ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতুর টুল বক্সের উভয় পাশে যানজট

  • মো. জিয়া উদ্দিন
  • আপডেট সময় : ০৫:৫০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ২৫৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের প্রবেশ পথ তথা কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকায় দীর্ঘ যানজট, যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ। উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলেছেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোসলেহ উদ্দিন।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের শুরুতে কর্ণফুলী নদীর উপর শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ)’র টুল বক্সের উভয় পাশে প্রতি ছুটির দিন তথা বৃহস্পতি, শুক্র, শনিবার সকাল ও বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়তে হয়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক প্রতি ছুটির দিনে এ ধরণের দুর্ভোগে পরেন হাজার হাজার ঘরমুখো মানুষ। নতুন ব্রিজ থেকে পটিয়া সড়কে যানজটের তীব্রতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যানবাহন চালক ও যাত্রীরা।

এর মধ্যে আটকে থাকে রোগীবাহি অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন জরুরি কাজে ব্যবহৃত পরিবহন। বিশেষ করে মইজ্জ্যারটেক এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার, পাশাপাশি টুলবক্সে টুল আদায়ে সময় ক্ষেপনের কারণে এ ধরণের যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে চালকেরা অভিযোগ করেন।

শিক্ষক আকতার জমির খাঁন নামের এক যাত্রী বলেছেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার কর্ণফুলী নতুন ব্রিজ। এই ব্রিজ দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ কক্সবাজার, বান্দরবান, দেশের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী টেকনাফের শত শত যাত্রী প্রতিদিন চট্টগ্রামসহ দূর-দূরান্তের গন্তব্যে আসা যাওয়া করে থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই ব্রিজের মুখে গোলচত্বরে ও মইজ্জ্যারটেকে যানবাহনের চাপ পড়ে, পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থার কারণে প্রায় সময় যানজট লেগেই থাকে। বন্ধের দিনে ট্রাফিক পুলিশের দেখা মিলে না।

যানজটের কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় শিশু-বৃদ্ধ ও রোগীদের। পটিয়া-সাতকানিয়া রোডের ফিটনেসবিহীন অসংখ্য লোকাল বাসের কারণে প্রতিদিন যানজটের শিকার হচ্ছে সাধারণ যাত্রীরা। ট্রাফিক পুলিশকে আরো দায়িত্বশীল হয়ে নতুন ব্রিজের গোলচত্বর ও মইজ্জ্যারটেক এলাকায় যানজট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্তরা জানালেন, প্রতিদিন পালা করে গোলচত্বর এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়ে যায়। ফলে যানবাহনের চাপও বাড়ে।

অনেকে নিয়ম না মেনে আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামে, সড়কের পাশে পার্কিং করে ফলে যানজট সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রামে শাহ আমানত সেতু তথা নতুন ব্রিজে যানজট কমাতে আরও ২টি টোল লেন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। এটি হলে ১০টি টোল লেন হবে। নতুন টোল লেন দুটি নির্মাণ শেষে ব্যবহার শুরু হলে টোল প্লাজা যানজটমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোসলেহ উদ্দিন।

জানা যায়, ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শাহ আমানত সেতু চালু হওয়ার সময় ৩টি করে উভয় পাশে ৬টি লেন নিয়ে সেতুর কার্যক্রম চালু হয়। সেতুর ওপর যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ৩ বছর পূর্বে টোল প্লাজার দুই পাশের অযান্ত্রিক যান চলাচলের জন্য রাখা ফ্রি টোল লেন দুটির পরিসর বাড়িয়ে ছোট যানবাহন চলাচলের উপযোগি করা হয়। ফলে সেতুর টোল প্লাজার দুই পাশে ৪টি করে ৮টি বুথ চলমান রয়েছে।

তারপরও প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের কারণে যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ফলে টোল প্লাজায় যানজট ও জনভোগান্তি কমাতে আরও ২টি টোল লেন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষ। আগামী জানুয়রী মাসে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সওজ চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোসলেহ উদ্দিন বলেছেন, শাহ আমানত সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় এখন নিয়মিত যানজট হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে গাড়ির জট বেড়ে যায়। এ যানজট নিরসনে টোল প্লাজার দুই পাশে আরও ২টি লেন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতুর টুল বক্সের উভয় পাশে যানজট

আপডেট সময় : ০৫:৫০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের প্রবেশ পথ তথা কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকায় দীর্ঘ যানজট, যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ। উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলেছেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোসলেহ উদ্দিন।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের শুরুতে কর্ণফুলী নদীর উপর শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ)’র টুল বক্সের উভয় পাশে প্রতি ছুটির দিন তথা বৃহস্পতি, শুক্র, শনিবার সকাল ও বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়তে হয়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক প্রতি ছুটির দিনে এ ধরণের দুর্ভোগে পরেন হাজার হাজার ঘরমুখো মানুষ। নতুন ব্রিজ থেকে পটিয়া সড়কে যানজটের তীব্রতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যানবাহন চালক ও যাত্রীরা।

এর মধ্যে আটকে থাকে রোগীবাহি অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন জরুরি কাজে ব্যবহৃত পরিবহন। বিশেষ করে মইজ্জ্যারটেক এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার, পাশাপাশি টুলবক্সে টুল আদায়ে সময় ক্ষেপনের কারণে এ ধরণের যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে চালকেরা অভিযোগ করেন।

শিক্ষক আকতার জমির খাঁন নামের এক যাত্রী বলেছেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার কর্ণফুলী নতুন ব্রিজ। এই ব্রিজ দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ কক্সবাজার, বান্দরবান, দেশের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী টেকনাফের শত শত যাত্রী প্রতিদিন চট্টগ্রামসহ দূর-দূরান্তের গন্তব্যে আসা যাওয়া করে থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই ব্রিজের মুখে গোলচত্বরে ও মইজ্জ্যারটেকে যানবাহনের চাপ পড়ে, পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থার কারণে প্রায় সময় যানজট লেগেই থাকে। বন্ধের দিনে ট্রাফিক পুলিশের দেখা মিলে না।

যানজটের কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় শিশু-বৃদ্ধ ও রোগীদের। পটিয়া-সাতকানিয়া রোডের ফিটনেসবিহীন অসংখ্য লোকাল বাসের কারণে প্রতিদিন যানজটের শিকার হচ্ছে সাধারণ যাত্রীরা। ট্রাফিক পুলিশকে আরো দায়িত্বশীল হয়ে নতুন ব্রিজের গোলচত্বর ও মইজ্জ্যারটেক এলাকায় যানজট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্তরা জানালেন, প্রতিদিন পালা করে গোলচত্বর এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়ে যায়। ফলে যানবাহনের চাপও বাড়ে।

অনেকে নিয়ম না মেনে আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামে, সড়কের পাশে পার্কিং করে ফলে যানজট সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রামে শাহ আমানত সেতু তথা নতুন ব্রিজে যানজট কমাতে আরও ২টি টোল লেন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। এটি হলে ১০টি টোল লেন হবে। নতুন টোল লেন দুটি নির্মাণ শেষে ব্যবহার শুরু হলে টোল প্লাজা যানজটমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোসলেহ উদ্দিন।

জানা যায়, ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শাহ আমানত সেতু চালু হওয়ার সময় ৩টি করে উভয় পাশে ৬টি লেন নিয়ে সেতুর কার্যক্রম চালু হয়। সেতুর ওপর যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ৩ বছর পূর্বে টোল প্লাজার দুই পাশের অযান্ত্রিক যান চলাচলের জন্য রাখা ফ্রি টোল লেন দুটির পরিসর বাড়িয়ে ছোট যানবাহন চলাচলের উপযোগি করা হয়। ফলে সেতুর টোল প্লাজার দুই পাশে ৪টি করে ৮টি বুথ চলমান রয়েছে।

তারপরও প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের কারণে যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ফলে টোল প্লাজায় যানজট ও জনভোগান্তি কমাতে আরও ২টি টোল লেন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষ। আগামী জানুয়রী মাসে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সওজ চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোসলেহ উদ্দিন বলেছেন, শাহ আমানত সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় এখন নিয়মিত যানজট হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে গাড়ির জট বেড়ে যায়। এ যানজট নিরসনে টোল প্লাজার দুই পাশে আরও ২টি লেন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।