২০১০ সালে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার। জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাদের গ্রেফতার করা হয় সে সময় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতারা তাদের পক্ষে ওকালতি করার জন্য ব্রিটিশ নাগরিক টবি ক্যাডম্যানকে বাংলাদেশে আনতে চেয়েছিলেন। তারা মনে করেছিলেন টবি ক্যাডম্যান ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য তাদের পক্ষে কাজ করতে পারেন। তবে, তখনকার শেখ হাসিনা সরকার টবি ক্যাডম্যানকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও সরকার তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।
এরপর, ছাত্রদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। পরে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পান টবি ক্যাডম্যান।
টবি ক্যাডম্যান একজন আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে পরিচিত, এবং সম্প্রতি ২১ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশ সরকারের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পান। এই বিষয়টি তিনি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন, যেখানে তিনি জানান, তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল প্রসিকিউটর অ্যাডভাইজর হিসেবে নিযুক্ত হয়ে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছেন।
এছাড়া, গের্নিকা ৩৭ চেম্বারস ল’ ফার্মের সহ-প্রতিষ্ঠাতা টবি ক্যাডম্যান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত সব বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরকে পরামর্শ দেবেন বলে উল্লেখ করা হয়।
২০১৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) তদন্তের জন্য একটি আবেদন করেছিলেন টবি ক্যাডম্যান, যা ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিশন ফর ফ্রিডমস অ্যান্ড রাইটস নামের তুর্কি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষে ছিল।
এদিকে, ২০১১ সালে যখন তিনি জামায়াত নেতাদের পরামর্শ দিতে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করেন, তখন শেখ হাসিনার সরকার তাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। তবে, আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয় এবং সে সাক্ষাতের খবর সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস প্রকাশ করে।
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 





































