লক্ষ্মীপুরে দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ফাঁদ পেতে সাবেক সেনা সদস্য আব্দুল মালেককে ফাঁসানোর চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে তাকবীর হোসেন নামে এক বখাটের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে তাকবীরের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ করেন মালেক।
অভিযুক্ত তাকবীর লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর এলাকার মো. মফিজের ছেলে। অভিযোগকারী মালেক পশ্চিম লক্ষ্মীপুর এলাকার মৃত আব্দুল হকের ছেলে ও সেনাবাহিনীর ১৬তম ব্যাচের সাবেক সদস্য।
অভিযোগ সূত্র জানায়, মালেক সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে গিয়ে চাকরির উদ্দেশ্যে বিদেশ পাড়ি দেয়। সবশেষ তিনি কুয়েত প্রবাসী ছিলেন। স্ত্রী না থাকায় তিনি বাড়িতে একাই বসবাস করেন। এরমধ্যে তার কাছ থেকে অভিযুক্ত তাকবীরসহ একটি চক্র মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। ওই টাকা না দেওয়ায় গত ২৯ জুলাই তার বাসায় আসে তাকবীর। এসময় তাকবীর কৌশলে মাদকদ্রব্য সেবন করায়। পরে আরও ২-৩ জন লোক বাসায় ঢুকে ছুরি ঠেকিয়ে তাদের কথামতো (এক নারীকে ধর্ষণ) বক্তব্য দিতে বলে। ওই বক্তব্য মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে তারা। বক্তব্যটি ফাঁস করে দেওয়ার কথা বলে তাকবীর তার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। এরমধ্যে গত ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তাকে দালাল বাজার এলাকায় ডেকে নিয়ে ওই রেকর্ডিংটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে তারা নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মামলার হুমকি দেয় ভুক্তভোগী মালেককে।
আব্দুল মালেক বলেন, তাকবীর আমাকে মাদকমিশ্রিত সিগারেট সেবন করায়। পরে আমাকে ছুরি ঠেকিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের বিষয়ে বক্তব্য নেয়। সিগারেটটি সেবনের পর আমি স্বজ্ঞানে ছিলাম না।
তিনি অভিযোগ করেন, তাকবীর বখাটে ও মাদকসেবী।সে ফাঁদ পেতে আমার কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযুক্ত তাকবীর হোসেন বলেন, আব্দুল মালেকের একটি বক্তব্য রেকর্ড করেছি। আমার এক আত্মীয় নারীকে ধর্ষণের কথা সে আমার কাছে স্বীকার করেছে। তাছাড়া ওই নারীর মৃত স্বামী আমাকে ‘স্বপ্ন’ দেখিয়েছে এ ঘটনার মিমাংসা করার জন্য। তাই আমি মালেকের বড় ভাইকে ঘটনাটি জানিয়েছি। কিন্তু তারা আমার কথার কোন পাত্তা দেয়নি। এ বিষয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ সত্য নয়। উল্টো বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আমাকে আর্থিক প্রলোভন দিয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ বলেন, চাঁদা দাবির একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোঃ নিজাম উদ্দিন 




































