ঢাকা ০৯:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়ে রাইস মিলের বর্জ্যে ভূগর্ভস্থ পানি দূষণের অভিযোগ

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:৫০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
  • ২৪৮ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড় শহরের জালাসী এলাকায় বর্জ্য নির্গত করে ভূগর্ভস্থ পানি দূষণের অভিযোগ উঠেছে ‘তানিম অটো রাইস মিল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে ওই এলাকার নলকূপের পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় মিল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

গত ২৫ আগস্ট রাইস মিলটির স্বত্বাধিকারী মো. জিন্নাহ বরাবর কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের পঞ্চগড় জেলা কার্যালয়। নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইউসুফ আলী।

মো. ইউসুফ আলী স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়েছে, রাইস মিল থেকে নির্গত তরল বর্জ্য সরাসরি ভূগর্ভস্থ পানিতে নির্গত করার মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি দূষণ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয়দের নলকূপের পানি দূষিত হয়ে পড়েছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

নোটিশে মিল মালিকের কাছে সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব চাওয়া হয়েছে। অন্যথায়, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিল সংলগ্ন প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এখন বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। ৮০-৯০ ফিট গভীরের নলকূপ থেকেও দূষিত পানি বের হচ্ছে। মিল কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় চুপ রয়েছেন স্থানীয়রা। অনেকেই বাধ্য হয়ে নতুন করে আরো গভীর নলকূপ বসাচ্ছেন। তবে এই বর্জ্য নির্গত দমন না করলে পানি দূষণ কমানো সম্ভব হবে না বলে দাবি স্থানীয়দের।

রাইস মিলটির পাশেই আইনজীবী মাহমুদ আল মামুন হিমুর বাড়ি। তিনি বলেন, তরল বর্জ্য সরাসরি ভূগর্ভস্থ পানিতে নির্গত হওয়ায় আশপাশের নলকূপগুলোর পানি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। আগে আমরা যে পানি খেতাম, এখন সেটা খাওয়ার অযোগ্য হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে দূরের এলাকা থেকে পানি আনতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, পানির এই দূষনের কারণে স্বাচ্ছন্দে গোসল করা যায় না, ত্বকের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রান্নার জন্যও এখন আর নলকূপের পানি ব্যবহার করা যায় না। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান দরকার। এরইমধ্যে এখানকার মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে গেছে।

এ বিষয়ে তানিম অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মো. জিন্নাহ বলেন, এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপার। আমি চিঠি পেয়েছি, জবাব দিবো।

পরিবেশ অধিদপ্তর পঞ্চগড় জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইউসুফ আলী বলেন, মিল থেকে নির্গত বর্জ্যে পানি দূষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজন্য মিল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

পঞ্চগড়ে রাইস মিলের বর্জ্যে ভূগর্ভস্থ পানি দূষণের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৫০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

পঞ্চগড় শহরের জালাসী এলাকায় বর্জ্য নির্গত করে ভূগর্ভস্থ পানি দূষণের অভিযোগ উঠেছে ‘তানিম অটো রাইস মিল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে ওই এলাকার নলকূপের পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় মিল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

গত ২৫ আগস্ট রাইস মিলটির স্বত্বাধিকারী মো. জিন্নাহ বরাবর কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের পঞ্চগড় জেলা কার্যালয়। নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইউসুফ আলী।

মো. ইউসুফ আলী স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়েছে, রাইস মিল থেকে নির্গত তরল বর্জ্য সরাসরি ভূগর্ভস্থ পানিতে নির্গত করার মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি দূষণ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয়দের নলকূপের পানি দূষিত হয়ে পড়েছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

নোটিশে মিল মালিকের কাছে সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব চাওয়া হয়েছে। অন্যথায়, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিল সংলগ্ন প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এখন বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। ৮০-৯০ ফিট গভীরের নলকূপ থেকেও দূষিত পানি বের হচ্ছে। মিল কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় চুপ রয়েছেন স্থানীয়রা। অনেকেই বাধ্য হয়ে নতুন করে আরো গভীর নলকূপ বসাচ্ছেন। তবে এই বর্জ্য নির্গত দমন না করলে পানি দূষণ কমানো সম্ভব হবে না বলে দাবি স্থানীয়দের।

রাইস মিলটির পাশেই আইনজীবী মাহমুদ আল মামুন হিমুর বাড়ি। তিনি বলেন, তরল বর্জ্য সরাসরি ভূগর্ভস্থ পানিতে নির্গত হওয়ায় আশপাশের নলকূপগুলোর পানি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। আগে আমরা যে পানি খেতাম, এখন সেটা খাওয়ার অযোগ্য হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে দূরের এলাকা থেকে পানি আনতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, পানির এই দূষনের কারণে স্বাচ্ছন্দে গোসল করা যায় না, ত্বকের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রান্নার জন্যও এখন আর নলকূপের পানি ব্যবহার করা যায় না। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান দরকার। এরইমধ্যে এখানকার মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে গেছে।

এ বিষয়ে তানিম অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মো. জিন্নাহ বলেন, এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপার। আমি চিঠি পেয়েছি, জবাব দিবো।

পরিবেশ অধিদপ্তর পঞ্চগড় জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইউসুফ আলী বলেন, মিল থেকে নির্গত বর্জ্যে পানি দূষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজন্য মিল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।