অশান্তিতে রূপ নেবে, তবে শরীয়ত তাকে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার বা আলাদা হয়ে যাওয়ার অনুমতিও দিয়েছে। কিন্তু প্রথমবার সে ভুল করেছেন এবং তওবা করেছেন তাহলে তাকে মাফ করে দেওয়া উচিত হবে।

পরকীয়া   শায়খ আহমাদুল্লাহ

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাউস অব লর্ডসের সদস্য হলেন লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র সাদিক খান

স্ত্রী পরকীয়া থেকে ফিরে এলে তার সঙ্গে কি সংসার করা জায়েজ?

আপডেট সময় : ০৪:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বর্তমান সময়ে এক মহামারি আকার ধারণ করেছে পরকীয়া। বিবাহবহির্ভূত এমন অবৈধ সম্পর্কের কারণে সংসারে অশান্তি-ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে। পুরুষ-নারী উভয়কেই পরকীয়ায় লিপ্ত হতে দেখা যাচ্ছে। 

বিশেষ করে জীবন-জীবিকার তাগিদে অনেক মানুষ স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের জন্য পরিবার থেকে দূরে প্রবাসে থাকেন। ফলে অনেক সময় তাদের স্ত্রী পরকীয়া, অবৈধ সম্পর্ক ও যেনা-ব্যভিচারে জড়িত হয়ে পড়েন। স্ত্রী যদি পরকীয়ায় লিপ্ত হয় এবং পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তওবা করে তবে কি তার সঙ্গে সংসার করা জায়েজ?

সম্প্রতি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহর কাছে এক ব্যক্তি এমন প্রশ্ন রাখেন।

জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, পরকীয়া বা ব্যভিচারের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার আগের বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায় না। তওবা করার পর নতুন করে বিয়ে পড়ানোরও প্রয়োজন নেই, আগের বিয়েটিই বহাল থাকে।

তিনি বলেন, স্ত্রীকে অবশ্যই আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে তওবা করতে হবে। খাঁটি তওবার শর্তগুলো হলো—পাপটির জন্য অনুতপ্ত হওয়া, অবিলম্বে সেই কাজ চিরতরে ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আর কখনো এমন না করার দৃঢ় সংকল্প করা।

তিনি আরও বলেন, সংসার চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একান্তই স্বামীর ব্যক্তিগত ব্যাপার। যদি স্বামী মনে করেন যে, তিনি ক্ষমা করে অতীত ভুলে স্ত্রীকে নিয়ে নতুন করে সুন্দর সংসার করতে পারবেন, তবে তিনি তা করতে পারেন।

 

আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলামে বান্দার পাপ গোপন রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। স্ত্রীর এই পাপের কথা জনসমক্ষে না এনে দুজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উত্তম।

তবে যদি স্বামী মনে করেন যে, তার পক্ষে এই বিশ্বাসভঙ্গ মেনে নিয়ে সংসার করা সম্ভব নয় এবং দাম্পত্য জীবন স্থায়ী অশান্তিতে রূপ নেবে, তবে শরীয়ত তাকে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার বা আলাদা হয়ে যাওয়ার অনুমতিও দিয়েছে। কিন্তু প্রথমবার সে ভুল করেছেন এবং তওবা করেছেন তাহলে তাকে মাফ করে দেওয়া উচিত হবে।

পরকীয়া   শায়খ আহমাদুল্লাহ