ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করল কলম্বিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবমাননাকর মন্তব্য এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকির প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বোগোটা।

সোমবার (২১ অক্টোবর) কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল গার্সিয়া-পেনা ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছেন এবং প্রেসিডেন্ট পেত্রোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের এই পদক্ষেপকে কলম্বিয়া তাদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা হিসেবে তুলে ধরছে।

সম্প্রতি এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে ‘অবৈধ মাদক নেতা’ বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে তিনি হুমকি দেন, কলম্বিয়া যদি মাদক পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই হস্তক্ষেপ করবে এবং তা তাদের পছন্দসই কিছু হবে না।

এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কলম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরমান্ডো বেনেদেত্তি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য শুধু অপমানজনকই নয়, বরং এটিকে তারা দেশের বিরুদ্ধে ‘সামরিক হুমকি’ হিসেবেই দেখছেন।

কূটনৈতিক এই উত্তেজনার পেছনে আরেকটি বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান। মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা উপকূলে কয়েকটি সন্দেহভাজন মাদকবাহী জাহাজে তারা অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে একাধিক লোক নিহত হন। কলম্বিয়া জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন আলেজান্দ্রো কারাঞ্জা নামের স্থানীয় জেলে ছিলেন, যার মাদক চক্রের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

প্রেসিডেন্ট পেত্রো অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযান চালিয়ে শুধু নিরীহ নাগরিকদের হত্যা করেনি, বরং কলম্বিয়ার আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করে দেশের সার্বভৌমত্বও লঙ্ঘন করেছে।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তারা একটি জাহাজে অভিযান চালিয়েছে যা নাকি একটি বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠী মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহার করছিল। তবে এই অভিযানের পক্ষে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেয়নি।

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করল কলম্বিয়া

আপডেট সময় : ০১:০৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবমাননাকর মন্তব্য এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকির প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বোগোটা।

সোমবার (২১ অক্টোবর) কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল গার্সিয়া-পেনা ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছেন এবং প্রেসিডেন্ট পেত্রোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের এই পদক্ষেপকে কলম্বিয়া তাদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা হিসেবে তুলে ধরছে।

সম্প্রতি এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে ‘অবৈধ মাদক নেতা’ বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে তিনি হুমকি দেন, কলম্বিয়া যদি মাদক পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই হস্তক্ষেপ করবে এবং তা তাদের পছন্দসই কিছু হবে না।

এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কলম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরমান্ডো বেনেদেত্তি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য শুধু অপমানজনকই নয়, বরং এটিকে তারা দেশের বিরুদ্ধে ‘সামরিক হুমকি’ হিসেবেই দেখছেন।

কূটনৈতিক এই উত্তেজনার পেছনে আরেকটি বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান। মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা উপকূলে কয়েকটি সন্দেহভাজন মাদকবাহী জাহাজে তারা অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে একাধিক লোক নিহত হন। কলম্বিয়া জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন আলেজান্দ্রো কারাঞ্জা নামের স্থানীয় জেলে ছিলেন, যার মাদক চক্রের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

প্রেসিডেন্ট পেত্রো অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযান চালিয়ে শুধু নিরীহ নাগরিকদের হত্যা করেনি, বরং কলম্বিয়ার আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করে দেশের সার্বভৌমত্বও লঙ্ঘন করেছে।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তারা একটি জাহাজে অভিযান চালিয়েছে যা নাকি একটি বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠী মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহার করছিল। তবে এই অভিযানের পক্ষে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেয়নি।