ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রী শর্ত ভঙ্গ করলে ‘বিনা তালাকে’ কি তালাক হয়ে যাবে?

  • Tareq Jamil
  • আপডেট সময় : ১১:২৬:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২২৯ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

বিবাহ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটি মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। এর মাধ্যমে মানুষের জীবনে মানসিক প্রশান্তি, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। তবে কখনও কখনও দাম্পত্য জীবনে হতাশা ও অস্থিরতা দেখা দেয়। স্বামী-স্ত্রীর যে সুন্দর সম্পর্ক থাকার কথা, নানা কারণে তা আর স্বাভাবিক থাকে না।

ইসলামি শরিয়তে দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি ঘটানোর জন্য তালাকের বিধান রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে তালাক না দিয়ে ধৈর্য ধারণ এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, বৈধ বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে অপছন্দনীয় বিষয় হলো তালাক। (আবু দাউদ: ২১৭৮)

তবে ধৈর্য ধারণের পরও যদি স্ত্রী অবাধ্য থেকে যায় এবং দাম্পত্য জীবনের সমস্যা সমাধানের কোনো পথ না থাকে, তখন তালাক দেওয়ার অনুমতি রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে এক ব্যক্তি জানতে চেয়েছেন, তিনি তার স্ত্রীকে শ্যালিকার বাসায় যেতে নিষেধ করেছেন। কারণ, তার ভাষ্য অনুযায়ী, শ্যালিকার স্বামীর চরিত্র খারাপ। স্ত্রীকে ওই বাসায় যেতে নিষেধ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, তুমি যদি আমার অনুমতি ছাড়া তাদের বাসায় যাও, তাহলে বিনা তালাকে তুমি তালাক। তিনি এ কথা দুবার বলেছেন। এখন পর্যন্ত তার স্ত্রী ওই বাসায় যাননি। কিন্তু বর্তমানে তিনি সেখানে যেতে চাইছেন। এ অবস্থায় কী করণীয়?

 

জবাব

এ বিষয়ে বিধান হলো, স্বামী যেহেতু তালাকের বিষয়টিকে স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে ওই বাসায় যাওয়ার সঙ্গে শর্তযুক্ত করেছেন, তাই তার অনুমতি ছাড়া স্ত্রী সেখানে গেলে তালাক পতিত হবে। তবে স্বামীর অনুমতি নিয়ে সেখানে গেলে তালাক পতিত হবে না।

এ ক্ষেত্রে স্বামী চাইলে ভবিষ্যতের জন্য স্ত্রীকে ব্যাপকভাবে অনুমতি দিয়ে দিতে পারেন। যেমন তিনি বলতে পারেন, তোমাকে সব সময়ের জন্য সেখানে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে রাখলাম। এভাবে ব্যাপক অনুমতি দেওয়ার পর স্ত্রী প্রতিবার স্বামীর কাছ থেকে নতুন করে অনুমতি না নিয়েও ওই বাসায় যেতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আগের শর্তের কারণে তার ওপর আর তালাক পতিত হবে না।

 

প্রকাশ থাকে, তালাক স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্নকারী একটি চূড়ান্ত পদক্ষেপ। দাম্পত্য জীবনের সমস্যা একেবারে জটিল হয়ে পড়লে এবং তা নিরসনের অন্য কোনো উপায় না থাকলে তালাক সর্বশেষ পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই কোনো বিষয় বা ঘটনাকে কেন্দ্র করে তালাক দেওয়া কিংবা তালাকের শর্ত জুড়ে দেওয়া অনুচিত ও গোনাহের কাজ। মুসলমানদের এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

* كتاب >الأصل< للشيباني ৯/৪৭৮: قلت: أرأيت إن قال لها: إن دخلت دار أبيك إلا بإذني، فأذن لها، فدخلت، ثم دخلت مرة بغير إذنه، أيحنث؟ قال: نعم. قلت: فكيف الوجه في ذلك حتى تدخل الدار كلما شاءت، ولا تستأمر ولا يحنث؟ قال: يقول لها الزوج: قد أذنت لك في دخول هذه الدار كلما شئت، فتدخل كلما شاءت، ولا يحنث الزوج.

—তুহফাতুল ফুকাহা ২/৩০৭; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৭০; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/১০৩; আসসিরাজুল ওয়াহ্হাজ ১২/১৩৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৩৯

 

 

বিয়ে   তালাক   ইসলাম ধর্ম

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাউস অব লর্ডসের সদস্য হলেন লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র সাদিক খান

স্ত্রী শর্ত ভঙ্গ করলে ‘বিনা তালাকে’ কি তালাক হয়ে যাবে?

আপডেট সময় : ১১:২৬:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিবাহ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটি মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। এর মাধ্যমে মানুষের জীবনে মানসিক প্রশান্তি, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। তবে কখনও কখনও দাম্পত্য জীবনে হতাশা ও অস্থিরতা দেখা দেয়। স্বামী-স্ত্রীর যে সুন্দর সম্পর্ক থাকার কথা, নানা কারণে তা আর স্বাভাবিক থাকে না।

ইসলামি শরিয়তে দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি ঘটানোর জন্য তালাকের বিধান রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে তালাক না দিয়ে ধৈর্য ধারণ এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, বৈধ বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে অপছন্দনীয় বিষয় হলো তালাক। (আবু দাউদ: ২১৭৮)

তবে ধৈর্য ধারণের পরও যদি স্ত্রী অবাধ্য থেকে যায় এবং দাম্পত্য জীবনের সমস্যা সমাধানের কোনো পথ না থাকে, তখন তালাক দেওয়ার অনুমতি রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে এক ব্যক্তি জানতে চেয়েছেন, তিনি তার স্ত্রীকে শ্যালিকার বাসায় যেতে নিষেধ করেছেন। কারণ, তার ভাষ্য অনুযায়ী, শ্যালিকার স্বামীর চরিত্র খারাপ। স্ত্রীকে ওই বাসায় যেতে নিষেধ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, তুমি যদি আমার অনুমতি ছাড়া তাদের বাসায় যাও, তাহলে বিনা তালাকে তুমি তালাক। তিনি এ কথা দুবার বলেছেন। এখন পর্যন্ত তার স্ত্রী ওই বাসায় যাননি। কিন্তু বর্তমানে তিনি সেখানে যেতে চাইছেন। এ অবস্থায় কী করণীয়?

 

জবাব

এ বিষয়ে বিধান হলো, স্বামী যেহেতু তালাকের বিষয়টিকে স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে ওই বাসায় যাওয়ার সঙ্গে শর্তযুক্ত করেছেন, তাই তার অনুমতি ছাড়া স্ত্রী সেখানে গেলে তালাক পতিত হবে। তবে স্বামীর অনুমতি নিয়ে সেখানে গেলে তালাক পতিত হবে না।

এ ক্ষেত্রে স্বামী চাইলে ভবিষ্যতের জন্য স্ত্রীকে ব্যাপকভাবে অনুমতি দিয়ে দিতে পারেন। যেমন তিনি বলতে পারেন, তোমাকে সব সময়ের জন্য সেখানে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে রাখলাম। এভাবে ব্যাপক অনুমতি দেওয়ার পর স্ত্রী প্রতিবার স্বামীর কাছ থেকে নতুন করে অনুমতি না নিয়েও ওই বাসায় যেতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আগের শর্তের কারণে তার ওপর আর তালাক পতিত হবে না।

 

প্রকাশ থাকে, তালাক স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্নকারী একটি চূড়ান্ত পদক্ষেপ। দাম্পত্য জীবনের সমস্যা একেবারে জটিল হয়ে পড়লে এবং তা নিরসনের অন্য কোনো উপায় না থাকলে তালাক সর্বশেষ পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই কোনো বিষয় বা ঘটনাকে কেন্দ্র করে তালাক দেওয়া কিংবা তালাকের শর্ত জুড়ে দেওয়া অনুচিত ও গোনাহের কাজ। মুসলমানদের এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

* كتاب >الأصل< للشيباني ৯/৪৭৮: قلت: أرأيت إن قال لها: إن دخلت دار أبيك إلا بإذني، فأذن لها، فدخلت، ثم دخلت مرة بغير إذنه، أيحنث؟ قال: نعم. قلت: فكيف الوجه في ذلك حتى تدخل الدار كلما شاءت، ولا تستأمر ولا يحنث؟ قال: يقول لها الزوج: قد أذنت لك في دخول هذه الدار كلما شئت، فتدخل كلما شاءت، ولا يحنث الزوج.

—তুহফাতুল ফুকাহা ২/৩০৭; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৭০; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/১০৩; আসসিরাজুল ওয়াহ্হাজ ১২/১৩৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৩৯

 

 

বিয়ে   তালাক   ইসলাম ধর্ম