কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও অপপ্রচার রোধে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ইমাম সমাজ বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে ‘কওমি মাদ্রাসার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, উপমহাদেশের শিক্ষা, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা, নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে কওমি মাদ্রাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রেখে আসছে। কওমি শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাসকে শুধু ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর সামাজিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর আগে ঐতিহাসিক দলিল ও বাস্তব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক অবদানগুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে আলেম সমাজ ও সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা, পাঠ্যক্রম ও ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, কুরআন-হাদিস, ফিকহ, আরবি ভাষা ও ইসলামী জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরির ওপর এ ধারার শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, কওমি মাদ্রাসার ইতিহাস ও অবদান নিয়ে আরও গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আধুনিক সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তারা বলেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি বর্তমান সমাজে কওমি মাদ্রাসার ভূমিকা, শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র এবং দেশ ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবদান নিয়ে বাস্তবভিত্তিক পর্যালোচনা হওয়া দরকার। এর মাধ্যমে কওমি শিক্ষা সম্পর্কে জনমনে থাকা ভুল ধারণা দূর করা সম্ভব হবে।
সেমিনারে কওমি মাদ্রাসার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, অপপ্রচার রোধ এবং এ শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক দিকগুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইমাম সমাজ বাংলাদেশের সভাপতি কারী আবুল হোসাইন। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব মুফতি মিনহাজ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের একাংশের মহাসচিব ড. মহিউদ্দিন একরাম, দ্বীনিয়াত বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা সালমান আহমদ, খেলাফত আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, জামিয়াতুস সুন্নাহ শিবচর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা নেয়ামত উল্লাহ আল ফরিদীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম ও জাতীয় নেতারা।
Tareq Jamil 





































