ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় হামলার ভয়াবহ চিত্র, প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৭৫ হাজার

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৩৪ বার পড়া হয়েছে

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রকৃত মানবিক ক্ষয়ক্ষতি আগের সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত একাধিক স্বাধীন গবেষণায় ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত ৭৫ হাজারের বেশি ‘সহিংস মৃত্যুর’ প্রমাণ মিলেছে।

গবেষণাগুলো বলছে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া মৃত্যুর হিসাব কোনো অতিরঞ্জন নয়; বরং সেটি প্রকৃত প্রাণহানির ন্যূনতম সীমা। বাস্তবে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

দ্য গাজা মর্টালিটি সার্ভে নামে পরিচিত একটি জনসংখ্যাভিত্তিক গৃহস্থালি জরিপ, যা প্রকাশিত হয়েছে দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ-এ। জরিপ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে গাজায় ৭৫ হাজার ২০০ জন সহিংস মৃত্যুর শিকার হয়েছেন।

এই সংখ্যা যুদ্ধের আগে গাজার প্রায় ২২ লাখ জনসংখ্যার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নিহত ছিলেন ৪৯ হাজার ৯০ জন-যার তুলনায় স্বাধীন গবেষণার হিসাব ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত কমপক্ষে ৭১ হাজার ৬৬২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর নিহত হন ৪৮৮ জন।

ইসরায়েল বরাবরই গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে জানুয়ারিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা দেশটির সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধ চলাকালে গাজায় প্রায় ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন-এই হিসাব তারা গ্রহণ করেন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিহতদের জনমিতিক চিত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্কের হার ৫৬ দশমিক ২ শতাংশ, যা বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট করে।

মৃত্যুর হিসাবের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

জিএমএস জরিপে ২ হাজার পরিবারের ৯ হাজার ৭২৯ জন সদস্যের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এটি মৃত্যুর হিসাব নির্ধারণে একটি শক্তিশালী ও বাস্তবভিত্তিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গবেষণার প্রধান লেখক, লন্ডনের রয়্যাল হলওয়ে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন-এর অর্থনীতির অধ্যাপক মাইকেল স্প্যাগাট বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য নির্ভরযোগ্য হলেও হাসপাতাল, প্রশাসনিক কাঠামো ও নথিপত্র ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এসব হিসাব স্বাভাবিকভাবেই কম দেখানো হচ্ছে।

এই গবেষণা এগিয়েছে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত আগের এক গবেষণার তুলনায়। ওই গবেষণায় পরিসংখ্যানভিত্তিক ‘ক্যাপচার–রিক্যাপচার’ পদ্ধতিতে যুদ্ধের প্রথম নয় মাসে ৬৪ হাজার ২৬০ জনের মৃত্যুর অনুমান করা হয়েছিল।

নতুন গবেষণাটি অনুমানের বাইরে গিয়ে সরাসরি পরিবারভিত্তিক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করেছে এবং প্রথমবারের মতো সহিংসতার বাইরের মৃত্যুর পরিমাণও নির্ধারণ করেছে।

গবেষণা অনুযায়ী, সহিংসতার বাইরেও ১৬ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫৪০ জনের মৃত্যু সরাসরি মানবিক সংকট, অবরোধ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধসের সঙ্গে যুক্ত।

গবেষকেরা বলেন, ফিলিস্তিনি হতাহতের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো হলেও একাধিক স্বাধীন পদ্ধতিতে যাচাই করা এই ফলাফল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ করে।

আহতদের চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি সংকট

প্রাণহানির পাশাপাশি গাজায় আহত মানুষের সংখ্যা ও চিকিৎসা-সংকটও ভয়াবহ। ই ক্লিনিক্যাল মেডিসিনে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত গাজায় আহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২০ জনে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক ইউনিভার্সিটি এবং গাজার আল-শিফা হাসপাতাল–এর গবেষকেরা। তাদের হিসাবে, আহতদের মধ্যে ২৯ হাজার থেকে ৪৬ হাজার মানুষের জটিল পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। আহতদের ৮০ শতাংশের বেশি বিস্ফোরণ ও বিমান হামলায় আহত হয়েছেন।

গবেষকেরা জানান, যুদ্ধের আগে গাজায় ২২ লাখ মানুষের জন্য মাত্র ৮ জন বোর্ড-সনদপ্রাপ্ত প্লাস্টিক ও পুনর্গঠন সার্জন ছিলেন। এমনকি যুদ্ধ-পূর্ব সক্ষমতা ফিরলেও এই চিকিৎসা–জট কাটাতে আরও প্রায় এক দশক সময় লাগতে পারে।

ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা

২০২৫ সালের মে নাগাদ গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১২টি হাসপাতাল আংশিকভাবে চালু ছিল। পুরো অঞ্চলে হাসপাতালের শয্যা নেমে এসেছে প্রায় ২ হাজারে, যেখানে যুদ্ধের আগে ছিল ৩ হাজারের বেশি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, গাজায় কার্যত পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের সক্ষমতা প্রায় নেই। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে বহু মানুষ সংক্রমণ, স্থায়ী অক্ষমতা ও মৃত্যুঝুঁকিতে পড়ছেন।

দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ–এ প্রকাশিত এক মন্তব্যে গবেষকেরা ‘ধূসর মৃত্যুর ক্ষেত্র’–এর কথা উল্লেখ করেন-যেখানে সরাসরি হামলা ও পরোক্ষ কারণে মৃত্যুর সীমারেখা স্পষ্ট থাকে না। যেমন, বিস্ফোরণের পর দীর্ঘদিন চিকিৎসা না পেয়ে সেপসিসে মৃত্যু, কিংবা নিরাপদ পানি ও অস্ত্রোপচারের অভাবে কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যু।

২০২৫ সালের শেষ দিকে গাজার ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা জোরপূর্বক খালি করতে বাধ্য করা হয়। উত্তর গাজা ও রাফাহ প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ওই বছরের আগস্টে উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়, যা আহত মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে আরও কমিয়ে দেয়।

গবেষকেরা বলছেন, এই গবেষণাগুলো তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে সুরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও গাজার স্বাস্থ্য অবকাঠামো বারবার হামলার শিকার হচ্ছে-এই অবস্থা চলতে থাকলে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের মামলায় নিজেই লড়তে চান শামসুল হক টুকু

গাজায় হামলার ভয়াবহ চিত্র, প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৭৫ হাজার

আপডেট সময় : ১২:৩৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রকৃত মানবিক ক্ষয়ক্ষতি আগের সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত একাধিক স্বাধীন গবেষণায় ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত ৭৫ হাজারের বেশি ‘সহিংস মৃত্যুর’ প্রমাণ মিলেছে।

গবেষণাগুলো বলছে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া মৃত্যুর হিসাব কোনো অতিরঞ্জন নয়; বরং সেটি প্রকৃত প্রাণহানির ন্যূনতম সীমা। বাস্তবে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

দ্য গাজা মর্টালিটি সার্ভে নামে পরিচিত একটি জনসংখ্যাভিত্তিক গৃহস্থালি জরিপ, যা প্রকাশিত হয়েছে দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ-এ। জরিপ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে গাজায় ৭৫ হাজার ২০০ জন সহিংস মৃত্যুর শিকার হয়েছেন।

এই সংখ্যা যুদ্ধের আগে গাজার প্রায় ২২ লাখ জনসংখ্যার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নিহত ছিলেন ৪৯ হাজার ৯০ জন-যার তুলনায় স্বাধীন গবেষণার হিসাব ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত কমপক্ষে ৭১ হাজার ৬৬২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর নিহত হন ৪৮৮ জন।

ইসরায়েল বরাবরই গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে জানুয়ারিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা দেশটির সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধ চলাকালে গাজায় প্রায় ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন-এই হিসাব তারা গ্রহণ করেন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিহতদের জনমিতিক চিত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্কের হার ৫৬ দশমিক ২ শতাংশ, যা বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট করে।

মৃত্যুর হিসাবের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

জিএমএস জরিপে ২ হাজার পরিবারের ৯ হাজার ৭২৯ জন সদস্যের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এটি মৃত্যুর হিসাব নির্ধারণে একটি শক্তিশালী ও বাস্তবভিত্তিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গবেষণার প্রধান লেখক, লন্ডনের রয়্যাল হলওয়ে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন-এর অর্থনীতির অধ্যাপক মাইকেল স্প্যাগাট বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য নির্ভরযোগ্য হলেও হাসপাতাল, প্রশাসনিক কাঠামো ও নথিপত্র ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এসব হিসাব স্বাভাবিকভাবেই কম দেখানো হচ্ছে।

এই গবেষণা এগিয়েছে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত আগের এক গবেষণার তুলনায়। ওই গবেষণায় পরিসংখ্যানভিত্তিক ‘ক্যাপচার–রিক্যাপচার’ পদ্ধতিতে যুদ্ধের প্রথম নয় মাসে ৬৪ হাজার ২৬০ জনের মৃত্যুর অনুমান করা হয়েছিল।

নতুন গবেষণাটি অনুমানের বাইরে গিয়ে সরাসরি পরিবারভিত্তিক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করেছে এবং প্রথমবারের মতো সহিংসতার বাইরের মৃত্যুর পরিমাণও নির্ধারণ করেছে।

গবেষণা অনুযায়ী, সহিংসতার বাইরেও ১৬ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫৪০ জনের মৃত্যু সরাসরি মানবিক সংকট, অবরোধ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধসের সঙ্গে যুক্ত।

গবেষকেরা বলেন, ফিলিস্তিনি হতাহতের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো হলেও একাধিক স্বাধীন পদ্ধতিতে যাচাই করা এই ফলাফল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ করে।

আহতদের চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি সংকট

প্রাণহানির পাশাপাশি গাজায় আহত মানুষের সংখ্যা ও চিকিৎসা-সংকটও ভয়াবহ। ই ক্লিনিক্যাল মেডিসিনে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত গাজায় আহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২০ জনে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক ইউনিভার্সিটি এবং গাজার আল-শিফা হাসপাতাল–এর গবেষকেরা। তাদের হিসাবে, আহতদের মধ্যে ২৯ হাজার থেকে ৪৬ হাজার মানুষের জটিল পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। আহতদের ৮০ শতাংশের বেশি বিস্ফোরণ ও বিমান হামলায় আহত হয়েছেন।

গবেষকেরা জানান, যুদ্ধের আগে গাজায় ২২ লাখ মানুষের জন্য মাত্র ৮ জন বোর্ড-সনদপ্রাপ্ত প্লাস্টিক ও পুনর্গঠন সার্জন ছিলেন। এমনকি যুদ্ধ-পূর্ব সক্ষমতা ফিরলেও এই চিকিৎসা–জট কাটাতে আরও প্রায় এক দশক সময় লাগতে পারে।

ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা

২০২৫ সালের মে নাগাদ গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১২টি হাসপাতাল আংশিকভাবে চালু ছিল। পুরো অঞ্চলে হাসপাতালের শয্যা নেমে এসেছে প্রায় ২ হাজারে, যেখানে যুদ্ধের আগে ছিল ৩ হাজারের বেশি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, গাজায় কার্যত পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের সক্ষমতা প্রায় নেই। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে বহু মানুষ সংক্রমণ, স্থায়ী অক্ষমতা ও মৃত্যুঝুঁকিতে পড়ছেন।

দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ–এ প্রকাশিত এক মন্তব্যে গবেষকেরা ‘ধূসর মৃত্যুর ক্ষেত্র’–এর কথা উল্লেখ করেন-যেখানে সরাসরি হামলা ও পরোক্ষ কারণে মৃত্যুর সীমারেখা স্পষ্ট থাকে না। যেমন, বিস্ফোরণের পর দীর্ঘদিন চিকিৎসা না পেয়ে সেপসিসে মৃত্যু, কিংবা নিরাপদ পানি ও অস্ত্রোপচারের অভাবে কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যু।

২০২৫ সালের শেষ দিকে গাজার ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা জোরপূর্বক খালি করতে বাধ্য করা হয়। উত্তর গাজা ও রাফাহ প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ওই বছরের আগস্টে উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়, যা আহত মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে আরও কমিয়ে দেয়।

গবেষকেরা বলছেন, এই গবেষণাগুলো তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে সুরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও গাজার স্বাস্থ্য অবকাঠামো বারবার হামলার শিকার হচ্ছে-এই অবস্থা চলতে থাকলে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হবে।