ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশ ছেড়ে পলাতক শাসকদের পরিণতি

ক্ষমতার দাপটে যাঁরা একসময় নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে বলে মনে করতেন, ক্ষমতার পালা বদলে তাঁরাই আইনের হাত থেকে বাঁচতে বিশ্বের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। কেউ কেউ এখনও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সীমাহীন দুর্নীতি আর মানবতাবিরোধী অপরাধের বোঝা মাথায় নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা কি আসলেই ধরাছোঁয়ার বাইরে? নাকি কঠিন শাস্তির মুখামুখি হতে হয়েছেন আত্মগোপন করা এই নেতাদের? বিশ্বজুড়ে ক্ষমতাচ্যুত পলাতক নেতাদের বিচার ও পরিণতির গল্প তুলে ধরা হচ্ছে এই প্রতিবেদনে।

তুরস্ক: ফেতুল্লাহ গুলেন– যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষিত 

২০১৬ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের জন্য প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ফেতুল্লাহ গুলেনের আন্দোলনকে দায়ী করেন। তুরস্ক সরকার গুলেনকে রাষ্ট্রদ্রোহী এবং সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে। আঙ্কারা একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটনের কাছে গুলেনকে তুরস্কের হাতে প্রত্যর্পণ করার জোরালো দাবি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাতে সাড়া দেয়নি। তুরস্কের বিভিন্ন আদালত ফেতুল্লাহ গুলেনের অনুপস্থিতিতেই তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও অভ্যুত্থানে উসকানির অভিযোগে একাধিক মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করেছে এবং কয়েক ডজন সাজার রায় ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য, অভ্যুত্থানের বহু বছর আগে থেকেই গুলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে বসবাস করছেন।

বলিভিয়া: ইভো মোরালেস ও জিনিন আনেজ – রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব 

বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস ২০১৯ সালে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমে আর্জেন্টিনা এবং পরে মেক্সিকোতে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন। ২০২০ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং দ্রুতই দেশের রাজনীতিতে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ক্ষমতাচ্যুতির পর তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি এবং নির্বাচনী অনিয়মের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এগুলোর আইনি লড়াই এখনো চলমান। মোরালেসের ক্ষমতাচ্যুতির পর তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জিনিন আনেজ-এর বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহার এবং সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২৪ সালে গ্রেফতার করা হয়।

ইয়েমেন: আলী আবদুল্লাহ সালেহ – গৃহযুদ্ধে মৃত্যু 

২০১১ সালের আরব বসন্তের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ ক্ষমতাচ্যুত হন এবং সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সৌদি আরব থেকে ফিরে এসে তিনি বিস্ময়করভাবে তাঁর পুরনো শত্রু, অর্থাৎ হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে জোট বেঁধে দেশের অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। জোট গড়ার কয়েক বছর পর সম্পর্কের অবনতি ঘটলে তিনি হুথিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এবং ২০১৭ সালে রাজধানী সানাতে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে এক সংঘর্ষে তিনি নিহত হন।

ইরাক: সাদ্দাম হুসেইন – ফাঁসি কার্যকর 

মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের আক্রমণে ২০০৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাদ্দাম হুসেইন প্রায় আট মাস ধরে পালিয়ে ছিলেন। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং ইরাকের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিচার শুরু হয়। ১৯৮২ সালে ১৪৮ জন শিয়া মুসলমানকে হত্যার দায়ে তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর বাগদাদে ফাঁসির মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

লিবিয়া: মুয়াম্মার গাদ্দাফি– বিদ্রোহীদের হাতে নিহত 

২০১১ সালের আরব বসন্তের বিদ্রোহের মুখে লিবিয়ার শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি আত্মগোপনে যান। পরে তিনি বিদ্রোহীদের হাতে বন্দী হন এবং পরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু করলেও, জীবিত অবস্থায় তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়নি। তাঁর আগে হত্যা করা হয়।

তিউনিসিয়া: বেন আলী– সৌদি আরবে মৃত্যু 

২০১১ সালে তিউনিসিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট জিন আল আবেদিন বেন আলী সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তাঁর অনুপস্থিতিতে তিউনিসিয়ার আদালত দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে একাধিক সাজার রায় ঘোষণা করে। সৌদি আরবে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ায় তিনি দেশে ফেরেননি এবং সেখানেই ২০১৯ সালে মারা যান।

উগান্ডা: ইদি আমিন– সৌদি আরবের আশ্রয়  

১৯৭৯ সালে স্বৈরচাঋ সরকার প্রধান ইদি আমিন দেশত্যাগ করে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। তাঁর শাসনামলে বহু মানুষ হত্যার শিকার হন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাঁর বিচার দাবি করলেও, সৌদি আরব তাঁকে প্রত্যর্পণ করেনি। ২০০৩ সালে বিনাবিচারে তিনি সেখানেই মারা যান।

ইথিওপিয়া: মেঙ্গিস্টু হাইলে মারিয়াম- জিম্বাবুয়ের সুরক্ষা 

গণহত্যা ও রাজনৈতিক হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সামরিক শাসক মেঙ্গিস্টু হাইলে মারিয়াম ১৯৯১ সালে ক্ষমতাচ্যুতির পর জিম্বাবুয়েতে পালিয়ে যান। ২০০৬ সালে ইথিওপিয়ার আদালত তাঁকে অনুপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও, জিম্বাবুয়ে তাঁকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে, ফলে তিনি বিচার এড়াতে সক্ষম হয়েছেন।

জিম্বাবুয়ে: রবার্ট মুগাবে – বিচার এড়িয়ে নিরাপদ নির্বাসন

প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে ২০১৭ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। মুগাবের ক্ষমতাচ্যুতির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো তাঁর পরিণতি। তাঁর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণহত্যা এবং দেশের অর্থনৈতিক ধস তৈরির মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। বিচার এড়িয়ে নিরাপদ নির্বাসনে ছিলেন তিনি। নির্বাসনে থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালে সিঙ্গাপুরে মারা যান।

 

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

দেশ ছেড়ে পলাতক শাসকদের পরিণতি

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

ক্ষমতার দাপটে যাঁরা একসময় নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে বলে মনে করতেন, ক্ষমতার পালা বদলে তাঁরাই আইনের হাত থেকে বাঁচতে বিশ্বের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। কেউ কেউ এখনও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সীমাহীন দুর্নীতি আর মানবতাবিরোধী অপরাধের বোঝা মাথায় নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা কি আসলেই ধরাছোঁয়ার বাইরে? নাকি কঠিন শাস্তির মুখামুখি হতে হয়েছেন আত্মগোপন করা এই নেতাদের? বিশ্বজুড়ে ক্ষমতাচ্যুত পলাতক নেতাদের বিচার ও পরিণতির গল্প তুলে ধরা হচ্ছে এই প্রতিবেদনে।

তুরস্ক: ফেতুল্লাহ গুলেন– যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষিত 

২০১৬ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের জন্য প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ফেতুল্লাহ গুলেনের আন্দোলনকে দায়ী করেন। তুরস্ক সরকার গুলেনকে রাষ্ট্রদ্রোহী এবং সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে। আঙ্কারা একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটনের কাছে গুলেনকে তুরস্কের হাতে প্রত্যর্পণ করার জোরালো দাবি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাতে সাড়া দেয়নি। তুরস্কের বিভিন্ন আদালত ফেতুল্লাহ গুলেনের অনুপস্থিতিতেই তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও অভ্যুত্থানে উসকানির অভিযোগে একাধিক মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করেছে এবং কয়েক ডজন সাজার রায় ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য, অভ্যুত্থানের বহু বছর আগে থেকেই গুলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে বসবাস করছেন।

বলিভিয়া: ইভো মোরালেস ও জিনিন আনেজ – রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব 

বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস ২০১৯ সালে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমে আর্জেন্টিনা এবং পরে মেক্সিকোতে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন। ২০২০ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং দ্রুতই দেশের রাজনীতিতে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ক্ষমতাচ্যুতির পর তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি এবং নির্বাচনী অনিয়মের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এগুলোর আইনি লড়াই এখনো চলমান। মোরালেসের ক্ষমতাচ্যুতির পর তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জিনিন আনেজ-এর বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহার এবং সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২৪ সালে গ্রেফতার করা হয়।

ইয়েমেন: আলী আবদুল্লাহ সালেহ – গৃহযুদ্ধে মৃত্যু 

২০১১ সালের আরব বসন্তের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ ক্ষমতাচ্যুত হন এবং সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সৌদি আরব থেকে ফিরে এসে তিনি বিস্ময়করভাবে তাঁর পুরনো শত্রু, অর্থাৎ হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে জোট বেঁধে দেশের অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। জোট গড়ার কয়েক বছর পর সম্পর্কের অবনতি ঘটলে তিনি হুথিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এবং ২০১৭ সালে রাজধানী সানাতে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে এক সংঘর্ষে তিনি নিহত হন।

ইরাক: সাদ্দাম হুসেইন – ফাঁসি কার্যকর 

মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের আক্রমণে ২০০৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাদ্দাম হুসেইন প্রায় আট মাস ধরে পালিয়ে ছিলেন। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং ইরাকের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিচার শুরু হয়। ১৯৮২ সালে ১৪৮ জন শিয়া মুসলমানকে হত্যার দায়ে তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর বাগদাদে ফাঁসির মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

লিবিয়া: মুয়াম্মার গাদ্দাফি– বিদ্রোহীদের হাতে নিহত 

২০১১ সালের আরব বসন্তের বিদ্রোহের মুখে লিবিয়ার শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি আত্মগোপনে যান। পরে তিনি বিদ্রোহীদের হাতে বন্দী হন এবং পরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু করলেও, জীবিত অবস্থায় তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়নি। তাঁর আগে হত্যা করা হয়।

তিউনিসিয়া: বেন আলী– সৌদি আরবে মৃত্যু 

২০১১ সালে তিউনিসিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট জিন আল আবেদিন বেন আলী সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তাঁর অনুপস্থিতিতে তিউনিসিয়ার আদালত দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে একাধিক সাজার রায় ঘোষণা করে। সৌদি আরবে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ায় তিনি দেশে ফেরেননি এবং সেখানেই ২০১৯ সালে মারা যান।

উগান্ডা: ইদি আমিন– সৌদি আরবের আশ্রয়  

১৯৭৯ সালে স্বৈরচাঋ সরকার প্রধান ইদি আমিন দেশত্যাগ করে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। তাঁর শাসনামলে বহু মানুষ হত্যার শিকার হন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাঁর বিচার দাবি করলেও, সৌদি আরব তাঁকে প্রত্যর্পণ করেনি। ২০০৩ সালে বিনাবিচারে তিনি সেখানেই মারা যান।

ইথিওপিয়া: মেঙ্গিস্টু হাইলে মারিয়াম- জিম্বাবুয়ের সুরক্ষা 

গণহত্যা ও রাজনৈতিক হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সামরিক শাসক মেঙ্গিস্টু হাইলে মারিয়াম ১৯৯১ সালে ক্ষমতাচ্যুতির পর জিম্বাবুয়েতে পালিয়ে যান। ২০০৬ সালে ইথিওপিয়ার আদালত তাঁকে অনুপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও, জিম্বাবুয়ে তাঁকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে, ফলে তিনি বিচার এড়াতে সক্ষম হয়েছেন।

জিম্বাবুয়ে: রবার্ট মুগাবে – বিচার এড়িয়ে নিরাপদ নির্বাসন

প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে ২০১৭ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। মুগাবের ক্ষমতাচ্যুতির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো তাঁর পরিণতি। তাঁর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণহত্যা এবং দেশের অর্থনৈতিক ধস তৈরির মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। বিচার এড়িয়ে নিরাপদ নির্বাসনে ছিলেন তিনি। নির্বাসনে থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালে সিঙ্গাপুরে মারা যান।