ঢাকা ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিচ্ছায় তালাকনামায় স্বাক্ষর করলে কি বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়? অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে নেতার পদত্যাগ ‘হাজিদের অর্থ ফেরত পাওয়া তারেক রহমান সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ দিল্লির মঞ্চে জ্ঞানেশকে নিশানা করে মমতার হুঁশিয়ারি রাশেদ খাঁনকে প্রধানমন্ত্রীর সচিব পদ থেকে অপসারণের দাবি লেবার পার্টির ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ব্যবহৃত বিছানায় নন-মাহরাম পুরুষের বসা বা ঘুমানো কি জায়েজ?

ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি আর অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে জমজমাট ব্যবসা: মিরপুরে চোর-পুলিশ খেলা

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৩১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৫৩ বার পড়া হয়েছে

মিরপুর ১০ নম্বর হোপ মার্কেট।


রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক ও ফুটপাত এখনও অবৈধ দখলে। শুধু মিরপুর-১০ নম্বর এলাকাতেই প্রায় সাড়ে তিনশ দোকান থেকে বছরে তোলা হয় কোটি টাকার চাঁদা। ফুটপাতের জায়গাও কেনাবেচা হচ্ছে লাখ লাখ টাকায়। একই সঙ্গে, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিনিময়ে ভাসমান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদা নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র।

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে দেখা যায়, মিরপুরে এই দখলদারদের সরাতে চলছে দায়সারা অভিযান, যেন চোর-পুলিশ খেলা। এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আমরা টহল দিই। যখন জনগণের অসুবিধা হয়, তখন দোকান তুলে দিই।’

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর থেকে হোপ মার্কেট এলাকার পানির ট্যাংক পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে চলছে এমন দখলের উৎসব। পুলিশের ঝটিকা অভিযানে তেমন ভাবলেশহীন দোকানিরাও। তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন আসা-যাওয়া নিয়মিতই হয়।

বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোকানপ্রতি রোজ তোলা হয় ৩০ থেকে ৫০ টাকা। সেই হিসাবে দেড়শ দোকান থেকে মাসে ওঠে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, যা বছরে দাঁড়ায় ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকায়। এই টাকা তোলা হয় রাস্তা যানজটমুক্ত রাখা ও বৈদ্যুতিক আলোর খরচের নামে। প্রকাশ্যেই এ কার্যক্রম চালাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকের পোশাকে একদল যুবক।

চাঁদা তোলেন এমনই একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, ‘আমরা কারও অধীনে কাজ করি না। আগে এখানে দোকানদারি করতাম। এখন দোকান ছেড়ে দিয়েছি। বড় ভাইরা বলেছেন, রাস্তার যানজট ক্লিয়ার রাখতে, তাই সেটাই করি।’

সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি খুঁটি থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে দোকানগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। শুধু রাস্তা নয়, ফুটপাতেও নেই হাঁটার জায়গা। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আওয়ামী লীগ আমলে এসব দোকানের জায়গা কেনাবেচা হতো দেড় থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায়। যদিও এখন নতুন করে বিক্রি হয় না, তবুও প্রায় দু’শ দোকান থেকে দৈনিক তোলা হচ্ছে ১২০ টাকা করে, যা বছরে দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৮৪ লাখ টাকা।

ফুটপাতের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘যে টাকায় দোকান কিনেছি, ওই টাকায় বিক্রি করব। এখন বিক্রি করলে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করা যাবে।’ আরেক বিক্রেতা বলেন, ‘তিন বছর আগে দোকান নিয়েছিলাম, তখন এক লাখ ৬০ হাজার টাকা পড়েছিল।’

মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন মূল সড়কে এমন দখল আর চাঁদাবাজির ঘটনা চলছে প্রকাশ্যেই। তাই ভুক্তভোগী নগরবাসীর প্রশ্ন, পুলিশ কী এসব দেখেও দেখে না?

পুলিশ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, ‘আগে আমরা সরিয়ে দিচ্ছি, তারপরও না গেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। চাঁদাবাজির সময় যাদের ধরা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে চালান করা হয়েছে।’

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে এমন হুঁশিয়ারির পরও থেকে যায় প্রশ্ন, সত্যি কি দখলমুক্ত হবে সড়ক, নাকি মিলিয়ে যাবে চিরচেনা আশ্বাসের ভিড়ে

আপলোডকারীর তথ্য

সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি আর অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে জমজমাট ব্যবসা: মিরপুরে চোর-পুলিশ খেলা

আপডেট সময় : ০৭:৩১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

মিরপুর ১০ নম্বর হোপ মার্কেট।


রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক ও ফুটপাত এখনও অবৈধ দখলে। শুধু মিরপুর-১০ নম্বর এলাকাতেই প্রায় সাড়ে তিনশ দোকান থেকে বছরে তোলা হয় কোটি টাকার চাঁদা। ফুটপাতের জায়গাও কেনাবেচা হচ্ছে লাখ লাখ টাকায়। একই সঙ্গে, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিনিময়ে ভাসমান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদা নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র।

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে দেখা যায়, মিরপুরে এই দখলদারদের সরাতে চলছে দায়সারা অভিযান, যেন চোর-পুলিশ খেলা। এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আমরা টহল দিই। যখন জনগণের অসুবিধা হয়, তখন দোকান তুলে দিই।’

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর থেকে হোপ মার্কেট এলাকার পানির ট্যাংক পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে চলছে এমন দখলের উৎসব। পুলিশের ঝটিকা অভিযানে তেমন ভাবলেশহীন দোকানিরাও। তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন আসা-যাওয়া নিয়মিতই হয়।

বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোকানপ্রতি রোজ তোলা হয় ৩০ থেকে ৫০ টাকা। সেই হিসাবে দেড়শ দোকান থেকে মাসে ওঠে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, যা বছরে দাঁড়ায় ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকায়। এই টাকা তোলা হয় রাস্তা যানজটমুক্ত রাখা ও বৈদ্যুতিক আলোর খরচের নামে। প্রকাশ্যেই এ কার্যক্রম চালাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকের পোশাকে একদল যুবক।

চাঁদা তোলেন এমনই একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, ‘আমরা কারও অধীনে কাজ করি না। আগে এখানে দোকানদারি করতাম। এখন দোকান ছেড়ে দিয়েছি। বড় ভাইরা বলেছেন, রাস্তার যানজট ক্লিয়ার রাখতে, তাই সেটাই করি।’

সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি খুঁটি থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে দোকানগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। শুধু রাস্তা নয়, ফুটপাতেও নেই হাঁটার জায়গা। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আওয়ামী লীগ আমলে এসব দোকানের জায়গা কেনাবেচা হতো দেড় থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায়। যদিও এখন নতুন করে বিক্রি হয় না, তবুও প্রায় দু’শ দোকান থেকে দৈনিক তোলা হচ্ছে ১২০ টাকা করে, যা বছরে দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৮৪ লাখ টাকা।

ফুটপাতের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘যে টাকায় দোকান কিনেছি, ওই টাকায় বিক্রি করব। এখন বিক্রি করলে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করা যাবে।’ আরেক বিক্রেতা বলেন, ‘তিন বছর আগে দোকান নিয়েছিলাম, তখন এক লাখ ৬০ হাজার টাকা পড়েছিল।’

মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন মূল সড়কে এমন দখল আর চাঁদাবাজির ঘটনা চলছে প্রকাশ্যেই। তাই ভুক্তভোগী নগরবাসীর প্রশ্ন, পুলিশ কী এসব দেখেও দেখে না?

পুলিশ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, ‘আগে আমরা সরিয়ে দিচ্ছি, তারপরও না গেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। চাঁদাবাজির সময় যাদের ধরা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে চালান করা হয়েছে।’

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে এমন হুঁশিয়ারির পরও থেকে যায় প্রশ্ন, সত্যি কি দখলমুক্ত হবে সড়ক, নাকি মিলিয়ে যাবে চিরচেনা আশ্বাসের ভিড়ে