বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হওয়া সুদানের গৃহযুদ্ধ তৃতীয় বছরে প্রবেশ করেছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস এর মধ্যে চলমান এই সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষুধা, রোগ ও বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছেন।
সামরিক অগ্রগতি ও যুদ্ধক্ষেত্র
খার্তুমসহ পূর্বাঞ্চল এবং পোর্ট সুদান শহরের নিয়ন্ত্রণ এসএএফ এর হাতে থাকলেও, পশ্চিমে দারফুর ও দক্ষিণে কর্দোফানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে আরএসএফ। এল-ফাশার শহরটি ঘিরে ফেলার মাধ্যমে আরএসএফের কৌশলগতভাবে এসএএফের শেষ ঘাঁটিগুলোর একটি অবরোধ করছে।
আরএসএফ দারফুরে এবং কর্দোফানে আক্রমণ জোরদার করেছে। যেখানে তারা নতুন মিত্র এসপিএলএম-এন এর সঙ্গে যৌথভাবে লড়াই করছে। এই মিত্রতার মাধ্যমে তারা দক্ষিণ সুদান সীমান্তে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। অন্যদিকে, এসএএফ উত্তর কর্দোফানের গুরুত্বপূর্ণ শহর এল-ওবাইদ ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
ভয়াবহ মানবিক সংকট
জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, এল-ফাশারে প্রায় ২.৬ লাখ মানুষ, যার মধ্যে অর্ধেকই শিশু, আরএসএফ-এর অবরোধে আটকে পড়েছে। খাদ্য সংকটে মানুষ এখন পশুখাদ্যের ওপর নির্ভরশীল হলেও সেটাও দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
উত্তর দারফুরের শিশুদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে—যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি সীমার দ্বিগুণ। একইসঙ্গে, কলেরার প্রাদুর্ভাবে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৩৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত ৯ হাজারের বেশি।
ত্রাণ সংস্থাগুলোর গাড়িবহর রাস্তাবন্ধ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। শুক্রবার উত্তর দারফুরে জাতিসংঘের খাদ্য বহরে ড্রোন হামলা হয়, যা তিন মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার। এই হামলার জন্য এসএএফ ও আরএসএফ পরস্পরকে দায়ী করছে।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবর্তন
আরএসএফ নেতা মোহাম্মদ হামদান (৩১ আগস্ট ) ‘হেমেদতি’ দাগালো দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালা শহরে নিজেকে শান্তি সরকারের প্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন। একই দিনে এসএএফ শহরটিতে ড্রোন হামলা চালায়।
আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সুইজারল্যান্ডে এসএএফ প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং এক মার্কিন উপদেষ্টার গোপন বৈঠকের খবর সামনে এসেছে, যা যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাব্য আলোচনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বৈঠকের এক সপ্তাহ পর আল-বুরহান সেনাবাহিনীর একাধিক প্রভাবশালী ইসলামপন্থী কর্মকর্তাকে অবসর দেন-যা রাজনৈতিক চাপের ইঙ্গিত বহন করে।
সুদানের সংকট ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ, সামরিক পালাবদল এবং মানবিক সহায়তা জোরদার না হলে, এই যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 





































