ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাগলা মসজিদের ১৩ দানবাক্সে মিলেছে রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ টাকা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • ২৪৩ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের দান বাক্সে এবার ৪ মাস ১৭ দিনে মিলেছে রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া গেছে। দানের এইসব অর্থ মসজিদের স্থানে আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ছয়তলা ইসলামী কমপ্লেক্স বানানোসহ জেলার দরিদ্র-অসহায় রোগীদের চিকিৎসা কাজে ব্যায় হবে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত ৮টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান।

এদিন সকাল সাতটায় মসজিদের লোহার দানবাক্স খুলতেই দেখা মিলে শুধু টাকা আর টাকা। এসব টাকা বস্তায় ভরে নেওয়া হয় মসজিদেরই দোতলায়। তারপর সকাল থেকে টানা সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে গণনা। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় মসজিদের মেঝেতে বসে টাকা গোনেন মাদ্রাসা ছাত্র-শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তাসহ প্রায় সাড়ে চারশ’ মানুষ। তিন থেকে চারমাস পরপরই এমন দৃশ্যের দেখা মেলে কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদে।

দানবাক্সে পাওয়া বিদেশি মুদ্রা।

এর আগে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল সর্বশেষ খোলা হয়েছিল দানবাক্স গুলো। দিনভর টাকা গণনা শেষে ১১টি দানবাক্স থেকে তখন পাওয়া যায়, ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকাসহ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, রূপা ও স্বর্ণালংকার। সেটিই ছিল প্রথম রেকর্ড। এবার সেটিও ছাড়িয়ে গেছে।

বিভিন্ন ধরনের অলঙ্কারও দান করেন অনেকে।

শনিবার পাওয়া টাকা ছাড়াও বর্তমানে মসজিদের ব্যাংক একাউন্টে ৯১ কোটি টাকা জমা হয়েছে। যা দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান মসজিদের সভাপতি ফৌজিয়া খান।

টাকা গণনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন ছাত্র-শিক্ষকসহ প্রায় ৪০০ জন।

জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় আড়াইশ’ বছর আগে পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক পুরুষ খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর মধ্যস্থলে মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদ এলাকা জেলা শহরের হারুয়ায় আসেন। তাকে ঘিরে সেখানে অনেক ভক্তকুল সমবেত হন। তার মৃত্যুর পর সমাধির পাশে এই মসজিদটি গড়ে ওঠে। পরে কালক্রমে এটি পরিচিতি পায় পাগলা মসজিদ নামে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

পাগলা মসজিদের ১৩ দানবাক্সে মিলেছে রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ টাকা

আপডেট সময় : ১১:০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের দান বাক্সে এবার ৪ মাস ১৭ দিনে মিলেছে রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া গেছে। দানের এইসব অর্থ মসজিদের স্থানে আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ছয়তলা ইসলামী কমপ্লেক্স বানানোসহ জেলার দরিদ্র-অসহায় রোগীদের চিকিৎসা কাজে ব্যায় হবে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত ৮টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান।

এদিন সকাল সাতটায় মসজিদের লোহার দানবাক্স খুলতেই দেখা মিলে শুধু টাকা আর টাকা। এসব টাকা বস্তায় ভরে নেওয়া হয় মসজিদেরই দোতলায়। তারপর সকাল থেকে টানা সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে গণনা। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় মসজিদের মেঝেতে বসে টাকা গোনেন মাদ্রাসা ছাত্র-শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তাসহ প্রায় সাড়ে চারশ’ মানুষ। তিন থেকে চারমাস পরপরই এমন দৃশ্যের দেখা মেলে কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদে।

দানবাক্সে পাওয়া বিদেশি মুদ্রা।

এর আগে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল সর্বশেষ খোলা হয়েছিল দানবাক্স গুলো। দিনভর টাকা গণনা শেষে ১১টি দানবাক্স থেকে তখন পাওয়া যায়, ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকাসহ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, রূপা ও স্বর্ণালংকার। সেটিই ছিল প্রথম রেকর্ড। এবার সেটিও ছাড়িয়ে গেছে।

বিভিন্ন ধরনের অলঙ্কারও দান করেন অনেকে।

শনিবার পাওয়া টাকা ছাড়াও বর্তমানে মসজিদের ব্যাংক একাউন্টে ৯১ কোটি টাকা জমা হয়েছে। যা দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান মসজিদের সভাপতি ফৌজিয়া খান।

টাকা গণনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন ছাত্র-শিক্ষকসহ প্রায় ৪০০ জন।

জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় আড়াইশ’ বছর আগে পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক পুরুষ খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর মধ্যস্থলে মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদ এলাকা জেলা শহরের হারুয়ায় আসেন। তাকে ঘিরে সেখানে অনেক ভক্তকুল সমবেত হন। তার মৃত্যুর পর সমাধির পাশে এই মসজিদটি গড়ে ওঠে। পরে কালক্রমে এটি পরিচিতি পায় পাগলা মসজিদ নামে।