ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৪৭, ভেসে গেছে সেতু, দুই দিনের ছুটি ঘোষণা

নেপালে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকজন। বৃষ্টিতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, ভেসে গেছে একাধিক সেতু।

দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার ও মঙ্গলবার সারাদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে জরুরি সেবা ও উদ্ধারকর্মীরা ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।

সরকারি মুখপাত্র রমেশ্বর ডাঙ্গাল বলেছেন, পরবর্তী কয়েক দিনে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দেশটির পুলিশ বাহিনীর মুখপাত্র কলিদাস ধাউবোজি জানিয়েছেন, ভারতের সীমান্তসংলগ্ন পূর্বাঞ্চলীয় ইলাম জেলায় পৃথক ভূমিধসে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বন্যায় এখনো ৯ জন নিখোঁজ আছেন। বজ্রপাতে মারা গেছেন আরও ৩ জন।

নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র শান্তি মহাত।

নেপালের আবহাওয়া বিভাগ এক ডজনেরও বেশি জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। বিভাগীয় প্রধান কামল রাম জোশী স্থানীয়দের নদী ও ঝর্ণার কাছ থেকে দ্রুত সরে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, সতর্কতার আওতায় রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বাগমতি, গান্দাকি, লুম্বিনি ও মধেশ প্রদেশের কয়েকটি জেলা রয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে সড়কে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধসের কারণে কাঠমান্ডুর প্রধান সব সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। চীনের সীমান্তগামী আরণিকো মহাসড়ক কয়েক স্থানে ধসে পড়েছে, আর পূর্বাঞ্চলের বিপি মহাসড়ক ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়ে বন্ধ রয়েছে।

দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় শনিবার অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আংশিকভাবে চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের মুখপাত্র রিনজি শেরপা।

সম্প্রতি নেপালের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দশাইন শেষ হওয়ায় দুর্যোগের সময়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ উৎসব শেষে লাখো মানুষ নিজ নিজ গ্রাম থেকে শহরে ফিরছিলেন।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কোসি নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে বইছে।

স্থানীয় কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানান, সাধারণত কোসি ব্যারেজের ১০ থেকে ১২টি স্লুইস গেট খোলা থাকলেও এখন ৫৬টি গেটের সবকটি খুলে দেওয়া হয়েছে। ভারী যানবাহনের চলাচলও সীমিত করার কথা ভাবছে প্রশাসন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং পাহাড়ি এলাকাতেও ভারী বর্ষণে ভূমিধসে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

দার্জিলিংয়ের জেলা পুলিশের কর্মকর্তা অভিষেক রায় জানান, “এ পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন।”

প্রতি বছর বর্ষাকালে নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস ও আচমকা বন্যায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সাধারণত জুনের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশজুড়ে বর্ষা থাকে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৪৭, ভেসে গেছে সেতু, দুই দিনের ছুটি ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

নেপালে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকজন। বৃষ্টিতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, ভেসে গেছে একাধিক সেতু।

দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার ও মঙ্গলবার সারাদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে জরুরি সেবা ও উদ্ধারকর্মীরা ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।

সরকারি মুখপাত্র রমেশ্বর ডাঙ্গাল বলেছেন, পরবর্তী কয়েক দিনে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দেশটির পুলিশ বাহিনীর মুখপাত্র কলিদাস ধাউবোজি জানিয়েছেন, ভারতের সীমান্তসংলগ্ন পূর্বাঞ্চলীয় ইলাম জেলায় পৃথক ভূমিধসে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বন্যায় এখনো ৯ জন নিখোঁজ আছেন। বজ্রপাতে মারা গেছেন আরও ৩ জন।

নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র শান্তি মহাত।

নেপালের আবহাওয়া বিভাগ এক ডজনেরও বেশি জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। বিভাগীয় প্রধান কামল রাম জোশী স্থানীয়দের নদী ও ঝর্ণার কাছ থেকে দ্রুত সরে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, সতর্কতার আওতায় রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বাগমতি, গান্দাকি, লুম্বিনি ও মধেশ প্রদেশের কয়েকটি জেলা রয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে সড়কে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধসের কারণে কাঠমান্ডুর প্রধান সব সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। চীনের সীমান্তগামী আরণিকো মহাসড়ক কয়েক স্থানে ধসে পড়েছে, আর পূর্বাঞ্চলের বিপি মহাসড়ক ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়ে বন্ধ রয়েছে।

দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় শনিবার অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আংশিকভাবে চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের মুখপাত্র রিনজি শেরপা।

সম্প্রতি নেপালের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দশাইন শেষ হওয়ায় দুর্যোগের সময়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ উৎসব শেষে লাখো মানুষ নিজ নিজ গ্রাম থেকে শহরে ফিরছিলেন।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কোসি নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে বইছে।

স্থানীয় কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানান, সাধারণত কোসি ব্যারেজের ১০ থেকে ১২টি স্লুইস গেট খোলা থাকলেও এখন ৫৬টি গেটের সবকটি খুলে দেওয়া হয়েছে। ভারী যানবাহনের চলাচলও সীমিত করার কথা ভাবছে প্রশাসন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং পাহাড়ি এলাকাতেও ভারী বর্ষণে ভূমিধসে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

দার্জিলিংয়ের জেলা পুলিশের কর্মকর্তা অভিষেক রায় জানান, “এ পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন।”

প্রতি বছর বর্ষাকালে নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস ও আচমকা বন্যায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সাধারণত জুনের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশজুড়ে বর্ষা থাকে।