২০২৪ সালের এক সাক্ষাৎকারে, শালেভ বলেছিলেন, হামাসের হামলার সময় তিনি এবং অ্যাডাম পরস্পরকে ভালোবাসি বলেছিলেন মৃতের মতো পড়ে থাকার অভিনয় করেছিলেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, ইসরাইলে একটি সঙ্গীত উৎসবে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের সংগঠন হামাস। হামাসের হামলায় বেঁচে যাওয়া একজন ইসরাইলি যুবক আত্মহত্যা করেছেন। হামলার দ্বিতীয় বার্ষিকীর কয়েকদিন পর শুক্রবার (১০ অক্টোবর) তিনি আত্মহত্যা করেন।
তার নাম রোই শালেভ (২৮)। দুই বছর আগে হামলায় তার বান্ধবী, ২৫ বছর বয়সী ম্যাপাল অ্যাডাম এবং তার বন্ধু হিলি সলোমনকে হারান শালেভ।
দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানায়, শুক্রবার নেতানিয়ার কাছে একটি হাইওয়ে এক্সিটে শালেভকে জ্বলন্ত গাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুসারে, সিসিটিভি ফুটেজে শালেভের দেহ উদ্ধার হওয়ার কিছুক্ষণ আগে একটি গ্যাস স্টেশনে জ্বালানি ভর্তি করার দৃশ্য ধরা পড়েছে।
মৃত্যুর আগে, শালেভ ইনস্টাগ্রামে একটি বার্তা শেয়ার করেছিলেন। তা হলো ‘আমি সত্যিই দুঃখিত। আমি আর এই ব্যথা সহ্য করতে পারছি না। আমি ভেতরে ভেতরে জ্বলছি। আর তা ধরে রাখতে পারছি না। আমার জীবনে কখনও এত যন্ত্রণা অনুভব করিনি। গভীর যন্ত্রণা আমাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে। আমি কেবল চাই এই যন্ত্রণার অবসান হোক। আমি বেঁচে আছি – কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি ইতিমধ্যেই মৃত।’
টাইমস অফ ইসরাইলের খবর অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখে, শালেভ এবং তার বান্ধবী ম্যাপাল অ্যাডাম রে’ইমের কাছে নোভা উৎসবে ছিলেন। তাদের চারপাশে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে তারা একটি ট্রাকের নিচে লুকিয়ে ছিলেন এবং ঘন্টার পর ঘন্টা মৃতের মতো পড়ে থাকার অভিনয় করেন। অ্যাডামকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছিল, যেখানে শালেভকে দুবার গুলি করা হয় কিন্তু পরে তিনি বেঁচে যান।
২০২৪ সালের এক ইউটিউব সাক্ষাৎকারে, শালেভ বলেছিলেন, ‘তিনি এবং অ্যাডাম আমি তোমাকে ভালোবাসি বলেছিলেন এবং হামাসের এক সদস্য আসার কয়েক মিনিট আগে তাদের চোখ বন্ধ করে মৃতের মতো অভিনয় করেছিলেন। হামাস সদস্যরা চলে গেল এবং আমি চোখ খুললাম – ম্যাপাল আমার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় আছে। তার হৃদয়ে গুলি লেগেছে।’
দ্য জেরুজালেম পোস্টের মতে, হামলার কয়েকদিন পর, শালেভের মাও আত্মহত্যা করে মারা যান। তার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।
উৎসবে নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী নোভা ট্রাইব কমিউনিটি সংগঠন শালেভের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। ‘রোই শালেভ ছিলেন সম্প্রদায়ের মেরুদণ্ড এবং তার মৃত্যু আমাদের জন্য অকল্পনীয় সংবাদ।’ গ্রুপটি একটি ফেসবুক বিবৃতিতে বলেছে।
৭ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখে হামাস দক্ষিণ ইসরাইলে একটি আক্রমণ চালায়, যেখানে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়। এরপর গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরাইল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, তখন থেকে ইসরাইলের অব্যাহত হামলায় গাজার ৬৭,২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের উদ্যোগে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে রাজি হয় ইসরাইল ও হামাস।
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 





































