ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্প জানালেন ভারতের সিদ্ধান্ত, দিল্লি জানে না!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও এমন এক দাবি করেছেন, যা ভারতকে কঠিন কূটনৈতিক পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে। হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাকে জানিয়েছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। ট্রাম্পের কথায়, ‘এটা হঠাৎ করে করা যায় না, এটা একটা প্রক্রিয়া, যা শিগগিরই সম্পন্ন হবে।’

এই বক্তব্যের পরই ভারতে শুরু হয় বিতর্ক। কারণ, ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কোনো নিশ্চয়তা বা ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে এমন কোনো আলোচনা হয়নি।’ এর আগেও জয়সওয়াল বলেন, ভারত তার ভোক্তাদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে জ্বালানি আমদানি সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ করে। কিন্তু এই বক্তব্য ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি খণ্ডন করে না, ফলে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ভারতের রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে লিখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদী ট্রাম্পকে ভয় পান। আমরা এখন ট্রাম্পকে আমাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দিচ্ছি।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘অপারেশন সিন্দুর নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যেরও প্রতিবাদ করেননি প্রধানমন্ত্রী, অথচ আমেরিকার অবহেলার পরও মোদী তাকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান।’

রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, ট্রাম্পের দাবির কারণে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে। কারণ, ভারতের জনগণ ও বিরোধীরা জানতে চায়, ভারতের মতো স্বাধীন দেশের পক্ষ থেকে নীতিগত সিদ্ধান্তের ঘোষণা যদি অন্য কোনো দেশের নেতা করে থাকেন, তাহলে সেটা ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আঘাত।

এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির পর্যবেক্ষকরাও চিন্তিত। ভারতের সাবেক বিদেশসচিব কানওয়াল সিব্বল ট্রাম্পের বক্তব্যের ভিডিও এক্স-এ শেয়ার করে লিখেছেন, এটাই সমস্যা। ট্রাম্প সবকিছু নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করেন এবং বিভ্রান্তি ছড়ান।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারত ইরানের কাছ থেকে একসময় তেল আমদানি বন্ধ করেছিল মার্কিন চাপে, কিন্তু রাশিয়া ইরানের মতো নয়। রাশিয়া বহু দশক ধরে ভারতের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র। স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকেই ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক দৃঢ়। মহাকাশ, প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তিসহ বহু খাতে রাশিয়া ভারতের প্রধান অংশীদার। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় যখন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল, তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের পাশে দাঁড়িয়েছিল ভারত। সেই বন্ধুত্ব এখনো অটুট।

সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও বলেন, গত ৫০ বছরে বৈশ্বিক রাজনীতির পরিবর্তন সত্ত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক স্থিতিশীল থেকেছে। ২০২৪ সালে শেষ হওয়া অর্থবছরে ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৬৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে ভারতের রফতানি মাত্র ৪.৯ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি অনেক বেশি। এর অধিকাংশই অপরিশোধিত তেল।

রাশিয়া ভারতকে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় সস্তায় তেল বিক্রি করে আসছিল। তবে ব্লুমবার্গ-এর তথ্য অনুসারে, এই মূল্যছাড়ের পার্থক্য ধীরে ধীরে কমে এসেছে। ২০২৩ সালে যেখানে রাশিয়ার তেল আন্তর্জাতিক মূল্যের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ২৩ ডলার পর্যন্ত কমে বিক্রি হতো, সেখানে ২০২৪ সালের অক্টোবরে তা নেমে এসেছে মাত্র আড়াই ডলারে।

অন্যদিকে, ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তেল আমদানি বাড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত, ভারত রাশিয়া থেকে ১৯.৮ বিলিয়ন ডলারের তেল আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.২ শতাংশ কম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি বেড়েছে ৭৮.৬ শতাংশ, যা এবার দাঁড়িয়েছে ৫ বিলিয়ন ডলার।

এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে ভারত রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই কিছুটা ঝুঁকছে। কিন্তু ট্রাম্প তাতেও সন্তুষ্ট নন। ট্রাম্পের দাবি এবং প্রকাশ্যে ভারতের হয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণার ভঙ্গিমা দিল্লির জন্য একধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞ অজয় শ্রীবাস্তব মনে করেন, এমন সময় ট্রাম্প এই দাবি করলেন, যখন ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলে বিষয়টি শুধু জ্বালানি নয়, কৌশলগত ও বাণিজ্যিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, ভারত এখনো রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করেনি। কিন্তু ইতোমধ্যে আমদানির পরিমাণ কমেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বেড়েছে। অর্থাৎ ভারত নিজেদের নীতির মধ্যেই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যদি প্রকাশ্যে কিছু বলে বসেন, তার জবাব দেওয়া ভারতের পক্ষে সহজ হয় না।

অন্যদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করাও ভারতের জন্য কঠিন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের হিসাব বলছে, যদি ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে, তাহলে বার্ষিক আমদানি খরচ ৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এছাড়া ক্রেডিট রেটিং সংস্থা আইসিআরএ জানিয়েছে, রাশিয়ার তেল নিয়ে ছাড় কমে যাওয়ার পরও গত অর্থবছরে ভারত প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রফতানি সর্বাধিক ২০২৪ সালে প্রায় ৮৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে ভারত।

সূত্র: বিবিসি

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

ট্রাম্প জানালেন ভারতের সিদ্ধান্ত, দিল্লি জানে না!

আপডেট সময় : ১১:১১:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও এমন এক দাবি করেছেন, যা ভারতকে কঠিন কূটনৈতিক পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে। হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাকে জানিয়েছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। ট্রাম্পের কথায়, ‘এটা হঠাৎ করে করা যায় না, এটা একটা প্রক্রিয়া, যা শিগগিরই সম্পন্ন হবে।’

এই বক্তব্যের পরই ভারতে শুরু হয় বিতর্ক। কারণ, ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কোনো নিশ্চয়তা বা ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে এমন কোনো আলোচনা হয়নি।’ এর আগেও জয়সওয়াল বলেন, ভারত তার ভোক্তাদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে জ্বালানি আমদানি সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ করে। কিন্তু এই বক্তব্য ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি খণ্ডন করে না, ফলে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ভারতের রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে লিখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদী ট্রাম্পকে ভয় পান। আমরা এখন ট্রাম্পকে আমাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দিচ্ছি।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘অপারেশন সিন্দুর নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যেরও প্রতিবাদ করেননি প্রধানমন্ত্রী, অথচ আমেরিকার অবহেলার পরও মোদী তাকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান।’

রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, ট্রাম্পের দাবির কারণে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে। কারণ, ভারতের জনগণ ও বিরোধীরা জানতে চায়, ভারতের মতো স্বাধীন দেশের পক্ষ থেকে নীতিগত সিদ্ধান্তের ঘোষণা যদি অন্য কোনো দেশের নেতা করে থাকেন, তাহলে সেটা ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আঘাত।

এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির পর্যবেক্ষকরাও চিন্তিত। ভারতের সাবেক বিদেশসচিব কানওয়াল সিব্বল ট্রাম্পের বক্তব্যের ভিডিও এক্স-এ শেয়ার করে লিখেছেন, এটাই সমস্যা। ট্রাম্প সবকিছু নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করেন এবং বিভ্রান্তি ছড়ান।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারত ইরানের কাছ থেকে একসময় তেল আমদানি বন্ধ করেছিল মার্কিন চাপে, কিন্তু রাশিয়া ইরানের মতো নয়। রাশিয়া বহু দশক ধরে ভারতের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র। স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকেই ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক দৃঢ়। মহাকাশ, প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তিসহ বহু খাতে রাশিয়া ভারতের প্রধান অংশীদার। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় যখন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল, তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের পাশে দাঁড়িয়েছিল ভারত। সেই বন্ধুত্ব এখনো অটুট।

সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও বলেন, গত ৫০ বছরে বৈশ্বিক রাজনীতির পরিবর্তন সত্ত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক স্থিতিশীল থেকেছে। ২০২৪ সালে শেষ হওয়া অর্থবছরে ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৬৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে ভারতের রফতানি মাত্র ৪.৯ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি অনেক বেশি। এর অধিকাংশই অপরিশোধিত তেল।

রাশিয়া ভারতকে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় সস্তায় তেল বিক্রি করে আসছিল। তবে ব্লুমবার্গ-এর তথ্য অনুসারে, এই মূল্যছাড়ের পার্থক্য ধীরে ধীরে কমে এসেছে। ২০২৩ সালে যেখানে রাশিয়ার তেল আন্তর্জাতিক মূল্যের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ২৩ ডলার পর্যন্ত কমে বিক্রি হতো, সেখানে ২০২৪ সালের অক্টোবরে তা নেমে এসেছে মাত্র আড়াই ডলারে।

অন্যদিকে, ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তেল আমদানি বাড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত, ভারত রাশিয়া থেকে ১৯.৮ বিলিয়ন ডলারের তেল আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.২ শতাংশ কম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি বেড়েছে ৭৮.৬ শতাংশ, যা এবার দাঁড়িয়েছে ৫ বিলিয়ন ডলার।

এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে ভারত রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই কিছুটা ঝুঁকছে। কিন্তু ট্রাম্প তাতেও সন্তুষ্ট নন। ট্রাম্পের দাবি এবং প্রকাশ্যে ভারতের হয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণার ভঙ্গিমা দিল্লির জন্য একধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞ অজয় শ্রীবাস্তব মনে করেন, এমন সময় ট্রাম্প এই দাবি করলেন, যখন ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলে বিষয়টি শুধু জ্বালানি নয়, কৌশলগত ও বাণিজ্যিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, ভারত এখনো রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করেনি। কিন্তু ইতোমধ্যে আমদানির পরিমাণ কমেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বেড়েছে। অর্থাৎ ভারত নিজেদের নীতির মধ্যেই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যদি প্রকাশ্যে কিছু বলে বসেন, তার জবাব দেওয়া ভারতের পক্ষে সহজ হয় না।

অন্যদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করাও ভারতের জন্য কঠিন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের হিসাব বলছে, যদি ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে, তাহলে বার্ষিক আমদানি খরচ ৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এছাড়া ক্রেডিট রেটিং সংস্থা আইসিআরএ জানিয়েছে, রাশিয়ার তেল নিয়ে ছাড় কমে যাওয়ার পরও গত অর্থবছরে ভারত প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রফতানি সর্বাধিক ২০২৪ সালে প্রায় ৮৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে ভারত।

সূত্র: বিবিসি