ইউক্রেনে শীতের শুরু থেকেই ড্রোন এবং মিসাইল হামলা জোরদার করেছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। সাম্প্রতিক সময়ে, ইউক্রেনের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতেই বেশি হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। এবার, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে থাকা দেশটির অন্যতম বৃহৎ একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে মস্কো। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা আই এ ই এ জানিয়েছে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝিয়ার ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতেই হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। যদিও, সম্প্রতি, এই অঞ্চলটির বেশিরভাগ অংশ নিজেদের দখলে নেবার দাবি করেছে রুশ বাহিনী।
এদিকে, ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী ইহোর ক্লাইমেনকো জানিয়েছেন, তার দেশটির অন্তত পাঁচটি অঞ্চলে এই হামলাটি চালিয়েছে রাশিয়া। যার কারণে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। আর এতেই, সাময়িকভাবে প্রায় ১০ লাখ পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
এর আগে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, নতুন এই হামলায় প্রায় সাড়ে চারশ আত্মঘাতি ড্রোন এবং ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। আর রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, এবারের হামলায় কিনঝাল মডেলের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে তারা। নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার আগে এই মিসাইলটিকে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। এমনকি, মাঝ পথে কিনঝাল মিসাইলটি হামলার দিকও পরিবর্তন করতে সক্ষম। যার ফলে, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সম্প্রতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে শান্তি ফেরাতে একটি খসড়া প্রস্তাব হাজির করে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেই প্রস্তাবকে মেনে নিলেও একপ্রকার প্রত্যাখ্যান করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। প্রশ্ন হলো, কেন যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানলো না ইউক্রেন?
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা ওই শান্তি চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, জেলেনস্কিকে তার দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের নির্দিষ্ট কৌশলগত কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে হবে রাশিয়ার কাছে। সেই সাথে, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর আকার কমিয়ে আনার শর্তও আছে ওই খসড়া শান্তি চুক্তিতে। আর এসব শর্তই মানতে নারাজ প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 





































