ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ বছর সূত্রাপুরে খাজনা নেয় না সরকার, এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:২৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৪
  • ২৭৯ বার পড়া হয়েছে

অবিলম্বে সূত্রাপুর মৌজার ভূমি অবমুক্ত করা এবং স্বৈরাচার সরকার কর্তৃক ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০১১ সালের জারিকৃত অবৈধ পরিপত্রটি প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে পুরনো ঢাকা নাগরিক কমিটি। পাশাপাশি পুনরায় খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর নেওয়ার জন্য পুরনো ঢাকার ভুক্তভোগী অধিবাসীরা বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয় ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পুরানো ঢাকার সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, ওয়ারী, শ্যামপুর, কোতয়ালী ও এর আশপাশ থানাধীন এলাকা সমূহের এক বিরাট অংশের প্রায় ৩০ লক্ষাধিক মানুষ তাদের বাড়িঘর, জায়গা-জমি ও পৈত্রিক সম্পত্তির নামজারী করতে পারছে না।

অথচ তাদের এসএ, সিএস, আরএস ও সর্ব শেষ সিটি জরিপের পর্চায় তাদের নিজের অথবা বাবা, দানা বা পৈত্রিকদের নামে রেকর্ডও রয়েছে।

সরকার খাজনা না নেওয়ায় বিগত ১৩ বছর ধরে তারা মহাবিপদে ও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার লক্ষে ২০১১ সালে ৭০-৮০ বছর পর সাবেক শহর ঢাকা হালে সূত্রাপুর মৌজার ৫৪৮ তৌজির ৩০ লক্ষাধিক মানুষের স্ব স্ব বাড়িঘর, জায়গা-জমি ও সম্পত্তিকে অবৈধভাবে খাসমহল ও লীজের নামে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে নামজারী ও খাজনা নেওয়া বন্ধ করে রেখেছে।

ফলে পুরনো ঢাকার ৩০ লক্ষাধিক মানুষ তাদের বাড়ি ও জমি এবং পৈত্রিক সম্পত্তি সমূহের নামজারী করতে পারছে না, খাজনাও জমা নিচ্ছে না।

জমি হস্তান্তর, জমি ক্রনা- বিক্রয় ও রেজিষ্ট্রী করতে পারছে না। এমনকি পিতা-মাতার মৃত্যুর পর ওভারিশরা বাড়িঘরের ভাগাভাগি বা বন্টননামা, হেবা রেজিস্ট্রিও  করতে পারছে না।

এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্লান পাশও করছে না। নিজ জমিতে ভবণ নির্মাণ করতে পারেন না এবং ব্যাংক থেকে ঋণও নেওয়া যায় না এই এলাকার বাসিন্দারা।

ফলে পুরান ঢাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারও হচ্ছে না এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চরমভাবে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। ভূমির নামজারী না করা এবং ভূমি উন্নয়ন কর না নেওয়ার কারণে সরকার নিজেও প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

২০১১ সালের পর থেকে ডেভেলপার কম্পানীগুলো ঋণ নিয়ে এ এলাকাতে ফ্ল্যাটবাড়ি তৈরী করেছে। এখন তারা ঋণের বোঝায় জর্জরিত। তারা শুধু বিপদে নয়, প্রচুরভাবে ক্ষতিগ্রস্থও।

বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য, পুরান ঢাকার ৩০ লক্ষাধিক মানুষ তাদের ভূমির খাজনা যুগ যুগ ধরে পরিশোধ করে আসছে। ২০১১ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধিশাখা-৮ এক পরিপত্র দ্বারা পুরনো ঢাকার সূত্রাপুর মৌজার খাজনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যা ছিল একবারে অবৈধ এবং অমানবিক।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি, শেখ ফজলুর রহমান বকুল, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী, মজিবুর রহমান খান, সাংবাদিক মোহাম্মদ মহসীন ও রেজাউল করিম বাবু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

১৩ বছর সূত্রাপুরে খাজনা নেয় না সরকার, এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০২:২৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৪

অবিলম্বে সূত্রাপুর মৌজার ভূমি অবমুক্ত করা এবং স্বৈরাচার সরকার কর্তৃক ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০১১ সালের জারিকৃত অবৈধ পরিপত্রটি প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে পুরনো ঢাকা নাগরিক কমিটি। পাশাপাশি পুনরায় খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর নেওয়ার জন্য পুরনো ঢাকার ভুক্তভোগী অধিবাসীরা বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয় ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পুরানো ঢাকার সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, ওয়ারী, শ্যামপুর, কোতয়ালী ও এর আশপাশ থানাধীন এলাকা সমূহের এক বিরাট অংশের প্রায় ৩০ লক্ষাধিক মানুষ তাদের বাড়িঘর, জায়গা-জমি ও পৈত্রিক সম্পত্তির নামজারী করতে পারছে না।

অথচ তাদের এসএ, সিএস, আরএস ও সর্ব শেষ সিটি জরিপের পর্চায় তাদের নিজের অথবা বাবা, দানা বা পৈত্রিকদের নামে রেকর্ডও রয়েছে।

সরকার খাজনা না নেওয়ায় বিগত ১৩ বছর ধরে তারা মহাবিপদে ও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার লক্ষে ২০১১ সালে ৭০-৮০ বছর পর সাবেক শহর ঢাকা হালে সূত্রাপুর মৌজার ৫৪৮ তৌজির ৩০ লক্ষাধিক মানুষের স্ব স্ব বাড়িঘর, জায়গা-জমি ও সম্পত্তিকে অবৈধভাবে খাসমহল ও লীজের নামে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে নামজারী ও খাজনা নেওয়া বন্ধ করে রেখেছে।

ফলে পুরনো ঢাকার ৩০ লক্ষাধিক মানুষ তাদের বাড়ি ও জমি এবং পৈত্রিক সম্পত্তি সমূহের নামজারী করতে পারছে না, খাজনাও জমা নিচ্ছে না।

জমি হস্তান্তর, জমি ক্রনা- বিক্রয় ও রেজিষ্ট্রী করতে পারছে না। এমনকি পিতা-মাতার মৃত্যুর পর ওভারিশরা বাড়িঘরের ভাগাভাগি বা বন্টননামা, হেবা রেজিস্ট্রিও  করতে পারছে না।

এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্লান পাশও করছে না। নিজ জমিতে ভবণ নির্মাণ করতে পারেন না এবং ব্যাংক থেকে ঋণও নেওয়া যায় না এই এলাকার বাসিন্দারা।

ফলে পুরান ঢাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারও হচ্ছে না এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চরমভাবে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। ভূমির নামজারী না করা এবং ভূমি উন্নয়ন কর না নেওয়ার কারণে সরকার নিজেও প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

২০১১ সালের পর থেকে ডেভেলপার কম্পানীগুলো ঋণ নিয়ে এ এলাকাতে ফ্ল্যাটবাড়ি তৈরী করেছে। এখন তারা ঋণের বোঝায় জর্জরিত। তারা শুধু বিপদে নয়, প্রচুরভাবে ক্ষতিগ্রস্থও।

বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য, পুরান ঢাকার ৩০ লক্ষাধিক মানুষ তাদের ভূমির খাজনা যুগ যুগ ধরে পরিশোধ করে আসছে। ২০১১ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধিশাখা-৮ এক পরিপত্র দ্বারা পুরনো ঢাকার সূত্রাপুর মৌজার খাজনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যা ছিল একবারে অবৈধ এবং অমানবিক।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি, শেখ ফজলুর রহমান বকুল, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী, মজিবুর রহমান খান, সাংবাদিক মোহাম্মদ মহসীন ও রেজাউল করিম বাবু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।