ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে বাফুফে সহ-সভাপতি হ্যাপি চৌধুরীকে সংবর্ধনা

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নবনির্বাচিত সহ সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপিকে লক্ষ্মীপুরে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২ নভেম্বর) বিকেলে জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন ও সম্মিলিত ক্রীড়া সংগঠনের ব্যানারে লক্ষ্মীপুর টাউন হল মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ক্রীড়াবিদ মুহাম্মদ আবুল মোবারক ভূঁইয়া। তিনি হ্যাপি চৌধুরীর শিক্ষক। সংবর্ধনা স্থলে হ্যাপি চৌধুরী তার শিক্ষকের পা ছুঁয়ে সালাম করেন ও জড়িয়ে ধরে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।
জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এডভোকেট মহসিন কবির স্বপনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জেপি দেওয়ান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, যুগ্ম-আহবায়ক এডভোকেট হাছিবুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন চৌধুরী কামরু, সাবেক সহ-সভাপতি শংকর মজুমদার, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আবদুর রব শামিম, লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা যুবদলের আহবায়ক রেজাউল করিম লিটন, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির জুয়েল, জেলা কৃষকদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল প্রমুখ।
এসময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সদস্য সোহেল আদনান, লক্ষ্মীপুর কলেজ রোড ক্রীড়া সংঘের সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাজু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল খালেদসহ জেলার বিভিন্ন ক্লাবের সভাপতি-সম্পাদক ও খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন।
লক্ষ্মীপুর জেলার প্রাক্তন ফুটবলারদের স্মরণ করে সংবর্ধিত অতিথি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি বলেন, এক সময় স্কুল ফাঁকি দিয়ে আমরা ফুটবল খেলা দেখতাম। কিন্তুকে আজকে সেই খেলা হারিয়ে গেছে। শুধু লক্ষ্মীপুর নয় সারা বাংলাদেশ থেকেই হারিয়ে গেছে। ক্লাবগুলোকে খেলোয়াড় গড়ার প্রতিষ্ঠান হিসেবে তৈরি করতে হবে। আমি রাইজিং ক্লাবের কোচকে একসময় বলেছিলাম, একসময় তোমার ক্লাব খেলোয়ার গড়ার প্রতিষ্ঠান হবে। সেই খেলোয়ার সারাদেশের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলবে, বিক্রি হবে। আজ সেই সময় ও সেই সুযোগ এসেছে। খেলোয়ার গড়ার জন্য আমি আপনাদেরকে সকল ধরণের সহযোগীতা করবো। জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে ইন্টারস্কুল খেলা হচ্ছে না। জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আপনি সেইদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখবেন। একই সঙ্গে প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ইন্টারস্কুল টুর্নামেন্ট খেলা বাধ্যতামূলক করে দেবেন। মাদকসহ সকল ধরণের খারাপ অভ্যাস থেকে বর্তমান ও আগামি প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করুন। ঢাকার ক্লাবগুলোর সঙ্গে লক্ষ্মীপুরের খেলোয়াড়দের যোগসূত্র তৈরি করার অঙ্গীকার করছি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার বলেন, খেলাধূলা হচ্ছে প্রতিষেধক। আমাদের সমাজে বিভিন্ন ব্যাধি আছে। আমরা যেমন রোগ হলে চিকিৎসকের কাছে যাই। বিশেষ করে তরুণরা যদি সেই সামাজিক ব্যাধিগুলোতে আক্রান্ত হয়। আমরা দেখি তাদের মধ্যে বিষন্নতা থাকে, হতাশা থাকে, অপরাধ প্রবণতা থাকে, মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন সমস্যা থাকে। সবচেয়ে অত্যাধুনিক সমস্যা হচ্ছে স্মার্ট ফোন। যা ধারা আমরা সবাই আক্রান্ত। অনেক সময় সন্তানদের ওপর অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এমন একটি অপসংস্কৃতি আমাদেরকে ঘিরে রেখেছে। এ জায়গা থেকে আমাদেরকে যদি আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে বাঁচাতে চাই অবশ্যই খেলাধুলাসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রতিযোগীতায় জোর দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, হ্যাপি চৌধুরী লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সমসেরাবাদ এলাকার বাসিন্দা ও অভিক সংঘ ক্লাবের চেয়ারম্যান।
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

লক্ষ্মীপুরে বাফুফে সহ-সভাপতি হ্যাপি চৌধুরীকে সংবর্ধনা

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ নভেম্বর ২০২৪
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নবনির্বাচিত সহ সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপিকে লক্ষ্মীপুরে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২ নভেম্বর) বিকেলে জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন ও সম্মিলিত ক্রীড়া সংগঠনের ব্যানারে লক্ষ্মীপুর টাউন হল মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ক্রীড়াবিদ মুহাম্মদ আবুল মোবারক ভূঁইয়া। তিনি হ্যাপি চৌধুরীর শিক্ষক। সংবর্ধনা স্থলে হ্যাপি চৌধুরী তার শিক্ষকের পা ছুঁয়ে সালাম করেন ও জড়িয়ে ধরে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।
জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এডভোকেট মহসিন কবির স্বপনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জেপি দেওয়ান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, যুগ্ম-আহবায়ক এডভোকেট হাছিবুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন চৌধুরী কামরু, সাবেক সহ-সভাপতি শংকর মজুমদার, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আবদুর রব শামিম, লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা যুবদলের আহবায়ক রেজাউল করিম লিটন, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির জুয়েল, জেলা কৃষকদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল প্রমুখ।
এসময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সদস্য সোহেল আদনান, লক্ষ্মীপুর কলেজ রোড ক্রীড়া সংঘের সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাজু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল খালেদসহ জেলার বিভিন্ন ক্লাবের সভাপতি-সম্পাদক ও খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন।
লক্ষ্মীপুর জেলার প্রাক্তন ফুটবলারদের স্মরণ করে সংবর্ধিত অতিথি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি বলেন, এক সময় স্কুল ফাঁকি দিয়ে আমরা ফুটবল খেলা দেখতাম। কিন্তুকে আজকে সেই খেলা হারিয়ে গেছে। শুধু লক্ষ্মীপুর নয় সারা বাংলাদেশ থেকেই হারিয়ে গেছে। ক্লাবগুলোকে খেলোয়াড় গড়ার প্রতিষ্ঠান হিসেবে তৈরি করতে হবে। আমি রাইজিং ক্লাবের কোচকে একসময় বলেছিলাম, একসময় তোমার ক্লাব খেলোয়ার গড়ার প্রতিষ্ঠান হবে। সেই খেলোয়ার সারাদেশের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলবে, বিক্রি হবে। আজ সেই সময় ও সেই সুযোগ এসেছে। খেলোয়ার গড়ার জন্য আমি আপনাদেরকে সকল ধরণের সহযোগীতা করবো। জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে ইন্টারস্কুল খেলা হচ্ছে না। জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আপনি সেইদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখবেন। একই সঙ্গে প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ইন্টারস্কুল টুর্নামেন্ট খেলা বাধ্যতামূলক করে দেবেন। মাদকসহ সকল ধরণের খারাপ অভ্যাস থেকে বর্তমান ও আগামি প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করুন। ঢাকার ক্লাবগুলোর সঙ্গে লক্ষ্মীপুরের খেলোয়াড়দের যোগসূত্র তৈরি করার অঙ্গীকার করছি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার বলেন, খেলাধূলা হচ্ছে প্রতিষেধক। আমাদের সমাজে বিভিন্ন ব্যাধি আছে। আমরা যেমন রোগ হলে চিকিৎসকের কাছে যাই। বিশেষ করে তরুণরা যদি সেই সামাজিক ব্যাধিগুলোতে আক্রান্ত হয়। আমরা দেখি তাদের মধ্যে বিষন্নতা থাকে, হতাশা থাকে, অপরাধ প্রবণতা থাকে, মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন সমস্যা থাকে। সবচেয়ে অত্যাধুনিক সমস্যা হচ্ছে স্মার্ট ফোন। যা ধারা আমরা সবাই আক্রান্ত। অনেক সময় সন্তানদের ওপর অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এমন একটি অপসংস্কৃতি আমাদেরকে ঘিরে রেখেছে। এ জায়গা থেকে আমাদেরকে যদি আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে বাঁচাতে চাই অবশ্যই খেলাধুলাসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রতিযোগীতায় জোর দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, হ্যাপি চৌধুরী লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সমসেরাবাদ এলাকার বাসিন্দা ও অভিক সংঘ ক্লাবের চেয়ারম্যান।