ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় মাত্র ৪০ দিনে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরান। হামলায় যেমন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এবং বেসামরিক অবকাঠামোসহ শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর ও সেতুসহ বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে, বাদ যায়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।
রোববার ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৯৪২টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পুনর্নির্মাণ করতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর প্রথম দিনেই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই শিশু শিক্ষার্থী।
মুখপাত্র আরও বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ১ লাখ বাড়ি, ২০ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান-দোকান এবং ৩৩৯টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৪০টি বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক স্থাপনাগুলো পুনর্গঠন করতে তিন থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, হামলায় যাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকরা তাদের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য আবাসন ঋণের সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।
এরআগে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৬ থেকে ১০ লাখ ইরানি পরিবারের কমপক্ষে ৩২ লাখ মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অধিকাংশই নিরাপত্তার জন্য তেহরান এবং প্রধান শহরাঞ্চল ছেড়ে গ্রামীণ এলাকায় পালিয়ে গেছে।
এদিকে ইসরায়েলের জেরুজালেম পোস্টের বরাতে সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাতে ইরানের মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকা)।
সূত্র: আনাদোলু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 





































