ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমরা দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবো না: খামেনি।

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৩৩ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, সহিংসতা ও প্রাণহানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রধান দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক দাঙ্গা, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসনের ভূমিকা রয়েছে।

আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে প্রেস টিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদে মাবআস—নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে সমাজের বিভিন্ন স্তরের হাজারো মানুষের উদ্দেশে এসব কথা বলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি।

ভাষণে তিনি বলেন, “ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যে প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতি ও মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দায়ী। এ ক্ষেত্রে তিনি একজন অপরাধী।”

সর্বোচ্চ নেতা সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রকৃতি, এতে ব্যবহৃত কৌশল এবং এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ইরানের করণীয় নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন।

আয়াতুল্লাহ খামেনি জানান, গত মাসের শেষ দিকে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা প্রথমে শান্তিপূর্ণ হলেও ধীরে ধীরে সহিংস রূপ নেয়। দাঙ্গাকারীরা দেশের বিভিন্ন শহরে তাণ্ডব চালায়, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করে এবং সরকারি ও জনসাধারণের অবকাঠামোতে হামলা চালায়।

ইরানি কর্মকর্তারা এই সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছেন। এ প্রসঙ্গে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ্যেই সামনে এসেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের রাস্তায় থাকা বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি মোসাদ এজেন্টদেরও ‘নববর্ষের শুভেচ্ছা’ জানিয়ে টুইট করেছিলেন। একইভাবে ফার্সি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে মোসাদ বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানায় এবং দাবি করে, তাদের এজেন্টরা মাঠে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত রয়েছে।

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, অতীতে এ ধরনের অস্থিরতার সময় সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম কিংবা ইউরোপ ও আমেরিকার দ্বিতীয় সারির রাজনীতিকেরা হস্তক্ষেপ করত। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় ব্যতিক্রম দেখা গেছে।

তিনি বলেন, “এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজেই হস্তক্ষেপ করেছেন, প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন, দাঙ্গাকারীদের উৎসাহিত করেছেন, এমনকি সামরিক সহায়তার কথাও বলেছেন।”

তার মতে, এতে স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয় যে সাম্প্রতিক অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। “পঞ্চাশ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমি স্পষ্টভাবে বলছি—আমেরিকার লক্ষ্য হলো ইরানকে গ্রাস করা,” বলেন তিনি।

ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ভেঙে পড়লেও ওয়াশিংটন প্রথম দিন থেকেই ইরানের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, এটি কেবল বর্তমান প্রশাসনের নীতি নয়; বরং দীর্ঘদিনের মার্কিন কৌশলেরই প্রতিফলন।

আয়াতুল্লাহ খামেনির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মতো সক্ষমতা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিসম্পন্ন একটি দেশকে সহ্য করতে পারে না।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সহিংসতায় জড়িতদের ‘ইরানের জনগণ’ হিসেবে তুলে ধরাকে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে গুরুতর অপবাদ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ধরনের প্রচারকে তিনি সরাসরি অপরাধ হিসেবে আখ্যা দেন।

তিনি আরও বলেন, এই ষড়যন্ত্রের পেছনে যেসব ব্যক্তি জড়িত, তাদের অনেককে মার্কিন ও ইসরায়েলি সংস্থাগুলো শনাক্ত, প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন করেছে। তাদের ভয় সৃষ্টি, ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এবং জনশৃঙ্খলা নষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারা নিজেদের আন্দোলনের নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছিল।

সর্বোচ্চ নেতা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকরভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে এবং এ ধরনের বহু উপাদানকে আটক করা হয়েছে।

ভাষণের শেষাংশে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, “আমরা দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেব না। তবে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক অপরাধীদেরও শাস্তি ছাড়া ছেড়ে দেওয়া হবে না।”

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

আমরা দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবো না: খামেনি।

আপডেট সময় : ০৭:৩৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, সহিংসতা ও প্রাণহানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রধান দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক দাঙ্গা, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসনের ভূমিকা রয়েছে।

আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে প্রেস টিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদে মাবআস—নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে সমাজের বিভিন্ন স্তরের হাজারো মানুষের উদ্দেশে এসব কথা বলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি।

ভাষণে তিনি বলেন, “ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যে প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতি ও মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দায়ী। এ ক্ষেত্রে তিনি একজন অপরাধী।”

সর্বোচ্চ নেতা সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রকৃতি, এতে ব্যবহৃত কৌশল এবং এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ইরানের করণীয় নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন।

আয়াতুল্লাহ খামেনি জানান, গত মাসের শেষ দিকে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা প্রথমে শান্তিপূর্ণ হলেও ধীরে ধীরে সহিংস রূপ নেয়। দাঙ্গাকারীরা দেশের বিভিন্ন শহরে তাণ্ডব চালায়, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করে এবং সরকারি ও জনসাধারণের অবকাঠামোতে হামলা চালায়।

ইরানি কর্মকর্তারা এই সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছেন। এ প্রসঙ্গে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ্যেই সামনে এসেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের রাস্তায় থাকা বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি মোসাদ এজেন্টদেরও ‘নববর্ষের শুভেচ্ছা’ জানিয়ে টুইট করেছিলেন। একইভাবে ফার্সি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে মোসাদ বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানায় এবং দাবি করে, তাদের এজেন্টরা মাঠে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত রয়েছে।

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, অতীতে এ ধরনের অস্থিরতার সময় সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম কিংবা ইউরোপ ও আমেরিকার দ্বিতীয় সারির রাজনীতিকেরা হস্তক্ষেপ করত। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় ব্যতিক্রম দেখা গেছে।

তিনি বলেন, “এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজেই হস্তক্ষেপ করেছেন, প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন, দাঙ্গাকারীদের উৎসাহিত করেছেন, এমনকি সামরিক সহায়তার কথাও বলেছেন।”

তার মতে, এতে স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয় যে সাম্প্রতিক অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। “পঞ্চাশ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমি স্পষ্টভাবে বলছি—আমেরিকার লক্ষ্য হলো ইরানকে গ্রাস করা,” বলেন তিনি।

ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ভেঙে পড়লেও ওয়াশিংটন প্রথম দিন থেকেই ইরানের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, এটি কেবল বর্তমান প্রশাসনের নীতি নয়; বরং দীর্ঘদিনের মার্কিন কৌশলেরই প্রতিফলন।

আয়াতুল্লাহ খামেনির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মতো সক্ষমতা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিসম্পন্ন একটি দেশকে সহ্য করতে পারে না।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সহিংসতায় জড়িতদের ‘ইরানের জনগণ’ হিসেবে তুলে ধরাকে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে গুরুতর অপবাদ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ধরনের প্রচারকে তিনি সরাসরি অপরাধ হিসেবে আখ্যা দেন।

তিনি আরও বলেন, এই ষড়যন্ত্রের পেছনে যেসব ব্যক্তি জড়িত, তাদের অনেককে মার্কিন ও ইসরায়েলি সংস্থাগুলো শনাক্ত, প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন করেছে। তাদের ভয় সৃষ্টি, ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এবং জনশৃঙ্খলা নষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারা নিজেদের আন্দোলনের নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছিল।

সর্বোচ্চ নেতা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকরভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে এবং এ ধরনের বহু উপাদানকে আটক করা হয়েছে।

ভাষণের শেষাংশে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, “আমরা দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেব না। তবে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক অপরাধীদেরও শাস্তি ছাড়া ছেড়ে দেওয়া হবে না।”