ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জোসেফসন জংশন আসলে কী?

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:২০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৪
  • ২৫৬ বার পড়া হয়েছে

বিদ্যুৎ প্রবাহ মূলত ইলেকট্রনের প্রবাহ। কোনো পরিবাহী তারের দুই প্রান্তে বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করা হলে তারের ভেতর দিয়ে ইলেকট্রনগুলো চলতে শুরু করে। এরা পরমাণুর শেষ কক্ষপথের মুক্ত ইলেকট্রন। বেশি তাপমাত্রায় এই চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।

তাপমাত্রা নির্দিষ্ট মাত্রায় কমালে ঘটে বিস্ময়কর ঘটনা। সেক্ষেত্রে পরিবাহকের রোধ শুধু কমেই না, একেবারে শূন্যে নেমে আসে। ফলে বস্তু বিদ্যুৎ প্রবাহ করতে পারে কোনো বিভব পার্থক্য ছাড়াই। বনে যায় অতিপরিবাহক বা সুপারকনডাক্টর।

সুপারকনডাক্টরে ইলেকট্রন একক নয়, বরং জোড় বেঁধে বিদ্যুৎ পরিবহন করে। এই জোড়ের নাম কুপার পেয়ার। কুপার পেয়ার এক ধরনের বোসন কণা। বোসন শব্দটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সত্যেন বোসের নামানুসারে রাখা।

সাল ১৯৬২ ইংরেজ পদার্থবিদ ব্রায়ান জোসেফসন সুপারকনডাক্টরের একটা অজানা আচরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, কুপার পেয়ার সাধারণ ইলেকট্রনের মতো টানেলিং করতে পারে। কোয়ান্টাম বিজ্ঞানে অতিপারমাণবিক কণা একটা দেয়াল বা শক্তির বাধা অনায়াসে টপকে যেতে পারে। এই ঘটনাকে বলে টানেলিং।

জোসেফসন দেখান, দুটো সুপারকনডাক্টরের মাঝে একটা অন্তরক বা ইনসুলেটর রাখা হলে কুপার পেয়ার সেটার ভেতরে সহজেই টানেলিং করতে পারে। ক্লাসিকাল বিজ্ঞানে যা চিন্তাও করা যায় না। জোসেফসনের এই বন্দোবস্তকে বলা হয় জোসেফসন জংশন। আর কুপার পেয়ারের এই আচরণকে বলা হয় জোসেফসন ইফেক্ট।
বর্তমানে জোসেফসন জাংশানের নানান ব্যবহার দেখা যায়। সুপারকনডাক্টিং ইলেকট্রনিকস, উন্নত ভোল্টমিটার তো আছেই; কোয়ান্টাম কম্পিউটারেরও অনবদ্য অংশ এটি।

একটা সুপারকনডাক্টিং কোয়ান্টাম ইন্টারফেরেন্স যন্ত্র (SQUIDs) আমাদের মস্তিষ্ক থেকে তৈরি হওয়া ছোট ছোট চুম্বক ক্ষেত্র শনাক্ত করতে পারে।

যদি দুটো সুপারকনডাক্টর বা অতিপরিবাহী বস্তুকে সামান্য দূরত্বে রাখা হয়, তখনও এদের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। কোয়ান্টাম টানেলিংই এই ঘটনার কারণ।

জোসেফসন ইফেক্ট প্রয়োগ করে অত্যন্ত দ্রুতগতির লজিক গেট তৈরি করা সম্ভব। যা দ্বারা বিজ্ঞানীরা সাধারণ কম্পিউটারের চেয়ে আরও শক্তিশালী কম্পিউটার তৈরির চেষ্টা করছেন। জোসেফসন জাংশানের একটা বিশেষ দিক হলো, এটি দু-মুখো বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি করতে পারে। এই সুবিধা কোয়ান্টাম কম্পিউটারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

সম্পর্কিত তত্ত্ব
কোয়ান্টাম টানেলিং
কিউবিট
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং
সুপারকনডাক্টর

বিজ্ঞানী
লিও এসাকি এবং ইভার ইয়্যাভার
১৯২৫—বর্তমান এবং ১৯২৯—বর্তমান
যথাক্রমে জাপানি এবং নরওয়ের পদার্থবিদ, ইলেকট্রনের টানেলিং গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ব্রায়ান জোসেফসনের সাথে ১৯৭৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

জোসেফসন জংশন আসলে কী?

আপডেট সময় : ০২:২০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৪

বিদ্যুৎ প্রবাহ মূলত ইলেকট্রনের প্রবাহ। কোনো পরিবাহী তারের দুই প্রান্তে বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করা হলে তারের ভেতর দিয়ে ইলেকট্রনগুলো চলতে শুরু করে। এরা পরমাণুর শেষ কক্ষপথের মুক্ত ইলেকট্রন। বেশি তাপমাত্রায় এই চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।

তাপমাত্রা নির্দিষ্ট মাত্রায় কমালে ঘটে বিস্ময়কর ঘটনা। সেক্ষেত্রে পরিবাহকের রোধ শুধু কমেই না, একেবারে শূন্যে নেমে আসে। ফলে বস্তু বিদ্যুৎ প্রবাহ করতে পারে কোনো বিভব পার্থক্য ছাড়াই। বনে যায় অতিপরিবাহক বা সুপারকনডাক্টর।

সুপারকনডাক্টরে ইলেকট্রন একক নয়, বরং জোড় বেঁধে বিদ্যুৎ পরিবহন করে। এই জোড়ের নাম কুপার পেয়ার। কুপার পেয়ার এক ধরনের বোসন কণা। বোসন শব্দটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সত্যেন বোসের নামানুসারে রাখা।

সাল ১৯৬২ ইংরেজ পদার্থবিদ ব্রায়ান জোসেফসন সুপারকনডাক্টরের একটা অজানা আচরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, কুপার পেয়ার সাধারণ ইলেকট্রনের মতো টানেলিং করতে পারে। কোয়ান্টাম বিজ্ঞানে অতিপারমাণবিক কণা একটা দেয়াল বা শক্তির বাধা অনায়াসে টপকে যেতে পারে। এই ঘটনাকে বলে টানেলিং।

জোসেফসন দেখান, দুটো সুপারকনডাক্টরের মাঝে একটা অন্তরক বা ইনসুলেটর রাখা হলে কুপার পেয়ার সেটার ভেতরে সহজেই টানেলিং করতে পারে। ক্লাসিকাল বিজ্ঞানে যা চিন্তাও করা যায় না। জোসেফসনের এই বন্দোবস্তকে বলা হয় জোসেফসন জংশন। আর কুপার পেয়ারের এই আচরণকে বলা হয় জোসেফসন ইফেক্ট।
বর্তমানে জোসেফসন জাংশানের নানান ব্যবহার দেখা যায়। সুপারকনডাক্টিং ইলেকট্রনিকস, উন্নত ভোল্টমিটার তো আছেই; কোয়ান্টাম কম্পিউটারেরও অনবদ্য অংশ এটি।

একটা সুপারকনডাক্টিং কোয়ান্টাম ইন্টারফেরেন্স যন্ত্র (SQUIDs) আমাদের মস্তিষ্ক থেকে তৈরি হওয়া ছোট ছোট চুম্বক ক্ষেত্র শনাক্ত করতে পারে।

যদি দুটো সুপারকনডাক্টর বা অতিপরিবাহী বস্তুকে সামান্য দূরত্বে রাখা হয়, তখনও এদের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। কোয়ান্টাম টানেলিংই এই ঘটনার কারণ।

জোসেফসন ইফেক্ট প্রয়োগ করে অত্যন্ত দ্রুতগতির লজিক গেট তৈরি করা সম্ভব। যা দ্বারা বিজ্ঞানীরা সাধারণ কম্পিউটারের চেয়ে আরও শক্তিশালী কম্পিউটার তৈরির চেষ্টা করছেন। জোসেফসন জাংশানের একটা বিশেষ দিক হলো, এটি দু-মুখো বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি করতে পারে। এই সুবিধা কোয়ান্টাম কম্পিউটারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

সম্পর্কিত তত্ত্ব
কোয়ান্টাম টানেলিং
কিউবিট
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং
সুপারকনডাক্টর

বিজ্ঞানী
লিও এসাকি এবং ইভার ইয়্যাভার
১৯২৫—বর্তমান এবং ১৯২৯—বর্তমান
যথাক্রমে জাপানি এবং নরওয়ের পদার্থবিদ, ইলেকট্রনের টানেলিং গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ব্রায়ান জোসেফসনের সাথে ১৯৭৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান।