প্রাকৃতিক মূলধন রক্ষা না করলে কোনো উন্নয়ন টেকসই হবে না এমন মন্তব্য করে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এর নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা আবদুল্লাহ খান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন হয়তো দৃশ্যমান, কিন্তু পরিবেশ ও জলবায়ু বিবেচনা ছাড়া তা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ম্যানিফেস্টোতে শুধু অবকাঠামো নয়, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ— অর্থাৎ ‘ন্যাচারাল ক্যাপিটাল’ রক্ষার স্পষ্ট পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।’
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদফতরে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে পরিবেশ, রাজনীতি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মালিক ফিদা আবদুল্লাহ খান বলেন, ‘আপনারা কি দেখেছেন যে হাওড়ের ওপর একটা রাস্তা হয়েছে? মনে করেন, রাস্তাটা করা ঠিক হয়েছে। তাহলে পলিটিশিয়ানরা যখন আসবে, আমাদের পরে তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন যে এই রাস্তার বিকল্প কী? মানে আমরা বলছি না যে রাস্তা হবে না। রাস্তা হবে। কিন্তু রাস্তাটা করতে হবে এনভায়রনমেন্ট ফ্রেন্ডলিভাবে। যেটা আমরা করি নাই, আমাদের নেক্সট জেনারেশনের জন্য করি নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যে পানি আসে, সেটাকে আমরা আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বলি। আমি আন্তঃসীমান্ত নদী নিয়ে কাজ করি। আমাদের আন্তঃসীমান্ত নদী ৫৪টি ভারতের সঙ্গে, আর তিনটি মায়ানমারের সঙ্গে এই ৫৭টি নদীর ব্যবস্থাপনা তারা কীভাবে করবে? ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে গঙ্গা চুক্তি শেষ হয়ে যাবে— তার ব্যাপারেও স্পেসিফিক প্রশ্ন করতে হবে রাজনীতিবিদের কাছে।’
মালিক ফিদা বলেন, ‘পানি সবকিছুর মূল। পানি কৃষির সঙ্গে জড়িত, ওয়াটার ডিজাস্টারের সঙ্গে জড়িত, ওয়াটার সাপ্লাই ও স্যানিটেশনের সঙ্গে জড়িত। প্রতিটি দলের ম্যানিফেস্টোতে তারা কীভাবে এই ডেভেলপমেন্ট বা ওয়াটার ম্যানেজমেন্টকে দেখাচ্ছে— এটা প্রশ্ন করতে হবে। তারা উত্তর কী দেয়, তা দেখতে হবে। এটা হয়তো লং টার্ম বা শর্ট টার্ম—পাঁচ বছরের পরিকল্পনা হতে পারে। কিন্তু তাদের ওয়াটার ম্যানেজমেন্টের ভিশন স্পষ্টভাবে দেখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখনও কোনো দলের ম্যানিফেস্টোতে পানি নিয়ে সুন্দর কোনো পরিকল্পনা দেখিনি। ট্রান্স-বাউন্ডারি ওয়াটার ম্যানেজমেন্টের জন্য আমাদের ইয়াংদেরকে কীভাবে গড়ে তোলা হবে? আমি এমআইটি-তে ওয়াটার ডিপ্লোম্যাসির ওপর দুই সপ্তাহের কোর্স করেছি; কীভাবে নেগোসিয়েশন করতে হয় সে বিষয়ে। এই দেশ নদীমাত্রিক, তাই ওয়াটার ডিপ্লোম্যাট দরকার। এই ধরনের ট্রেনিং বাংলাদেশে হওয়া দরকার।’
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 


































