ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে ধানের থেকেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে খড়

দেশজুড়ে বেড়েছে গবাদিপশুর খাদ্যের দাম। এতে বিপাকে পড়েছেন পশু খামারিরা। সম্প্রতি হওয়া বন্যার কারণে খড়ের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব ধরনের খামারে।

ধান বা এ ধরনের খাদ্যশস্য মাড়াই করার পর পাওয়া এ অবশিষ্ট অংশই এখন অনেক জায়গায় ধানের থেকেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

খামারি মো. আলাউদ্দিন জানান, এবার তিনি সাড়ে ৬ লাখ টাকার খড় কিনেছেন। আগের বছর সমপরিমাণ খড় কিনতে তার খরচ হয়েছিল প্রায় ২ লাখ টাকা।

লক্ষ্মীপুরে ছোট ছোট আঁটি আকারে বিক্রি হচ্ছে খড়। বর্তমানে এক কেজি খড় বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়, এবং প্রতি মন (৪০ কেজি) খড়ের দাম দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা, যা ধানের দামের থেকেও বেশি। যেখানে এক মন ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকার কিছু বেশি দামে।

লক্ষ্মীপুরের অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ বলেন, তিনি চলতি মৌসুমে ১৬০ শতক জমিতে ধান চাষ করেছেন। তিনি আশা করছেন, তার জমিতে ৫০ হাজার টাকার ধান পাবেন। কিন্তু তিনি ইতোমধ্যে তার জমির খড় বিক্রি করে ফেলেছেন ৭০ হাজার টাকায়। গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে খামারিরা বাড়িতে এসে তার খড়ের আগাম দাম দিয়ে গেছেন।
কৃষক ফয়েজ আহমেদ জানান, গত বছর একই জমির খড় বিক্রি করেছিলেন ৫ হাজার টাকায়।

রামগতি উপজেলার কৃষক অজিতপাল জানান, তিনি ১ একর জমির খড় বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকায়, যেখানে ধান বিক্রি হয়েছে ৪৭ হাজার টাকায়।

অন্যদিকে, চর কালকিনি এলাকার কৃষক মো. মন্তাজ, যিনি প্রায় ৫০ ট্রাক খড় বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, প্রতি ট্রাকে প্রায় ১০ হাজার টাকা করে লাভ হচ্ছে তার।
কমলনগর উপজেলার সরকারি নিবন্ধিত খামারি হাজী মো. আলাউদ্দিনের জানান, প্রতিবছরের এ সময়ে এসে তিনি খড় সংগ্রহ করে রাখেন এবং এতে তার প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়। তবে চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় খড়ের দাম বেড়ে গেছে। তিনি এবার ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় গত মৌসুমের সমপরিমাণ খড় কিনেছেন।

খড়ের এমন নজিরবিহীন দাম অতীতে কখনো দেখেনি স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা। কৃষকরা খড় বিক্রি করে খুশি হলেও হতাশ পশু খামারিরা।

গোখাদ্যের তীব্র সংকটে অস্থির হয়ে পড়েছেন তারা। অনেকেই গরু বিক্রি করেতে চেয়েও পারছেন না। গরুর দামও ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

লক্ষ্মীপুরের খামারি ইউসুফের খামারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি গরু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি গরুর জন্য বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় তিনশো টাকার খড় ও খাদ্য লাগছে। এত খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব না। সবগুলো গরু বিক্রি করতে চেয়েছি। কিন্তু পাঁচ মাস পালন করার পর এখন ১৫ লাখ টাকার গরু মাত্র অর্ধেক দামে বিক্রি করতে পারব। হিসেবে করে দেখেছি, এতে আমার ৬০ ভাগের মতো ক্ষতি হচ্ছে। এখন গরু রাখতেও পারছি না আবার বিক্রিও করতে পারছি না। কাঁচা ঘাস নেই এবং খড়ের দাম খুব বেশি।

রায়পুরের খামারি আলি হাসান বলেন, খড় গরুর খাবারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু চাহিদা বাড়তে থাকায় অনেক খামারি দানাদার খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। এতে খামার পরিচালনায় খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

তবে ভুসি ও চালের গুঁড়াসহ বিভিন্ন দানাদার গোখাদ্যের দামও লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। বিভিন্ন কোম্পানির প্রতি কেজি দানাদার গোখাদ্যের দাম পড়ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়।

লাইভস্টোক সার্ভিস প্রোভাইডার সমিতির লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি মোঃ আলাউদ্দিন জানান, শুধু দানাদার খাদ্য খাওয়ালে প্রতিটি ১০০ কেজি ওজনের গরুর জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ কেজি খাদ্য লাগে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

লক্ষ্মীপুরে ধানের থেকেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে খড়

আপডেট সময় : ০৬:২৫:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪

দেশজুড়ে বেড়েছে গবাদিপশুর খাদ্যের দাম। এতে বিপাকে পড়েছেন পশু খামারিরা। সম্প্রতি হওয়া বন্যার কারণে খড়ের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব ধরনের খামারে।

ধান বা এ ধরনের খাদ্যশস্য মাড়াই করার পর পাওয়া এ অবশিষ্ট অংশই এখন অনেক জায়গায় ধানের থেকেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

খামারি মো. আলাউদ্দিন জানান, এবার তিনি সাড়ে ৬ লাখ টাকার খড় কিনেছেন। আগের বছর সমপরিমাণ খড় কিনতে তার খরচ হয়েছিল প্রায় ২ লাখ টাকা।

লক্ষ্মীপুরে ছোট ছোট আঁটি আকারে বিক্রি হচ্ছে খড়। বর্তমানে এক কেজি খড় বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়, এবং প্রতি মন (৪০ কেজি) খড়ের দাম দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা, যা ধানের দামের থেকেও বেশি। যেখানে এক মন ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকার কিছু বেশি দামে।

লক্ষ্মীপুরের অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ বলেন, তিনি চলতি মৌসুমে ১৬০ শতক জমিতে ধান চাষ করেছেন। তিনি আশা করছেন, তার জমিতে ৫০ হাজার টাকার ধান পাবেন। কিন্তু তিনি ইতোমধ্যে তার জমির খড় বিক্রি করে ফেলেছেন ৭০ হাজার টাকায়। গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে খামারিরা বাড়িতে এসে তার খড়ের আগাম দাম দিয়ে গেছেন।
কৃষক ফয়েজ আহমেদ জানান, গত বছর একই জমির খড় বিক্রি করেছিলেন ৫ হাজার টাকায়।

রামগতি উপজেলার কৃষক অজিতপাল জানান, তিনি ১ একর জমির খড় বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকায়, যেখানে ধান বিক্রি হয়েছে ৪৭ হাজার টাকায়।

অন্যদিকে, চর কালকিনি এলাকার কৃষক মো. মন্তাজ, যিনি প্রায় ৫০ ট্রাক খড় বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, প্রতি ট্রাকে প্রায় ১০ হাজার টাকা করে লাভ হচ্ছে তার।
কমলনগর উপজেলার সরকারি নিবন্ধিত খামারি হাজী মো. আলাউদ্দিনের জানান, প্রতিবছরের এ সময়ে এসে তিনি খড় সংগ্রহ করে রাখেন এবং এতে তার প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়। তবে চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় খড়ের দাম বেড়ে গেছে। তিনি এবার ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় গত মৌসুমের সমপরিমাণ খড় কিনেছেন।

খড়ের এমন নজিরবিহীন দাম অতীতে কখনো দেখেনি স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা। কৃষকরা খড় বিক্রি করে খুশি হলেও হতাশ পশু খামারিরা।

গোখাদ্যের তীব্র সংকটে অস্থির হয়ে পড়েছেন তারা। অনেকেই গরু বিক্রি করেতে চেয়েও পারছেন না। গরুর দামও ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

লক্ষ্মীপুরের খামারি ইউসুফের খামারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি গরু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি গরুর জন্য বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় তিনশো টাকার খড় ও খাদ্য লাগছে। এত খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব না। সবগুলো গরু বিক্রি করতে চেয়েছি। কিন্তু পাঁচ মাস পালন করার পর এখন ১৫ লাখ টাকার গরু মাত্র অর্ধেক দামে বিক্রি করতে পারব। হিসেবে করে দেখেছি, এতে আমার ৬০ ভাগের মতো ক্ষতি হচ্ছে। এখন গরু রাখতেও পারছি না আবার বিক্রিও করতে পারছি না। কাঁচা ঘাস নেই এবং খড়ের দাম খুব বেশি।

রায়পুরের খামারি আলি হাসান বলেন, খড় গরুর খাবারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু চাহিদা বাড়তে থাকায় অনেক খামারি দানাদার খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। এতে খামার পরিচালনায় খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

তবে ভুসি ও চালের গুঁড়াসহ বিভিন্ন দানাদার গোখাদ্যের দামও লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। বিভিন্ন কোম্পানির প্রতি কেজি দানাদার গোখাদ্যের দাম পড়ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়।

লাইভস্টোক সার্ভিস প্রোভাইডার সমিতির লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি মোঃ আলাউদ্দিন জানান, শুধু দানাদার খাদ্য খাওয়ালে প্রতিটি ১০০ কেজি ওজনের গরুর জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ কেজি খাদ্য লাগে।