ঢাকা ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে স্বজনদের কাছে ফিরলেন পরী সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ নেই: তথ্য উপদেষ্টা অবিলম্বে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করতে হবে: নাহিদ ইসলাম হুথি কারা? কেন তারা সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে? নিজের বাড়ির জানালা সংস্কারে এভাবে অবহেলা করতেন? হামলার ভয়ে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সৌদি যুবরাজ ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে: তথ্য উপদেষ্টা জন্মদিনে গাড়ি উপহার দেন মা, সেই গাড়ি দিয়ে সড়কে ৩ জনের প্রাণ নিলেন ছেলে ইন্ডিয়া জোটের পদযাত্রায় দিল্লির রাজপথে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বাংকারযুক্ত প্রাসাদে অবস্থান বদল সৌদি যুবরাজের!

বাংলাদেশের কাছে হারের পর জরিমানার শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া

  • Tareq Jamil
  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৪৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের কাছে ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটের হারের পর এবার বড় শাস্তির শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওভার শেষ করতে না পারায় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট হারানোর পাশাপাশি বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে পারে প্যাট কামিন্সের দল।

তৃতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত ৯০ ওভারের বদলে বোলিং করেছে ৮৬ ওভার। অর্থাৎ চার ওভার কম করেছে তারা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী, টেস্টে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ ওভার বোলিং করার কথা। সাধারণভাবে দিনে ৯০ ওভার সম্পন্ন করার লক্ষ্য থাকে।

নির্ধারিত ওভার কম করার কারণে ম্যাচ রেফারি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ওভার কম করার জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ করে জরিমানা হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার একজন ক্রিকেটারের প্রতি টেস্টের ম্যাচ ফি ২০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ফলে চার ওভার কম করার কারণে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জরিমানা হতে পারে প্রায় ৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা। পুরো দলের মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৪ লাখ ১২ হাজার টাকা।

শুধু জরিমানাই নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্টও হারাতে পারে অস্ট্রেলিয়া। প্রতি ওভার কম করার জন্য একটি করে পয়েন্ট কেটে নেওয়া হলে চার ওভারের ঘাটতিতে তাদের ৪ পয়েন্ট হারাতে হতে পারে।

বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে রয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের পর তাদের পয়েন্ট হার ৭৭.৭৮ শতাংশ। চার পয়েন্ট কাটা গেলে মোট পয়েন্ট কমে যাবে, যদিও পয়েন্ট হার বা শতাংশে এর প্রভাব পড়বে না।

অন্যদিকে বাংলাদেশও প্রথম ইনিংসে নির্ধারিত ওভার রেটের নিচে ছিল। তবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ঝুঁকি নেই। কারণ অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৫৩ ওভারে অলআউট করে দিয়েছিল বাংলাদেশ।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল প্রতিপক্ষের একটি ইনিংস ৮০ ওভারের আগেই শেষ করে দিলে কিংবা ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ১৬০ ওভারের কম বোলিং করতে হলে নির্ধারিত ওভার রেটের শাস্তি প্রযোজ্য হয় না। এই নিয়মেই বেঁচে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাটিং করেছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ওভার-রেটের বিষয়টি নিয়মের আওতায় পড়ছে।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ম্যাচ রেফারি ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন। ডারউইনের প্রচণ্ড গরম, উইকেট পতনের সংখ্যা এবং অন্যান্য যৌক্তিক কারণও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।

ওভার-রেটের কারণে পয়েন্ট হারানোর ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার জন্য নতুন নয়। ২০২০ সালের বক্সিং ডে টেস্টে ধীরগতির ওভার-রেটের কারণে চার পয়েন্ট হারিয়েছিল তারা। সেই পয়েন্ট হারই শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল থেকে অস্ট্রেলিয়াকে ছিটকে দেয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে স্বজনদের কাছে ফিরলেন পরী

বাংলাদেশের কাছে হারের পর জরিমানার শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া

আপডেট সময় : ০৪:০৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের কাছে ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটের হারের পর এবার বড় শাস্তির শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওভার শেষ করতে না পারায় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট হারানোর পাশাপাশি বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে পারে প্যাট কামিন্সের দল।

তৃতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত ৯০ ওভারের বদলে বোলিং করেছে ৮৬ ওভার। অর্থাৎ চার ওভার কম করেছে তারা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী, টেস্টে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ ওভার বোলিং করার কথা। সাধারণভাবে দিনে ৯০ ওভার সম্পন্ন করার লক্ষ্য থাকে।

নির্ধারিত ওভার কম করার কারণে ম্যাচ রেফারি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ওভার কম করার জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ করে জরিমানা হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার একজন ক্রিকেটারের প্রতি টেস্টের ম্যাচ ফি ২০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ফলে চার ওভার কম করার কারণে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জরিমানা হতে পারে প্রায় ৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা। পুরো দলের মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৪ লাখ ১২ হাজার টাকা।

শুধু জরিমানাই নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্টও হারাতে পারে অস্ট্রেলিয়া। প্রতি ওভার কম করার জন্য একটি করে পয়েন্ট কেটে নেওয়া হলে চার ওভারের ঘাটতিতে তাদের ৪ পয়েন্ট হারাতে হতে পারে।

বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে রয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের পর তাদের পয়েন্ট হার ৭৭.৭৮ শতাংশ। চার পয়েন্ট কাটা গেলে মোট পয়েন্ট কমে যাবে, যদিও পয়েন্ট হার বা শতাংশে এর প্রভাব পড়বে না।

অন্যদিকে বাংলাদেশও প্রথম ইনিংসে নির্ধারিত ওভার রেটের নিচে ছিল। তবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ঝুঁকি নেই। কারণ অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৫৩ ওভারে অলআউট করে দিয়েছিল বাংলাদেশ।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল প্রতিপক্ষের একটি ইনিংস ৮০ ওভারের আগেই শেষ করে দিলে কিংবা ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ১৬০ ওভারের কম বোলিং করতে হলে নির্ধারিত ওভার রেটের শাস্তি প্রযোজ্য হয় না। এই নিয়মেই বেঁচে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাটিং করেছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ওভার-রেটের বিষয়টি নিয়মের আওতায় পড়ছে।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ম্যাচ রেফারি ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন। ডারউইনের প্রচণ্ড গরম, উইকেট পতনের সংখ্যা এবং অন্যান্য যৌক্তিক কারণও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।

ওভার-রেটের কারণে পয়েন্ট হারানোর ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার জন্য নতুন নয়। ২০২০ সালের বক্সিং ডে টেস্টে ধীরগতির ওভার-রেটের কারণে চার পয়েন্ট হারিয়েছিল তারা। সেই পয়েন্ট হারই শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল থেকে অস্ট্রেলিয়াকে ছিটকে দেয়।