ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক: ডিভাইস হ্যাকিং ম্যালওয়ার ধরা পড়লো যেভাবে।

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৩৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঘটনায় ডিভাইস হ্যাকিং ম্যালওয়ার শনাক্ত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। দলীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়।

সূত্র মতে, গত ৩১ জানুয়ারি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। তবে জামায়াতের আইটি টিম মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ডিপ ফরেনসিক পরীক্ষার পর ডিভাইসগুলোতে ম্যালওয়ারের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় আইটি টিমের সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, ১০ জানুয়ারি শনিবার বঙ্গভবনের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামারের ই-মেইল আইডি (assistantprogramer@bangabhaban.gov.bd) থেকে প্রথমে একটি ফিশিং ই-মেইল আসে। পরে ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের অ্যাক্সেস অন্য কারও হাতে চলে গেছে।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকাউন্টটির সব অ্যাডমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ডিভাইসটি হ্যাক হয়েছে। মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যে আমরা অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হই। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসে ম্যালওয়ার শনাক্ত করা হয়।

তিনি আরো জানান, মেইলটি থেকে ম্যালওয়ার শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে দুটি Command & Control (C2) সার্ভার এমবেড করা রয়েছে। ম্যালওয়ারটি প্রতি ১৭ মিনিট পরপর একটি Scheduled Task ভিত্তিক Persistence Mechanism সক্রিয় ছিল, অর্থাৎ ১৭ মিনিট পরপর ম্যালেওয়ারটি কন্টোল্ড ডিভাইস থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে সক্ষম। এছাড়া ম্যালওয়ারটির curl | cmd.exe পাইপ ব্যবহার করে Remote Code Execution পরিচালনার করাতে সক্ষমতা বিদ্যমান ছিলো। সম্পূর্ণ আক্রমণ চেইন ফিশিং ইমেইল থেকে শুরু করে ক্রেডেনশিয়াল চুরি এবং পরবর্তীতে অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ দখল পর্যন্ত সম্পূর্ণ কাজ করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, এটি কোনো সাধারণ ম্যালওয়ার আক্রমণ নয়। এমন আক্রমণ পরিচালনা করা সাধারণ হ্যাকারদের পক্ষে কঠিন। বরং এটি রাষ্ট্র-সমর্থিত বা nation-state level আক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। কারণ এখানে ফিশিং ই-মেইল, তথ্য চুরি, সার্ভারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। একই কৌশলে গত ৩ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের এক্স অ্যাকাউন্টেও ফিশিংয়ের মাধ্যমে পোস্ট করা হয়।

উল্লেখ্য, ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশ পায়। মাত্র ৯ মিনিটের মধ্যে অ্যাকাউন্টটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে হ্যাকিংয়ের নোটিশ দেওয়া হয়। তবে ওই দিন মধ্যরাতে আপত্তিকর পোস্টটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্ক শুরু হয়।

এ ঘটনার পর রাত ৩টায় হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটির সদস্য ও আইটি সেলের সমন্বয়ক সিরাজুল ইসলাম। পরে বঙ্গভবনের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামারের ই-মেইল থেকে ম্যালওয়ার ছড়ানোর তথ্য পাওয়ায় ৩ ফেব্রুয়ারি সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে যান।

এরই ধারাবাহিকতায় ৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ডিবির একটি অভিযানে বঙ্গভবনের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ার আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় হাতিরঝিল থানায় জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে, ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ডিবি পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানায়, জামায়াতের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

জামায়াতের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক: ডিভাইস হ্যাকিং ম্যালওয়ার ধরা পড়লো যেভাবে।

আপডেট সময় : ০৮:০৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঘটনায় ডিভাইস হ্যাকিং ম্যালওয়ার শনাক্ত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। দলীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়।

সূত্র মতে, গত ৩১ জানুয়ারি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। তবে জামায়াতের আইটি টিম মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ডিপ ফরেনসিক পরীক্ষার পর ডিভাইসগুলোতে ম্যালওয়ারের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় আইটি টিমের সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, ১০ জানুয়ারি শনিবার বঙ্গভবনের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামারের ই-মেইল আইডি (assistantprogramer@bangabhaban.gov.bd) থেকে প্রথমে একটি ফিশিং ই-মেইল আসে। পরে ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের অ্যাক্সেস অন্য কারও হাতে চলে গেছে।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকাউন্টটির সব অ্যাডমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ডিভাইসটি হ্যাক হয়েছে। মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যে আমরা অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হই। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসে ম্যালওয়ার শনাক্ত করা হয়।

তিনি আরো জানান, মেইলটি থেকে ম্যালওয়ার শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে দুটি Command & Control (C2) সার্ভার এমবেড করা রয়েছে। ম্যালওয়ারটি প্রতি ১৭ মিনিট পরপর একটি Scheduled Task ভিত্তিক Persistence Mechanism সক্রিয় ছিল, অর্থাৎ ১৭ মিনিট পরপর ম্যালেওয়ারটি কন্টোল্ড ডিভাইস থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে সক্ষম। এছাড়া ম্যালওয়ারটির curl | cmd.exe পাইপ ব্যবহার করে Remote Code Execution পরিচালনার করাতে সক্ষমতা বিদ্যমান ছিলো। সম্পূর্ণ আক্রমণ চেইন ফিশিং ইমেইল থেকে শুরু করে ক্রেডেনশিয়াল চুরি এবং পরবর্তীতে অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ দখল পর্যন্ত সম্পূর্ণ কাজ করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, এটি কোনো সাধারণ ম্যালওয়ার আক্রমণ নয়। এমন আক্রমণ পরিচালনা করা সাধারণ হ্যাকারদের পক্ষে কঠিন। বরং এটি রাষ্ট্র-সমর্থিত বা nation-state level আক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। কারণ এখানে ফিশিং ই-মেইল, তথ্য চুরি, সার্ভারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। একই কৌশলে গত ৩ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের এক্স অ্যাকাউন্টেও ফিশিংয়ের মাধ্যমে পোস্ট করা হয়।

উল্লেখ্য, ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশ পায়। মাত্র ৯ মিনিটের মধ্যে অ্যাকাউন্টটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে হ্যাকিংয়ের নোটিশ দেওয়া হয়। তবে ওই দিন মধ্যরাতে আপত্তিকর পোস্টটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্ক শুরু হয়।

এ ঘটনার পর রাত ৩টায় হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটির সদস্য ও আইটি সেলের সমন্বয়ক সিরাজুল ইসলাম। পরে বঙ্গভবনের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামারের ই-মেইল থেকে ম্যালওয়ার ছড়ানোর তথ্য পাওয়ায় ৩ ফেব্রুয়ারি সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে যান।

এরই ধারাবাহিকতায় ৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ডিবির একটি অভিযানে বঙ্গভবনের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ার আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় হাতিরঝিল থানায় জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে, ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ডিবি পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানায়, জামায়াতের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।