প্রশ্ন
এক প্রশ্নকারী জানতে চান, আমার স্ত্রী দেখতে অসুন্দর, অর্থাৎ তার চেহারার গঠন ভালো নয়। বাড়িতে গিয়ে তাকে দেখলে আমার অন্তর ও চক্ষু শীতল হয় না। আমার মা-বাবারও তাকে পছন্দ হয়নি, আমারও হয়নি। এ অবস্থায় আমি কি তাকে তালাক দিতে পারব?
উত্তর
ঢাকা উত্তরার জামিয়া ইমাম বুখারীর মুফতি ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমি বলেন, আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিকুলের সেরা সৃষ্টি হলো মানুষ। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন সুন্দর থেকে সুন্দরতম অবয়ব দিয়ে।
এক হাদিসে আছে—নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সুন্দর, সৌন্দর্য তিনি পছন্দ করেন। মানুষ হিসেবে আমরাও সৌন্দর্যকে ভালোবাসি, সুন্দর হতে চাই, সুন্দর স্ত্রী চাই। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এটাও মনে রাখা উচিত যে, সৌন্দর্য আল্লাহ তাআলা যাকে ইচ্ছা দান করেন। যার চেহারা সুন্দর, এটা তার গৌরব নয়; বরং আল্লাহ তাআলার দান। পক্ষান্তরে যার গায়ের রং কালো কিংবা অবয়ব দৃষ্টিনন্দন নয়, সেও তিরস্কৃত নয়; বরং এটাও আল্লাহ তাআলারই কুদরত।
এর চেয়ে বড় বিষয় হলো—যা সকল আকৃতির মানুষের জন্য মানদণ্ড—আল্লাহ তাআলার কাছে রূপের সৌন্দর্যই আসল সৌন্দর্য নয়; বরং ঈমান এবং আমলের সৌন্দর্যই প্রকৃত সৌন্দর্য। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
إِنَّ الله لا يَنْظُرُ إِلى أَجْسامِكْم، وَلا إِلى صُوَرِكُمْ، وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ ” رواه مسلم.
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের দেহাবয়ব এবং রূপের সৌন্দর্য দেখেন না; তিনি দেখেন তোমাদের হৃদয়ের সৌন্দর্য। কাজেই আমাদের উচিত চেহারা ও দেহাবয়বের সৌন্দর্যের প্রতি অধিক মনোনিবেশ না করে আত্মিক সৌন্দর্য হাসিলে ব্রতী হওয়া।
শরিয়ত যেহেতু তালাকের অনুমোদন রেখেছে, তাই আপনি চাইলে তালাক দিতেই পারেন; কিন্তু একটা বিষয় কি ভেবে দেখেছেন যে, আপনি নিশ্চয়ই নিজে দেখে কিংবা পরিবারের দেখার ওপর ভিত্তি করে বিয়ে করেছেন এবং সেই স্ত্রীর সাথেই সংসার করেছেন! এখন কেবল স্ত্রীর সৌন্দর্যের কারণে তালাক দেওয়াটা কি আপনার কাছে মানবিক?
হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে,
حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مُعَرِّفِ بْنِ وَاصِلٍ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” أَبْغَضُ الْحَلاَلِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى الطَّلاَقُ ”
কাসীর ইবনে উবাইদ ….. ইবনে উমর (রাযি.) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলার নিকট নিকৃষ্টতম হালাল বস্তু হলো তালাক। (আবু দাউদ : হাদিস নং ২১৭৮, সুনানে ইবনে মাজা’ হাদিস নং: ২০১৮)
তালাকের ভয়াবহতা সম্পর্কে হযরত আলী (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা বিয়ে কর কিন্তু তালাক দিয়ো না। কেননা তালাক দিলে তার কারণে আল্লাহ তায়ালার আরশ কেঁপে ওঠে।’ (তাফসিরে কুরতুবি)
আরেকটা প্রশ্ন, আপনার স্ত্রীর মাঝে কি এমন কোনো ভালো গুণ নেই, যার কারণে আপনি তার প্রতি আকৃষ্ট থাকতে পারেন? তার কাজকর্ম, আন্তরিকতা, আচার-ব্যবহার, আপনার যত্ন নেওয়া ইত্যাদি কোনো গুণের কারণেই কি আপনি তাকে রাখতে পারেন না?
বিষয়গুলো ভেবে দেখুন। প্রয়োজনে পরিবারের মুরব্বিদের সঙ্গে আলাপ করুন। তারপর বুঝে-শুনে ধীরে-সুস্থে সিদ্ধান্ত নিন। কেননা তালাক কোনো তাড়াহুড়োর বিষয় নয়; বরং বিবাহের চেয়েও তালাকে সময় নিতে হয় বেশি।
সার্বিক বিষয় চিন্তা করে তারপর সিদ্ধান্তে পা বাড়াবেন। আল্লাহ তাআলা তাওফিক দান করুন। আমিন।
Tareq Jamil 





































