ঢাকা ০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হান্টাভাইরাস আক্রান্ত জাহাজ থেকে নাগরিকদের ফেরাতে বিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

হান্টাভাইরাস কবলিত ডাচ প্রমোদতরী থেকে মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করছে যুক্তরাষ্ট্র। হান্টাভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তার পর গত শুক্রবার (৮ মে) এই ঘোষণা দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আক্রান্ত জাহাজটির আমেরিকান যাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে সহায়তা করার জন্য পররাষ্ট্র দফতর একটি প্রত্যাবাসন ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছে।’ মুখপাত্র আরও জানান, এ ব্যাপারে তারা স্পেন সরকার এবং অন্যান্য যুক্তরাষ্ট্রীয় ফেডারেল সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা জাহাজে থাকা আমেরিকানদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছি এবং জাহাজটি স্পেনের তেনেরিফে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই কনস্যুলার সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত আছি।’

এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, যারা হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ধরা পড়ার আগেই জাহাজটি থেকে নেমে গিয়েছিলেন, বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখন সেইসব মানুষকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি যারা তাদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এসেছেন, তাদেরও খোঁজা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাঁচটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। জাতিসংঘের এই স্বাস্থ্য সংস্থা আরও বলেছে, এটি ছয় বছর আগের কোভিডের মতো কোনো নতুন মহামারির সূচনা নয়। কারণ এই ধরনের হান্টাভাইরাস শুধুমাত্র ‘ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ সংস্পর্শের’ মাধ্যমে ছড়ায়।
তবে ভাইরাসটির সুপ্তিকাল বা ইনকিউবেশন পিরিয়ড সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে বলে ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে। তাই সামনে আরও সংক্রমণের খবর আসতে পারে।

এমভি হন্ডিয়াস নামের বিলাসবহুল জাহাজটি গত মাসে আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়ার জন্য যাত্রা শুরু করে এবং বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম কয়েকটি দ্বীপে যাত্রাবিরতি করে। কিন্তু পথিমধ্যে জাহাজটিতে হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে এক ডাচ দম্পতি এবং একজন জার্মান নাগরিকসহ তিনজন মারা যান।

জাহাজটি বর্তমানে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে দ্বীপ দেশ কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়ার উপকূল থেকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। জাহাজটিতে ১৭ জন আমেরিকানসহ প্রায় ১৫০ জন যাত্রী রয়েছেন।

এদিকে জাহাজটির স্পেনের ক্যানারি দ্বীপে নোঙর করার পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দ্বীপপুঞ্জের নেতা ফার্নান্দো ক্লাভিহো গত বুধবার (৬ মে) বলেন, তিনি দ্বীপটিতে জাহাজটির নোঙর করার বিরুদ্ধে এবং এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ভাইরাস কবলিত প্রমোদতরীকে নোঙর করতে দিতে চায় না ক্যানারি দ্বীপের বাসিন্দারা

স্পেনের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম টিভিই জানায়, দ্বীপপুএঞ্জর নেতার অবস্থান স্পেন সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সানচেজ সরকার বলেছে, জাহাজটিকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম দ্বীপ তেনেরিফে নোঙর করার অনুমতি দেয়া হবে।

বিরোধীরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন। প্রধান বিরোধী দল পিপলস পার্টির সদস্য ক্লাভিহো স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন ওন্দা জিরোকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য বা কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নেই।’

ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু না জেনে-শুনে আমি তাদের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করতে দিতে পারি না, কারণ আমরা জানি না আমরা কীসের সম্মুখীন হতে যাচ্ছি।’

সূত্র: দ্য হিন্দু

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

হান্টাভাইরাস আক্রান্ত জাহাজ থেকে নাগরিকদের ফেরাতে বিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ১২:০৮:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

হান্টাভাইরাস কবলিত ডাচ প্রমোদতরী থেকে মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করছে যুক্তরাষ্ট্র। হান্টাভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তার পর গত শুক্রবার (৮ মে) এই ঘোষণা দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আক্রান্ত জাহাজটির আমেরিকান যাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে সহায়তা করার জন্য পররাষ্ট্র দফতর একটি প্রত্যাবাসন ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছে।’ মুখপাত্র আরও জানান, এ ব্যাপারে তারা স্পেন সরকার এবং অন্যান্য যুক্তরাষ্ট্রীয় ফেডারেল সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা জাহাজে থাকা আমেরিকানদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছি এবং জাহাজটি স্পেনের তেনেরিফে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই কনস্যুলার সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত আছি।’

এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, যারা হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ধরা পড়ার আগেই জাহাজটি থেকে নেমে গিয়েছিলেন, বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখন সেইসব মানুষকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি যারা তাদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এসেছেন, তাদেরও খোঁজা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাঁচটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। জাতিসংঘের এই স্বাস্থ্য সংস্থা আরও বলেছে, এটি ছয় বছর আগের কোভিডের মতো কোনো নতুন মহামারির সূচনা নয়। কারণ এই ধরনের হান্টাভাইরাস শুধুমাত্র ‘ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ সংস্পর্শের’ মাধ্যমে ছড়ায়।
তবে ভাইরাসটির সুপ্তিকাল বা ইনকিউবেশন পিরিয়ড সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে বলে ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে। তাই সামনে আরও সংক্রমণের খবর আসতে পারে।

এমভি হন্ডিয়াস নামের বিলাসবহুল জাহাজটি গত মাসে আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়ার জন্য যাত্রা শুরু করে এবং বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম কয়েকটি দ্বীপে যাত্রাবিরতি করে। কিন্তু পথিমধ্যে জাহাজটিতে হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে এক ডাচ দম্পতি এবং একজন জার্মান নাগরিকসহ তিনজন মারা যান।

জাহাজটি বর্তমানে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে দ্বীপ দেশ কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়ার উপকূল থেকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। জাহাজটিতে ১৭ জন আমেরিকানসহ প্রায় ১৫০ জন যাত্রী রয়েছেন।

এদিকে জাহাজটির স্পেনের ক্যানারি দ্বীপে নোঙর করার পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দ্বীপপুঞ্জের নেতা ফার্নান্দো ক্লাভিহো গত বুধবার (৬ মে) বলেন, তিনি দ্বীপটিতে জাহাজটির নোঙর করার বিরুদ্ধে এবং এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ভাইরাস কবলিত প্রমোদতরীকে নোঙর করতে দিতে চায় না ক্যানারি দ্বীপের বাসিন্দারা

স্পেনের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম টিভিই জানায়, দ্বীপপুএঞ্জর নেতার অবস্থান স্পেন সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সানচেজ সরকার বলেছে, জাহাজটিকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম দ্বীপ তেনেরিফে নোঙর করার অনুমতি দেয়া হবে।

বিরোধীরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন। প্রধান বিরোধী দল পিপলস পার্টির সদস্য ক্লাভিহো স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন ওন্দা জিরোকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য বা কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নেই।’

ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু না জেনে-শুনে আমি তাদের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করতে দিতে পারি না, কারণ আমরা জানি না আমরা কীসের সম্মুখীন হতে যাচ্ছি।’

সূত্র: দ্য হিন্দু