ইউক্রেন ও সিরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে দুই দেশের নেতাদের সাক্ষাৎকালীন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি রবিবার নিউ ইয়র্কে পৌঁছে অধিবেশনে অংশ নেন। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন ও সিরিয়া একটি কমিউনিকে স্বাক্ষর করেছে, যা কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রতীক।
সামাজিক মাধ্যমে এক্সে (আগে যার নাম ছিল টুইটার) জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই এবং সিরিয়ার জনগণকে স্থিতিশীলতার পথে সমর্থন দিতে প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে আলোচনায় আমরা উভয় দেশের মুখোমুখি থাকা নিরাপত্তা হুমকি, সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহ এবং তা মোকাবেলার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
আমরা আমাদের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে একমত হয়েছি।
ইউক্রেন ২০২২ সালে সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, যখন দেশটির সাবেক শাসক বাশার আল-আসাদের সরকার রাশিয়ার সমর্থিত পূর্ব ইউক্রেনের বিচ্ছিন্ন প্রজাতন্ত্র দোনেটস্ক ও লুহানস্কের স্বাধীনতা স্বীকৃতি দেয়। এরপর ইউক্রেনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয় সিরিয়া।
আল-শারার এই সফর সিরিয়ার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় ৬০ বছর পর রাষ্ট্রপতি পর্যায়ে সিরিয়া জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিচ্ছে। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে গোলান হাইটস দখলের পর থেকে এই সম্মেলন বয়কট করেছিল দামেস্কো।
গত জানুয়ারিতে আল-শারা ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে বিরোধী শক্তি প্রেসিডেন্ট আল-আসাদের শাসন উৎখাত করে পাঁচ দশকের আসাদ শাসন শেষ করে।
বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে তার অভিষেক ভাষণে আল-শারা বলেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া জরুরি। তিনি ক্ষমতা নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে নতুন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি, নির্বাচনের পরিকল্পনা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচেষ্টা।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 





































