ঢাকা ০৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েল-লেবাননের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল ৪৫ দিন

ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়াতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে চলা দুই দিনের আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স শুক্রবার (১৬ মে) রাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার এর আগের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রোববার শেষ হওয়ার কথা ছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, গত ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। এছাড়া আগামী সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল ও লেবাননকে নিয়ে আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন উভয় পক্ষই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এই আলোচনাকে গঠনমূলক বলেছেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার। আলোচনায় চ্যালেঞ্জ থাকলেও সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি। আর লেবানন বলছে, তারা এই যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপান্তর করতে চায়।

গত মার্চে ইরানকে সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় লেবাননের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এরপর লেবাননে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এরপর দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানও চালায় দখলদার সেনারা। এই সংঘাতে লেবানের প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের প্রাথমিক বৈঠকের পর সেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

যদিও যুদ্ধবিরতি রয়েছে তবুও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে মাঝে মধ্যেই হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। বর্তমানে লেবাননের কিছু অঞ্চল দখল করে আছে ইসরায়েল।

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে এই আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘ দশকের সংঘাত মেটানোর চেষ্টা চলছে। আগামী ২৯ মে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনে একটি নতুন নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা শুরু হবে। এছাড়া ২ থেকে ৩ জুন রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্য আবারও বৈঠকে বসবে উভয় পক্ষ।

ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরোধিতা সত্ত্বেও লেবাননের প্রতিনিধি দল শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অন্যদিকে, দখলদার ইসরায়েলের দাবি হলো- যেকোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তির আগে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে।

সূত্র : রয়টার্স

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

ইসরায়েল-লেবাননের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল ৪৫ দিন

আপডেট সময় : ০১:৩২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়াতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে চলা দুই দিনের আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স শুক্রবার (১৬ মে) রাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার এর আগের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রোববার শেষ হওয়ার কথা ছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, গত ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। এছাড়া আগামী সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল ও লেবাননকে নিয়ে আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন উভয় পক্ষই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এই আলোচনাকে গঠনমূলক বলেছেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার। আলোচনায় চ্যালেঞ্জ থাকলেও সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি। আর লেবানন বলছে, তারা এই যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপান্তর করতে চায়।

গত মার্চে ইরানকে সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় লেবাননের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এরপর লেবাননে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এরপর দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানও চালায় দখলদার সেনারা। এই সংঘাতে লেবানের প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের প্রাথমিক বৈঠকের পর সেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

যদিও যুদ্ধবিরতি রয়েছে তবুও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে মাঝে মধ্যেই হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। বর্তমানে লেবাননের কিছু অঞ্চল দখল করে আছে ইসরায়েল।

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে এই আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘ দশকের সংঘাত মেটানোর চেষ্টা চলছে। আগামী ২৯ মে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনে একটি নতুন নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা শুরু হবে। এছাড়া ২ থেকে ৩ জুন রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্য আবারও বৈঠকে বসবে উভয় পক্ষ।

ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরোধিতা সত্ত্বেও লেবাননের প্রতিনিধি দল শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অন্যদিকে, দখলদার ইসরায়েলের দাবি হলো- যেকোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তির আগে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে।

সূত্র : রয়টার্স