ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্দি মুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের নতুন নাটক

 যুদ্ধবিরতির পর গাজায় আকাশ দিয়ে আর আতঙ্ক ছড়িয়ে তুলছে না কোনো ইসরাইলি যুদ্ধবিমান। কামানের গর্জনও আর ভীতি ছড়াচ্ছে না। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আসার ক্ষীণ আলো জেগে উঠতে শুরু করেছে এখন। দখলদার ইসরাইলের কারাগারে থাকা যুদ্ধবন্দীদের মুক্তির প্রতীক্ষায় চোখ মেলে বসে আছে শত শত ফিলিস্তিনি পরিবার। কিন্তু এসব যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে নতুন নাটক শুরু করেছে ইসরাইল। নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত মারওয়ান বারঘুতি সহ জনপ্রিয় ছয় নেতার মুক্তি নিয়ে টালবাহানা করছে নেতানিয়াহু সরকার।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও মুক্তির প্রক্রিয়া
মিডিল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন বলছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ইসরাইল ও স্বাধীনতাকামী হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। এর পরপরই ইসরাইলি ট্যাংকগুলো গাজার আল-রশিদ সড়ক থেকে পিছু হটে বলে জানা যায়।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী পর্যায়ে, আগামী সোমবার দুপুর থেকে গাজায় আটক থাকা আনুমানিক ২০ জন জীবিত বন্দি এবং ২৮ জন ইসরাইলির মৃতদেহ ফিরিয়ে দেবে হামাস যোদ্ধারা। এর বিনিময়ে ইসরাইল প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেবে। এর মধ্যে ২৫০ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং গাজা থেকে বিনা অভিযোগে আটক শত শত পুরুষ, নারী ও শিশু রয়েছে। ইতিমধ্যে মুক্তি পেতে যাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ইসরাইলের আইন মন্ত্রণালয়।

জনপ্রিয় ছয় নেতার মুক্তি নিয়ে ক্ষোভ
কিন্তু এই বন্দিদের তালিকায় ইসরাইলের কারাগারে আটক থাকা ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় নেতা মারওয়ান বারঘুতি, আহমদ সাদাত, আব্দুল্লাহ বারঘুতি, হাসান সালামে, ইব্রাহিম হামিদ এবং আব্বাস আল সায়েদের নাম নেই। ফিলিস্তিনের সর্বস্তরের জনগণের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এসব বন্দিদের নাম না থাকায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

হামাসের দাবি: হামাসের মিডিয়া অফিস বলছে, ইসরাইল কোন কোন বন্দিদের মুক্তি দেবে তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি। গণমাধ্যমে বন্দীদের যেসব তালিকা প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলো সঠিক নয় বলেও দাবি করছে তারা।

নেতানিয়াহু সরকারের বাগড়া: তবে মিডিল ইস্ট আই দাবি করেছে যে, ফিলিস্তিনের বেশ কয়েকজন আলোচিত রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্বকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ইসরাইলকে চাপ দিচ্ছে হামাস। কিন্তু এসব নেতাদের মুক্তি দিতে আপত্তি জানাচ্ছে ইসরাইল।

উগ্রবাদী মন্ত্রী বেন গাভিরের ভয়
মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে, ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় নেতা মারওয়ান বারঘুতিসহ ওই ছয় নেতার মুক্তিতে বাগড়া দিয়েছেন ইসরাইলের উগ্রবাদী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গাভির।

এই ছয় নেতা ফিলিস্তিনিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হওয়ায় বেন গাভির কিছুটা ভয়ের মধ্যে রয়েছেন। কারণ বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেলে এই ছয় নেতার নেতৃত্বে ফিলিস্তিনিদের ঐক্য ও মনোবল বাড়বে বলে ভয় পাচ্ছে ইসরাইল।

আর সে কারণেই ইসরাইলি সাম্রাজ্য ধ্বংস হওয়ার ভয়ে এদের মুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছেন নেতানিয়াহুর ডান হাত হিসেবে পরিচিত বেন গাভির। আর সেই কারণেই তাদের মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে।

তবে মিডিল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন বলছে, ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় এসব নেতাকে মুক্ত করতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হামাস।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

বন্দি মুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের নতুন নাটক

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

 যুদ্ধবিরতির পর গাজায় আকাশ দিয়ে আর আতঙ্ক ছড়িয়ে তুলছে না কোনো ইসরাইলি যুদ্ধবিমান। কামানের গর্জনও আর ভীতি ছড়াচ্ছে না। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আসার ক্ষীণ আলো জেগে উঠতে শুরু করেছে এখন। দখলদার ইসরাইলের কারাগারে থাকা যুদ্ধবন্দীদের মুক্তির প্রতীক্ষায় চোখ মেলে বসে আছে শত শত ফিলিস্তিনি পরিবার। কিন্তু এসব যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে নতুন নাটক শুরু করেছে ইসরাইল। নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত মারওয়ান বারঘুতি সহ জনপ্রিয় ছয় নেতার মুক্তি নিয়ে টালবাহানা করছে নেতানিয়াহু সরকার।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও মুক্তির প্রক্রিয়া
মিডিল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন বলছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ইসরাইল ও স্বাধীনতাকামী হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। এর পরপরই ইসরাইলি ট্যাংকগুলো গাজার আল-রশিদ সড়ক থেকে পিছু হটে বলে জানা যায়।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী পর্যায়ে, আগামী সোমবার দুপুর থেকে গাজায় আটক থাকা আনুমানিক ২০ জন জীবিত বন্দি এবং ২৮ জন ইসরাইলির মৃতদেহ ফিরিয়ে দেবে হামাস যোদ্ধারা। এর বিনিময়ে ইসরাইল প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেবে। এর মধ্যে ২৫০ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং গাজা থেকে বিনা অভিযোগে আটক শত শত পুরুষ, নারী ও শিশু রয়েছে। ইতিমধ্যে মুক্তি পেতে যাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ইসরাইলের আইন মন্ত্রণালয়।

জনপ্রিয় ছয় নেতার মুক্তি নিয়ে ক্ষোভ
কিন্তু এই বন্দিদের তালিকায় ইসরাইলের কারাগারে আটক থাকা ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় নেতা মারওয়ান বারঘুতি, আহমদ সাদাত, আব্দুল্লাহ বারঘুতি, হাসান সালামে, ইব্রাহিম হামিদ এবং আব্বাস আল সায়েদের নাম নেই। ফিলিস্তিনের সর্বস্তরের জনগণের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এসব বন্দিদের নাম না থাকায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

হামাসের দাবি: হামাসের মিডিয়া অফিস বলছে, ইসরাইল কোন কোন বন্দিদের মুক্তি দেবে তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি। গণমাধ্যমে বন্দীদের যেসব তালিকা প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলো সঠিক নয় বলেও দাবি করছে তারা।

নেতানিয়াহু সরকারের বাগড়া: তবে মিডিল ইস্ট আই দাবি করেছে যে, ফিলিস্তিনের বেশ কয়েকজন আলোচিত রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্বকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ইসরাইলকে চাপ দিচ্ছে হামাস। কিন্তু এসব নেতাদের মুক্তি দিতে আপত্তি জানাচ্ছে ইসরাইল।

উগ্রবাদী মন্ত্রী বেন গাভিরের ভয়
মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে, ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় নেতা মারওয়ান বারঘুতিসহ ওই ছয় নেতার মুক্তিতে বাগড়া দিয়েছেন ইসরাইলের উগ্রবাদী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গাভির।

এই ছয় নেতা ফিলিস্তিনিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হওয়ায় বেন গাভির কিছুটা ভয়ের মধ্যে রয়েছেন। কারণ বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেলে এই ছয় নেতার নেতৃত্বে ফিলিস্তিনিদের ঐক্য ও মনোবল বাড়বে বলে ভয় পাচ্ছে ইসরাইল।

আর সে কারণেই ইসরাইলি সাম্রাজ্য ধ্বংস হওয়ার ভয়ে এদের মুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছেন নেতানিয়াহুর ডান হাত হিসেবে পরিচিত বেন গাভির। আর সেই কারণেই তাদের মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে।

তবে মিডিল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন বলছে, ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় এসব নেতাকে মুক্ত করতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হামাস।