ঢাকা ০৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবানে সব পর্যটন স্পট খুলে দেয়ার আহ্বান পর্যটন ব্যবসায়ীদের

পর্যটন নগরী বান্দরবানের সকল পর্যটন স্পট খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে সোমবার (সকালে) বান্দরবান পর্যটন ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি চিঠি দেয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, বান্দরবানের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেষ্টুরেন্ট, চাঁদের গাড়ি, বার্মিজ স্টোর, ইঞ্জিন চালিত বোট, থ্রি হুইলার, ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা, কুঠির শিল্প, হস্ত শিল্প, বান্দরবান—ঢাকা—চট্টগ্রামসহ জেলার অভ্যন্তরিন সড়কে ১৫টির অধিক বাস কোম্পানী, পর্যটকবাহী যানবাহনসহ বিভিন্ন খাতে আমরা কোটি কোটি টাকা
বিনিয়োগ করেছি। বিগত ২০১৯ সাল থেকে করোনা ভাইরাস, বান্দরবানে ভয়াবহ বন্যা, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকিচিন এর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে বান্দরবান এর পর্যটন স্পটগুলোতে একের পর এক পর্যটক ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

শুধু তাই নয়, বিগত কয়েক মাস পূর্বে সীমিত পরিসরে কিছু পর্যটন স্পট পর্যটকদের ভ্রমনের জন্য খুলে দেয়া হলেও দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কাঙ্খিত পর্যটক ভ্রমনে আসতে পারেননি। ফলে এখনকার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোতে ব্যাপক ধ্বস নামে। এসব খাতে জড়িত হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্যহন মালিক পক্ষ। চিঠিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন স্পট বন্ধ থাকার কারণে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা কর্মচারী ছাটাই করতে বাধ্য হচ্ছে, বেকার, কর্মহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। যার ফলে কর্মহীন অবস্থায় হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবন—যাপন করছে। এছাড়াও অনেকে ব্যাংক লোনের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় দেওলিয়া হবার অপেক্ষায়।

বিশেষ করে এই অঞ্চলে অধিকাংশ পাহাড়ীরা কোমর তাঁতের মাধ্যমে কুটির শিল্প পরিচালনা করে আসছিলো। বর্তমানে পর্যটক না থাকায় তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে না পারায় অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্থ হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। তাই ব্যবসায়ীগণ ও পর্যটন সেক্টরে কর্মরত হাজার কর্মকর্তা—কর্মচারীদের বেঁচে থাকার স্বার্থে বান্দরবানের পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে এবং অর্থনীতিকে পূন:রায় সচল রাখতে বান্দরবানের সকল পর্যটনস্পট খুলে দেয়ার আহ্বান পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।

জেলা প্রশাসকের নিকট চিঠি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পর্যটন ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক নাছিরুল আলম, সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম, হোটেল রিসোর্ট অনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক  বিশ্বজিৎ দাশ বাপ্পা, রেষ্টুরেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মাষ্টারসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বান্দরবানের পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, বান্দরবানে দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন ভ্রমণে নিষেধজ্ঞা থাকার কারণে তারা বর্তমানে দিশেহারা। বাধ্য হয়ে অনেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে স্থায়ীভাবে নিজ উদ্যোগে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা বন্ধ করে দেয়ার কথা জানান ব্যবসায়ীরা।

উল্লেখ্য, পাহাড় কন্যা খ্যাত পর্যটন নগরী বান্দরবানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণে আসে হাজারো পর্যটক। আর বর্তমানে বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ থাকায় প্রতিদিন কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হচ্ছে বলে জানায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

বান্দরবানে সব পর্যটন স্পট খুলে দেয়ার আহ্বান পর্যটন ব্যবসায়ীদের

আপডেট সময় : ১২:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৪

পর্যটন নগরী বান্দরবানের সকল পর্যটন স্পট খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে সোমবার (সকালে) বান্দরবান পর্যটন ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি চিঠি দেয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, বান্দরবানের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেষ্টুরেন্ট, চাঁদের গাড়ি, বার্মিজ স্টোর, ইঞ্জিন চালিত বোট, থ্রি হুইলার, ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা, কুঠির শিল্প, হস্ত শিল্প, বান্দরবান—ঢাকা—চট্টগ্রামসহ জেলার অভ্যন্তরিন সড়কে ১৫টির অধিক বাস কোম্পানী, পর্যটকবাহী যানবাহনসহ বিভিন্ন খাতে আমরা কোটি কোটি টাকা
বিনিয়োগ করেছি। বিগত ২০১৯ সাল থেকে করোনা ভাইরাস, বান্দরবানে ভয়াবহ বন্যা, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকিচিন এর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে বান্দরবান এর পর্যটন স্পটগুলোতে একের পর এক পর্যটক ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

শুধু তাই নয়, বিগত কয়েক মাস পূর্বে সীমিত পরিসরে কিছু পর্যটন স্পট পর্যটকদের ভ্রমনের জন্য খুলে দেয়া হলেও দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কাঙ্খিত পর্যটক ভ্রমনে আসতে পারেননি। ফলে এখনকার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোতে ব্যাপক ধ্বস নামে। এসব খাতে জড়িত হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্যহন মালিক পক্ষ। চিঠিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন স্পট বন্ধ থাকার কারণে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা কর্মচারী ছাটাই করতে বাধ্য হচ্ছে, বেকার, কর্মহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। যার ফলে কর্মহীন অবস্থায় হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবন—যাপন করছে। এছাড়াও অনেকে ব্যাংক লোনের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় দেওলিয়া হবার অপেক্ষায়।

বিশেষ করে এই অঞ্চলে অধিকাংশ পাহাড়ীরা কোমর তাঁতের মাধ্যমে কুটির শিল্প পরিচালনা করে আসছিলো। বর্তমানে পর্যটক না থাকায় তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে না পারায় অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্থ হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। তাই ব্যবসায়ীগণ ও পর্যটন সেক্টরে কর্মরত হাজার কর্মকর্তা—কর্মচারীদের বেঁচে থাকার স্বার্থে বান্দরবানের পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে এবং অর্থনীতিকে পূন:রায় সচল রাখতে বান্দরবানের সকল পর্যটনস্পট খুলে দেয়ার আহ্বান পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।

জেলা প্রশাসকের নিকট চিঠি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পর্যটন ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক নাছিরুল আলম, সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম, হোটেল রিসোর্ট অনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক  বিশ্বজিৎ দাশ বাপ্পা, রেষ্টুরেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মাষ্টারসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বান্দরবানের পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, বান্দরবানে দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন ভ্রমণে নিষেধজ্ঞা থাকার কারণে তারা বর্তমানে দিশেহারা। বাধ্য হয়ে অনেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে স্থায়ীভাবে নিজ উদ্যোগে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা বন্ধ করে দেয়ার কথা জানান ব্যবসায়ীরা।

উল্লেখ্য, পাহাড় কন্যা খ্যাত পর্যটন নগরী বান্দরবানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণে আসে হাজারো পর্যটক। আর বর্তমানে বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ থাকায় প্রতিদিন কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হচ্ছে বলে জানায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।