ঢাকা ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে স্বজনদের কাছে ফিরলেন পরী সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ নেই: তথ্য উপদেষ্টা অবিলম্বে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করতে হবে: নাহিদ ইসলাম হুথি কারা? কেন তারা সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে? নিজের বাড়ির জানালা সংস্কারে এভাবে অবহেলা করতেন? হামলার ভয়ে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সৌদি যুবরাজ ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে: তথ্য উপদেষ্টা জন্মদিনে গাড়ি উপহার দেন মা, সেই গাড়ি দিয়ে সড়কে ৩ জনের প্রাণ নিলেন ছেলে ইন্ডিয়া জোটের পদযাত্রায় দিল্লির রাজপথে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বাংকারযুক্ত প্রাসাদে অবস্থান বদল সৌদি যুবরাজের!

ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কয়েকজন দলে আছে: মুশফিক

  • Tareq Jamil
  • আপডেট সময় : ০৩:৫০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৫৯ বার পড়া হয়েছে

ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে মুশফিকুর রহিম এখন নিজেকে মেলে ধরছেন শুধু টেস্ট ক্রিকেটে।

ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে মুশফিকুর রহিম এখন নিজেকে মেলে ধরছেন শুধু টেস্ট ক্রিকেটে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটকে বিদায় জানানো এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক উত্থান-পতনের সাক্ষী। মাউন্ট মঙ্গানুই থেকে ডারউইন—বিশ্বসেরা দলগুলোর বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাফল্যেরও অংশীদার তিনি। 

চোখের সামনে প্রিয় দলকে এভাবে পরিণত ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মুশফিক। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয়ের পর ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের উদ্দেশে দেওয়া আবেগঘন বক্তব্যে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বদলে যাওয়ার সেই গল্প। বিসিবির প্রকাশ করা ভিডিওতে ধরা পড়েছে সেই আবেগঘন মুহূর্ত।

মুশফিক বলেন, ‘বাংলাদেশের লাল বলের দলের এই পথচলা থেকে যদি কিছু সঙ্গে নিয়ে যেতে পারি, সেটাই আমার জন্য অনেক বড় স্মৃতি হয়ে থাকবে। সত্যি বলতে, এই দলকে নিয়ে আমি গর্বিত।’

গত তিন থেকে পাঁচ বছরে দলে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তনটি চোখে পড়েছে, সেটিও তুলে ধরেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের মধ্যে নিজেদের আরও ভালো করার তাড়না তৈরি হয়েছে। এই মানসিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন খেলোয়াড় যদি নিজের পারফরম্যান্সে মাত্র দুই শতাংশও উন্নতি করতে পারে, তার প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে না; পুরো দলই তার সুফল পায়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন জয়ও আসলে সেই সম্মিলিত উন্নতিরই ফল।’

 

বর্তমান দলের গভীরতা নিয়েও উচ্ছ্বসিত মুশফিক। তিনি বলেন, ‘১০, ১৫ কিংবা ২০ বছর আগে হয়তো খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস ছিল, কিন্তু পুরো দলের ওপর একই রকম আস্থা সবসময় দেখা যেত না। এখনকার ১৫-১৬ জনের স্কোয়াডে আমি ৮-৯ জনকে দেখতে পাই, যারা একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। একজন অধিনায়কের জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে!’

উদযাপনের পাশাপাশি ধারাবাহিকতা ধরে রাখার বার্তাও দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। মুশফিক বলেন, ‘আমরা এর আগেও বড় ম্যাচ জিতেছি। কিন্তু সাফল্য ধরে রাখা এবং নিয়মিত এমন পারফরম্যান্স করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উন্নতির কোনো শেষ নেই—সীমা আসলে আকাশ পর্যন্ত। তাই এই জয় উদযাপন করো, আনন্দ করো; কিন্তু এরপরই ভাবতে হবে, কীভাবে আবারও এমন পারফরম্যান্স করা যায়।’

বাংলাদেশের তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরিশ্রমী ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত মুশফিক মনে করিয়ে দিয়েছেন, সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই। তার ভাষায়, ‘এর জন্য কোনো শর্টকাট নেই। পরিশ্রম করতেই হবে, প্রতিদিন একইভাবে লেগে থাকতে হবে। প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে ফলাফল একসময় নিজে থেকেই আসবে।’

সবশেষে সতীর্থদের আত্মতৃপ্তির জায়গাটিও মনে করিয়ে দেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘দিন শেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যেন প্রত্যেকে নিজেকে বলতে পারে—আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি।’

মুশফিকুর রহিম

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে স্বজনদের কাছে ফিরলেন পরী

ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কয়েকজন দলে আছে: মুশফিক

আপডেট সময় : ০৩:৫০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে মুশফিকুর রহিম এখন নিজেকে মেলে ধরছেন শুধু টেস্ট ক্রিকেটে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটকে বিদায় জানানো এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক উত্থান-পতনের সাক্ষী। মাউন্ট মঙ্গানুই থেকে ডারউইন—বিশ্বসেরা দলগুলোর বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাফল্যেরও অংশীদার তিনি। 

চোখের সামনে প্রিয় দলকে এভাবে পরিণত ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মুশফিক। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয়ের পর ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের উদ্দেশে দেওয়া আবেগঘন বক্তব্যে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বদলে যাওয়ার সেই গল্প। বিসিবির প্রকাশ করা ভিডিওতে ধরা পড়েছে সেই আবেগঘন মুহূর্ত।

মুশফিক বলেন, ‘বাংলাদেশের লাল বলের দলের এই পথচলা থেকে যদি কিছু সঙ্গে নিয়ে যেতে পারি, সেটাই আমার জন্য অনেক বড় স্মৃতি হয়ে থাকবে। সত্যি বলতে, এই দলকে নিয়ে আমি গর্বিত।’

গত তিন থেকে পাঁচ বছরে দলে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তনটি চোখে পড়েছে, সেটিও তুলে ধরেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের মধ্যে নিজেদের আরও ভালো করার তাড়না তৈরি হয়েছে। এই মানসিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন খেলোয়াড় যদি নিজের পারফরম্যান্সে মাত্র দুই শতাংশও উন্নতি করতে পারে, তার প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে না; পুরো দলই তার সুফল পায়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন জয়ও আসলে সেই সম্মিলিত উন্নতিরই ফল।’

 

বর্তমান দলের গভীরতা নিয়েও উচ্ছ্বসিত মুশফিক। তিনি বলেন, ‘১০, ১৫ কিংবা ২০ বছর আগে হয়তো খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস ছিল, কিন্তু পুরো দলের ওপর একই রকম আস্থা সবসময় দেখা যেত না। এখনকার ১৫-১৬ জনের স্কোয়াডে আমি ৮-৯ জনকে দেখতে পাই, যারা একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। একজন অধিনায়কের জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে!’

উদযাপনের পাশাপাশি ধারাবাহিকতা ধরে রাখার বার্তাও দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। মুশফিক বলেন, ‘আমরা এর আগেও বড় ম্যাচ জিতেছি। কিন্তু সাফল্য ধরে রাখা এবং নিয়মিত এমন পারফরম্যান্স করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উন্নতির কোনো শেষ নেই—সীমা আসলে আকাশ পর্যন্ত। তাই এই জয় উদযাপন করো, আনন্দ করো; কিন্তু এরপরই ভাবতে হবে, কীভাবে আবারও এমন পারফরম্যান্স করা যায়।’

বাংলাদেশের তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরিশ্রমী ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত মুশফিক মনে করিয়ে দিয়েছেন, সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই। তার ভাষায়, ‘এর জন্য কোনো শর্টকাট নেই। পরিশ্রম করতেই হবে, প্রতিদিন একইভাবে লেগে থাকতে হবে। প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে ফলাফল একসময় নিজে থেকেই আসবে।’

সবশেষে সতীর্থদের আত্মতৃপ্তির জায়গাটিও মনে করিয়ে দেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘দিন শেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যেন প্রত্যেকে নিজেকে বলতে পারে—আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি।’

মুশফিকুর রহিম