হ্যাঁ, তবে একটি কথা বুঝতে হবে।
তা হচ্ছে, হাদিসে ‘হুব্বে জাহ’-এর অর্থ বলা হয়েছে ‘সম্মান ও পদমর্যাদার লোভ। আর লোভ কাকে বলা হয়? তা হচ্ছে পদমর্যাদা অর্জনের প্রতি সীমাতিরিক্ত লালসা। ইসলামে ‘হুব্বে জাহ’ থেকে নিষেধ করার অর্থ এই নয় যে অযথা নিজের সত্তাকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করার নির্দেশ রয়েছে। এমন কথা ও কাজ করাও ইসলামে নিষিদ্ধ, যার কারণে নিজেকে মানুষের সামনে লাঞ্ছনা ভোগ করতে হয়, অপমানিত হতে হয়।
প্রয়োজনে পদমর্যাদা গ্রহণ দোষণীয় নয়
তবে কিছু অবস্থা ও প্রেক্ষাপট এ বিধান থেকে ব্যতিক্রম। হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রাসুলুুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে আরজ করল, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন আমানত হারিয়ে যাবে, তখন তুমি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার অপেক্ষা করো। সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন : আমানত কিভাবে হারিয়ে যাবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো দায়িত্ব অনুপযুক্ত ব্যক্তিকে ন্যস্ত করা হবে, তুমি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার অপেক্ষা কোরো। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯)
এখন যদি কোনো এমন দ্বিনি কাজ সামনে আসে, যা আমি সুন্দরভাবে আঞ্জাম দিতে সক্ষম হবো এবং সেখানে আর অন্য এমন কেউ নেই যে তা ভালোভাবে আঞ্জাম দিতে পারে, তখন যদি কেউ আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা করে ওই দায়িত্ব গ্রহণ করে, তাহলে কোনো অসুবিধা নেই, ইনশাআল্লাহ। যেমন—কোনো মসজিদে নামাজের সময় পৌঁছে দেখল যে সেখানে নামাজের ইমামতি করার মতো অন্য আলেম বা কারি লোক উপস্থিত নেই, তাহলে এখানে বিনয় অবলম্বনের প্রয়োজন নেই; বরং বলে দিন আপনারা দাঁড়ান, আমি নামাজ পড়িয়ে দিচ্ছি।
ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁকে এমনই রাজত্ব দান করেছিলেন, তাঁর রাজত্ব জলে-স্থলে, আকাশে-বাতাসে ও প্রাণীজগৎসহ সব সৃষ্টির রাজত্ব দান করেছিলেন। তাই কোথাও যদি এমন কোনো দ্বিনি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সামনে এসে যায়, যা নিজের প্রবৃত্তি পূরণের নিয়ত না হয় এবং তা গ্রহণ না করার কারণে দ্বিনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে নিজে তা গ্রহণ করার আবেদন করতে পারে। তদ্রূপ নিজে তাতে সক্ষম হলে ওই দায়িত্ব গ্রহণেও কোনো আপত্তি নেই।
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 





































