গাজার প্রধান শহরের বাসিন্দাদের জন্য বুধবার দখলদার ইসরায়েল এক চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, যারা দক্ষিণে সরে যাবেন না, তাদের ‘সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাস সমর্থক’ হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি একে গাজাবাসীর জন্য শেষ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবর অনুযায়ী, গাজা শহরে তীব্র বোমাবর্ষণের খবর দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। কাৎজ আরও জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনারা নেতজারিম করিডর দখল করেছে, যা গাজার উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে যোগাযোগ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। দক্ষিণে যেতে হলে এখন বাসিন্দাদের ইসরায়েলি সেনাদের তল্লাশি চৌকি পেরোতে হবে।
তবে গাজা শহরের বাসিন্দাদের অনেকে এই চরম সতর্কতা উপেক্ষা করে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৬০ বছর বয়সী রবাহ আল-হালাবি বলেন, “আমি শহর ছাড়ব না। কারণ গাজার দক্ষিণ অংশও সমান বিপজ্জনক। বোমাবর্ষণ সর্বত্র চলছে।” তিনি বলেন, তারা কেবল ‘মৃত্যুর অপেক্ষা’ করছেন। হামাস কাৎজের এই বক্তব্যকে ‘যুদ্ধাপরাধ বাড়ানোর পূর্বাভাস’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এদিকে, প্রায় দুই বছর ধরে চলা এই সংঘাতের ইতি টানতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে হামাস। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছেন।
পরিকল্পনায় যুদ্ধবিরতি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিম্মিদের মুক্তি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
হামাসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং পরিকল্পনা পর্যালোচনায় আরও দুই-তিন দিন সময় লাগবে। সূত্রের দাবি, হামাস পরিকল্পনার কিছু ধারা, বিশেষ করে নিরস্ত্রীকরণ ও হামাসকে উৎখাতের শর্তে আপত্তি জানিয়েছে। তারা ইসরায়েলের সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ না করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা চেয়েছে।
দোহায় আলোচনার সঙ্গে যুক্ত এক সূত্র জানান, হামাসের ভেতরে এই পরিকল্পনা নিয়ে ‘দুই মত’ রয়েছে। এক দল মনে করছে, যুদ্ধবিরতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা নিঃশর্তে মেনে নেওয়া উচিত। অন্য দল নিরস্ত্রীকরণ ও ফিলিস্তিনিদের উৎখাতের শর্ত প্রত্যাখ্যান করে শর্তসাপেক্ষে অনুমোদনের পক্ষে।
গাজা শহরে সামরিক অভিযান তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। কয়েক দিন আগে সীমান্তহীন চিকিৎসক সংস্থা (ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস)-ও সেখানে কাজ বন্ধ করে দেয়।
গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৬ জন গাজা শহরে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলায় ১ হাজার ২১৯ জন নিহত হওয়ার পর শুরু হওয়া ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৬ হাজার ১৪৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।