ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদিসের বর্ণনায় চাশতের নামাজ

  • ইসলামী ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০২৪
  • ২৫৪ বার পড়া হয়েছে

আবদুল্লাহ ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) সূর্য হেলার পর থেকে জোহরের আগ পর্যন্ত চার রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন, এ সময় আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হয়। আমার একান্ত ইচ্ছা, এ সময় আমার কোনো সৎ কাজ আল্লাহর দরবারে পৌঁছাক। (তিরমিজি, হাদিস : ৪৭৮; শরহুস সুন্নাহ, হাদিস : ৭৯০)

ইসলামে নফল নামাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক। নফল নামাজ মুমিনজীবনে আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটায় এবং আল্লাহপাকের নৈকট্য অর্জনে সহায়তা করে। নফল নামাজের মধ্যে অন্যতম চাশতের নামাজ। ইশরাক ও চাশতের নামাজের সময় এক।

তবে আনুমানিক সকাল ১১টার দিকে চাশতের নামাজ পড়া ভালো। সাধারণ নফল নামাজের নিয়মে দ্বিপ্রহরের আগ পর্যন্ত আদায় করা যায়। এসংক্রান্ত কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হলো—

চাশতের নামাজের রাকাত

মুআজা (রা.) বলেন, আমি আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে রাসুলুল্লাহ (সা.) কি চাশতের সালাত আদায় করতেন? জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ! চার রাকাত সালাত আদায় করতেন। আল্লাহ চাইলে কখনো কখনো বেশিও পড়তেন।

(মুসলিম, হাদিস : ১৬৯৬; ইবনে মাজাহ,

হাদিস : ১৩৮১)

কখনো পড়তেন কখনো ছাড়তেন

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) চাশতের নামাজ এমনভাবে আদায় করতেন যে আমরা বলতাম (মনে মনে) তিনি এ নামাজ আর ছাড়বেন না। আবার কখনো ছেড়ে দিতেন। ফলে আমরা বলতাম তিনি এ নামাজ আর পড়বেন না। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১১৩১২; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ৭৮৮৮)

চাশতের নামাজের বিশেষত্ব

আবদুল্লাহ ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) সূর্য হেলার পর থেকে জোহরের আগ পর্যন্ত চার রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন, এ সময় আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হয়।

আমার একান্ত ইচ্ছা, এ সময় আমার কোনো সৎ কাজ আল্লাহর দরবারে পৌঁছাক। (তিরমিজি, হাদিস : ৪৭৮; শরহুস সুন্নাহ, হাদিস : ৭৯০)দীর্ঘ কিরাতে নামাজআলী (রা.) জোহরের আগে চার রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন, সূর্য হেলার সময় নবী করিম (সা.) এই সালাত আদায় করতেন এবং এতে দীর্ঘ কিরাত পড়তেন।

(সুনানুল কুবরা নাসায়ি, হাদিস : ৩৩৩; শামায়েলে তিরমিজি, হাদিস : ২৮১)

 

চাশতের জন্য উপদেশ

আবু হুরায়রা (রা.)বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে তিনটি বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন। ঘুমের আগে বিতর পড়া। চাশতের নামাজ দুই রাকাত পড়া এবং প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা।

(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ২৫৩৬)চাশতের নামাজের গুরুত্বআবু জার গিফারি (রা.)থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন ভোরে উঠে, তখন তার প্রতিটি জোড়ার ওপর একটি সদকা রয়েছে। প্রতি সুবহানাল্লাহ সদকা, প্রতি আলহামদুলিল্লাহ সদকা, প্রতি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ সদকা, প্রতি আল্লাহু আকবার সদকা, আমর বিল মারুফ (সৎ কাজের আদেশ) সদকা, নাহী আনিল মুনকার (অসৎ কাজের নিষেধ) সদকা—অবশ্য চাশতের সময় দুই রাকাত নামাজ আদায় করা এসবের পক্ষ থেকে যথেষ্ট। (মুসলিম, হাদিস : ১৫৪৪)

চাশতের নামাজের ফজিলত

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, একবার আবু জার (রা.)-এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। তখন আমি তাঁকে বলি যে হে চাচা! আমাকে কল্যাণী উপদেশ দান করুন। তিনি বলেন, তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞাসা করেছ, তেমনি আমিও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এমনটি জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেন, যদি তুমি চাশতের নামাজ দুই রাকাত পড়ো, তাহলে তোমাকে গাফিলদের মধ্যে গণ্য করা হবে না। আর যদি চার রাকাত পড়ো, তাহলে তোমাকে নেককারদের মধ্যে গণ্য করা হবে। আর যদি তুমি ছয় রাকাত পড়ো, তাহলে তোমাকে আনুগত্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর যদি তুমি আট রাকাত পড়ো, তাহলে তোমাকে সফল ব্যক্তিদের তালিকায় লেখা হবে। আর যদি ১০ রাকাত পড়ো, তাহলে সেদিন তোমার আমলনামায় কোনো গুনাহ লেখা হবে না। আর যদি ১২ রাকাত পড়ো, তাহলে তোমার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে। (সুনানুল কুবরা বায়হাকি, হাদিস : ৪৯০৬; মুসনাদুল বাজ্জার, হাদিস : ৩৮৯০)

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

হাদিসের বর্ণনায় চাশতের নামাজ

আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০২৪

আবদুল্লাহ ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) সূর্য হেলার পর থেকে জোহরের আগ পর্যন্ত চার রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন, এ সময় আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হয়। আমার একান্ত ইচ্ছা, এ সময় আমার কোনো সৎ কাজ আল্লাহর দরবারে পৌঁছাক। (তিরমিজি, হাদিস : ৪৭৮; শরহুস সুন্নাহ, হাদিস : ৭৯০)

ইসলামে নফল নামাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক। নফল নামাজ মুমিনজীবনে আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটায় এবং আল্লাহপাকের নৈকট্য অর্জনে সহায়তা করে। নফল নামাজের মধ্যে অন্যতম চাশতের নামাজ। ইশরাক ও চাশতের নামাজের সময় এক।

তবে আনুমানিক সকাল ১১টার দিকে চাশতের নামাজ পড়া ভালো। সাধারণ নফল নামাজের নিয়মে দ্বিপ্রহরের আগ পর্যন্ত আদায় করা যায়। এসংক্রান্ত কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হলো—

চাশতের নামাজের রাকাত

মুআজা (রা.) বলেন, আমি আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে রাসুলুল্লাহ (সা.) কি চাশতের সালাত আদায় করতেন? জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ! চার রাকাত সালাত আদায় করতেন। আল্লাহ চাইলে কখনো কখনো বেশিও পড়তেন।

(মুসলিম, হাদিস : ১৬৯৬; ইবনে মাজাহ,

হাদিস : ১৩৮১)

কখনো পড়তেন কখনো ছাড়তেন

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) চাশতের নামাজ এমনভাবে আদায় করতেন যে আমরা বলতাম (মনে মনে) তিনি এ নামাজ আর ছাড়বেন না। আবার কখনো ছেড়ে দিতেন। ফলে আমরা বলতাম তিনি এ নামাজ আর পড়বেন না। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১১৩১২; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ৭৮৮৮)

চাশতের নামাজের বিশেষত্ব

আবদুল্লাহ ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) সূর্য হেলার পর থেকে জোহরের আগ পর্যন্ত চার রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন, এ সময় আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হয়।

আমার একান্ত ইচ্ছা, এ সময় আমার কোনো সৎ কাজ আল্লাহর দরবারে পৌঁছাক। (তিরমিজি, হাদিস : ৪৭৮; শরহুস সুন্নাহ, হাদিস : ৭৯০)দীর্ঘ কিরাতে নামাজআলী (রা.) জোহরের আগে চার রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন, সূর্য হেলার সময় নবী করিম (সা.) এই সালাত আদায় করতেন এবং এতে দীর্ঘ কিরাত পড়তেন।

(সুনানুল কুবরা নাসায়ি, হাদিস : ৩৩৩; শামায়েলে তিরমিজি, হাদিস : ২৮১)

 

চাশতের জন্য উপদেশ

আবু হুরায়রা (রা.)বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে তিনটি বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন। ঘুমের আগে বিতর পড়া। চাশতের নামাজ দুই রাকাত পড়া এবং প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা।

(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ২৫৩৬)চাশতের নামাজের গুরুত্বআবু জার গিফারি (রা.)থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন ভোরে উঠে, তখন তার প্রতিটি জোড়ার ওপর একটি সদকা রয়েছে। প্রতি সুবহানাল্লাহ সদকা, প্রতি আলহামদুলিল্লাহ সদকা, প্রতি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ সদকা, প্রতি আল্লাহু আকবার সদকা, আমর বিল মারুফ (সৎ কাজের আদেশ) সদকা, নাহী আনিল মুনকার (অসৎ কাজের নিষেধ) সদকা—অবশ্য চাশতের সময় দুই রাকাত নামাজ আদায় করা এসবের পক্ষ থেকে যথেষ্ট। (মুসলিম, হাদিস : ১৫৪৪)

চাশতের নামাজের ফজিলত

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, একবার আবু জার (রা.)-এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। তখন আমি তাঁকে বলি যে হে চাচা! আমাকে কল্যাণী উপদেশ দান করুন। তিনি বলেন, তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞাসা করেছ, তেমনি আমিও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এমনটি জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেন, যদি তুমি চাশতের নামাজ দুই রাকাত পড়ো, তাহলে তোমাকে গাফিলদের মধ্যে গণ্য করা হবে না। আর যদি চার রাকাত পড়ো, তাহলে তোমাকে নেককারদের মধ্যে গণ্য করা হবে। আর যদি তুমি ছয় রাকাত পড়ো, তাহলে তোমাকে আনুগত্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর যদি তুমি আট রাকাত পড়ো, তাহলে তোমাকে সফল ব্যক্তিদের তালিকায় লেখা হবে। আর যদি ১০ রাকাত পড়ো, তাহলে সেদিন তোমার আমলনামায় কোনো গুনাহ লেখা হবে না। আর যদি ১২ রাকাত পড়ো, তাহলে তোমার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে। (সুনানুল কুবরা বায়হাকি, হাদিস : ৪৯০৬; মুসনাদুল বাজ্জার, হাদিস : ৩৮৯০)