ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদুরোকে এখনও ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট বললেন দেলসি

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এখনও ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের পদে আছেন। 

তার অনুপস্থিতির কারণে ভেনেজুয়েলার সরকারব্যবস্থায় সাংবিধানিক কোনো বড় রূপান্তর ঘটেনি বলে জানান দেশটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ। খবর আনাদোলুর।

দেলসি সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, মাদুরোকে অপহরণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে চুক্তি হয়েছে ভেনেজুয়েলার, কিন্তু দেশ চলছে সংবিধান মেনেই।

বিবিসিকে দেলসি বলেন, আমি আপনাদের বলতে পারি যে নিকোলাস মাদুরোই দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট। আমি আপনাদের এ কথা বলছি একজন আইনজীবী হিসেবে, কারণ আমি নিজে একজন আইনজীবী।

প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং ফ্রার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস— উভয়েই নিরপরাধ। আমি যে এখন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, তা সাংবিধানিক বিধি মেনেই করছি।

ভেনেজুয়েলা তেল সম্পদে খুবই সমৃদ্ধ। এ মূহূর্তে বিশ্বে যতো ভূগর্ভস্থ তেল রয়েছে তার এক পঞ্চমাংশই আছে ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে। ভেনেজুয়েলায় কয়েকটি স্বর্ণের খনি আছে এবং সেগুলোতে স্বর্ণের মজুদের পরিমাণও অনেক।

তবে বামপন্থি প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সঙ্গে রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্ক খুবই খারাপ। ২০১৬ সালে যখন প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্পের উত্তরসূরি জো বাইডেনের সময়েও এই নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল।

গত ৩ জানুয়ারি গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউিইয়র্ক সিটিতে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনী।

তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং মার্কিন আদালতে সেই অভিযোগের বিচারের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে মাদুরো এবং সিলিয়া নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারি বন্দি আছেন।

মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণের পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন— ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের তদারক এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র করবে।

তিনি আরও বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয় ব্যবস্থাপনার জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সস্ত্রীক অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ।

বিবিসিকে দেলসি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে একটি কূটনৈতিক সমঝোতা আমাদের হয়েছে, কিন্তু ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এখনও আমরা বিকিয়ে দিইনি। ভেনেজুয়েলা চলছে ভেনেজুয়লার সংবিধান অনুসারে।

ভেনেজুয়েলার ভিন্ন মতাবলম্বী রাজনীতিবিদ এবং ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নিয়েও বিবিসির সঙ্গে কথা হয়েছে দেলসির। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন মাচাদো।

বিবিসিকে তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, যদি তিনি দেশে ফিরে আসেন, তাহলে অবশ্যই তাকে ভেনেজুয়েলার জনগণের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

প্রথমত, কেন তিনি ভেনেজুয়েলায় সামরিক আগ্রাসন চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

দ্বিতীয়ত, কেন তিনি ভেনেজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং তৃতীয়ত, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যখন অপহরণ করা হলো— কেন তিনি তা উদযাপন করলেন এবং সমাজমাধ্যমে সেই উদযাপনের ছবি প্রকাশ করলেন?

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের মামলায় নিজেই লড়তে চান শামসুল হক টুকু

মাদুরোকে এখনও ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট বললেন দেলসি

আপডেট সময় : ০৮:০৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এখনও ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের পদে আছেন। 

তার অনুপস্থিতির কারণে ভেনেজুয়েলার সরকারব্যবস্থায় সাংবিধানিক কোনো বড় রূপান্তর ঘটেনি বলে জানান দেশটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ। খবর আনাদোলুর।

দেলসি সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, মাদুরোকে অপহরণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে চুক্তি হয়েছে ভেনেজুয়েলার, কিন্তু দেশ চলছে সংবিধান মেনেই।

বিবিসিকে দেলসি বলেন, আমি আপনাদের বলতে পারি যে নিকোলাস মাদুরোই দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট। আমি আপনাদের এ কথা বলছি একজন আইনজীবী হিসেবে, কারণ আমি নিজে একজন আইনজীবী।

প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং ফ্রার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস— উভয়েই নিরপরাধ। আমি যে এখন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, তা সাংবিধানিক বিধি মেনেই করছি।

ভেনেজুয়েলা তেল সম্পদে খুবই সমৃদ্ধ। এ মূহূর্তে বিশ্বে যতো ভূগর্ভস্থ তেল রয়েছে তার এক পঞ্চমাংশই আছে ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে। ভেনেজুয়েলায় কয়েকটি স্বর্ণের খনি আছে এবং সেগুলোতে স্বর্ণের মজুদের পরিমাণও অনেক।

তবে বামপন্থি প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সঙ্গে রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্ক খুবই খারাপ। ২০১৬ সালে যখন প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্পের উত্তরসূরি জো বাইডেনের সময়েও এই নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল।

গত ৩ জানুয়ারি গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউিইয়র্ক সিটিতে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনী।

তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং মার্কিন আদালতে সেই অভিযোগের বিচারের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে মাদুরো এবং সিলিয়া নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারি বন্দি আছেন।

মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণের পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন— ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের তদারক এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র করবে।

তিনি আরও বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয় ব্যবস্থাপনার জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সস্ত্রীক অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ।

বিবিসিকে দেলসি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে একটি কূটনৈতিক সমঝোতা আমাদের হয়েছে, কিন্তু ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এখনও আমরা বিকিয়ে দিইনি। ভেনেজুয়েলা চলছে ভেনেজুয়লার সংবিধান অনুসারে।

ভেনেজুয়েলার ভিন্ন মতাবলম্বী রাজনীতিবিদ এবং ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নিয়েও বিবিসির সঙ্গে কথা হয়েছে দেলসির। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন মাচাদো।

বিবিসিকে তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, যদি তিনি দেশে ফিরে আসেন, তাহলে অবশ্যই তাকে ভেনেজুয়েলার জনগণের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

প্রথমত, কেন তিনি ভেনেজুয়েলায় সামরিক আগ্রাসন চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

দ্বিতীয়ত, কেন তিনি ভেনেজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং তৃতীয়ত, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যখন অপহরণ করা হলো— কেন তিনি তা উদযাপন করলেন এবং সমাজমাধ্যমে সেই উদযাপনের ছবি প্রকাশ করলেন?