ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার্টিফিকেটে বয়স কমিয়ে লেখা কি জায়েজ? যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

  • Tareq Jamil
  • আপডেট সময় : ১০:৩২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২২২ বার পড়া হয়েছে

শায়খ আহমাদুল্লাহ।

স্কুল সার্টিফিকেট, জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্টে ইচ্ছাকৃতভাবে বয়স কমিয়ে বা বাড়িয়ে লেখা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, জন্মতারিখ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করা কবিরা গুনাহ।

স্কুল সার্টিফিকেটে বয়স কমিয়ে লেখা ঠিক কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের জন্মতারিখের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি থাকে। আমি একসময় মিডল ইস্টে ছিলাম। সেখানে দেখলাম, বাংলাদেশি ভাইয়েরা ওমরা বা হজে যাবেন। তাদের হজের প্রক্রিয়ায় পাসপোর্টে জন্মতারিখের তথ্য দিতে হতো। অবাক হয়ে যেতাম, ১০০ জনের পাসপোর্টের তথ্য এন্ট্রি করলে দেখা যেত, ১০০ জনেরই জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি।

তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমেও এমন অনেক বিষয় দেখা যায়। প্রবাসে যাওয়া দরকার, কিন্তু নির্দিষ্ট বয়স না হলে ভিসা পাওয়া যাবে না। তখন বয়স বাড়িয়ে পাসপোর্ট করে ফেলে। এখন উন্নত ব্যবস্থার কারণে এসব অনিয়ম করা অনেক কঠিন হয়ে গেছে।

শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, যে চুরি করে, সে আগে থেকেই সেটা করার পরিকল্পনা করে। অনেক সময় মা-বাবা সন্তানের জন্মনিবন্ধনে বয়স কমিয়ে লেখেন, যাতে পরবর্তী সময়ে সন্তান এসবের সুবিধা পেতে পারে। মনে রাখবেন, এগুলো হারাম।

জন্মতারিখ বাড়ানো বা কমানো—দুটোকেই গুনাহের কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জন্মতারিখ বাড়িয়ে বা কমিয়ে যেভাবেই লিখুন না কেন, এটা কবিরা গুনাহ। যে মা-বাবা নিজের সন্তানের জন্মতারিখ ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে বা বাড়িয়ে লেখেন, তারা সন্তানের জীবনের শুরুতেই মিথ্যার একটি ভিত্তি তৈরি করে দিচ্ছেন। সেই সন্তান ভালো মানুষ হবে কীভাবে? সেই সন্তানের কাছে কীভাবে আশা করা যায়, সে বাবা-মায়ের সেবা করবে? কারণ, আপনি নিজেই তাকে সততার শিক্ষা দেননি।

শিক্ষকদেরও এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষকও শিক্ষার্থীর সুবিধা অনুযায়ী স্কুলের কাগজপত্রে জন্মতারিখ বসিয়ে দেন। এটাও গুনাহের কাজ।

 

তিনি আরও বলেন, একবার এটা করলে সারা জীবন এই মিথ্যা বয়ে বেড়াতে হয়। এমনকি কবরেও এটা নিয়ে যেতে হয়—সামান্য একটু সুবিধার জন্য। ঈমানদার কখনো মিথ্যাবাদী হতে পারে না।

 

জন্মতারিখের তথ্য পরিবর্তনের বিষয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, জন্মের তারিখ জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাসনদ কিংবা পাসপোর্টে—যেখানেই হোক না কেন, ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করা যাবে না।

তবে কোনো ব্যক্তির জন্মতারিখ সংরক্ষণ করা না থাকলে করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি কোনো কারণে জন্মতারিখ সংরক্ষণ করা না হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে যেটা সবচেয়ে বেশি অনুমানযোগ্য, সেটা দেওয়া যেতে পারে। তবে জেনে-বুঝে জন্মতারিখ পরিবর্তন করা কবিরা গুনাহ।

মিথ্যা জন্মতারিখ ব্যবহার করে চাকরি নিলে সেই চাকরির উপার্জন হালাল হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে যদি আপনার উপার্জন হালাল হয়ে থাকে, তাহলে হ্যাঁ, হবে। কিন্তু আপনি যে গুনাহ করেছেন, তার জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হবে।

ইসলাম ধর্ম   শায়খ আহমাদুল্লাহ

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের মামলায় নিজেই লড়তে চান শামসুল হক টুকু

সার্টিফিকেটে বয়স কমিয়ে লেখা কি জায়েজ? যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

আপডেট সময় : ১০:৩২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্কুল সার্টিফিকেট, জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্টে ইচ্ছাকৃতভাবে বয়স কমিয়ে বা বাড়িয়ে লেখা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, জন্মতারিখ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করা কবিরা গুনাহ।

স্কুল সার্টিফিকেটে বয়স কমিয়ে লেখা ঠিক কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের জন্মতারিখের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি থাকে। আমি একসময় মিডল ইস্টে ছিলাম। সেখানে দেখলাম, বাংলাদেশি ভাইয়েরা ওমরা বা হজে যাবেন। তাদের হজের প্রক্রিয়ায় পাসপোর্টে জন্মতারিখের তথ্য দিতে হতো। অবাক হয়ে যেতাম, ১০০ জনের পাসপোর্টের তথ্য এন্ট্রি করলে দেখা যেত, ১০০ জনেরই জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি।

তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমেও এমন অনেক বিষয় দেখা যায়। প্রবাসে যাওয়া দরকার, কিন্তু নির্দিষ্ট বয়স না হলে ভিসা পাওয়া যাবে না। তখন বয়স বাড়িয়ে পাসপোর্ট করে ফেলে। এখন উন্নত ব্যবস্থার কারণে এসব অনিয়ম করা অনেক কঠিন হয়ে গেছে।

শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, যে চুরি করে, সে আগে থেকেই সেটা করার পরিকল্পনা করে। অনেক সময় মা-বাবা সন্তানের জন্মনিবন্ধনে বয়স কমিয়ে লেখেন, যাতে পরবর্তী সময়ে সন্তান এসবের সুবিধা পেতে পারে। মনে রাখবেন, এগুলো হারাম।

জন্মতারিখ বাড়ানো বা কমানো—দুটোকেই গুনাহের কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জন্মতারিখ বাড়িয়ে বা কমিয়ে যেভাবেই লিখুন না কেন, এটা কবিরা গুনাহ। যে মা-বাবা নিজের সন্তানের জন্মতারিখ ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে বা বাড়িয়ে লেখেন, তারা সন্তানের জীবনের শুরুতেই মিথ্যার একটি ভিত্তি তৈরি করে দিচ্ছেন। সেই সন্তান ভালো মানুষ হবে কীভাবে? সেই সন্তানের কাছে কীভাবে আশা করা যায়, সে বাবা-মায়ের সেবা করবে? কারণ, আপনি নিজেই তাকে সততার শিক্ষা দেননি।

শিক্ষকদেরও এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষকও শিক্ষার্থীর সুবিধা অনুযায়ী স্কুলের কাগজপত্রে জন্মতারিখ বসিয়ে দেন। এটাও গুনাহের কাজ।

 

তিনি আরও বলেন, একবার এটা করলে সারা জীবন এই মিথ্যা বয়ে বেড়াতে হয়। এমনকি কবরেও এটা নিয়ে যেতে হয়—সামান্য একটু সুবিধার জন্য। ঈমানদার কখনো মিথ্যাবাদী হতে পারে না।

 

জন্মতারিখের তথ্য পরিবর্তনের বিষয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, জন্মের তারিখ জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাসনদ কিংবা পাসপোর্টে—যেখানেই হোক না কেন, ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করা যাবে না।

তবে কোনো ব্যক্তির জন্মতারিখ সংরক্ষণ করা না থাকলে করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি কোনো কারণে জন্মতারিখ সংরক্ষণ করা না হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে যেটা সবচেয়ে বেশি অনুমানযোগ্য, সেটা দেওয়া যেতে পারে। তবে জেনে-বুঝে জন্মতারিখ পরিবর্তন করা কবিরা গুনাহ।

মিথ্যা জন্মতারিখ ব্যবহার করে চাকরি নিলে সেই চাকরির উপার্জন হালাল হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে যদি আপনার উপার্জন হালাল হয়ে থাকে, তাহলে হ্যাঁ, হবে। কিন্তু আপনি যে গুনাহ করেছেন, তার জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হবে।

ইসলাম ধর্ম   শায়খ আহমাদুল্লাহ