এর আগে বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জানান, ২৬টি দেশ ইউক্রেনকে যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই প্রতিশ্রুতিতে স্থল, সমুদ্র ও আকাশসীমায় আন্তর্জাতিক বাহিনীর তদারকি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মাখোঁর এই ঘোষণার পরই পুতিন এমন প্রতিক্রিয়া জানালেন।
দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া দাবি করে আসছে, ইউক্রেনে তাদের সামরিক অভিযানের একটি প্রধান কারণ হলো পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকে ইউক্রেনে যুক্ত হতে এবং সেখানে তাদের বাহিনী মোতায়েন করতে বাধা দেওয়া। একটি অর্থনৈতিক ফোরামে পুতিন বলেন, “সামরিক অভিযানের সময় যদি সেখানে কিছু সেনা এসে হাজির হন, আমরা ধরেই নিই যে তারা বিনাশ করার জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবেন।”
পুতিন আরও জানান, যদি এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয় যা দীর্ঘমেয়াদী শান্তির দিকে নিয়ে যাবে, তাহলে ইউক্রেনে পশ্চিমা সেনাদের উপস্থিতির কোনো অর্থ তিনি দেখেন না। তার এই মন্তব্য মস্কো এবং কিয়েভের পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে ভবিষ্যৎ চুক্তির বিষয়ে বিস্তর মতপার্থক্য স্পষ্ট করে তোলে।
ইউক্রেন পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে তাদের নিরাপত্তার জন্য জোরালো সমর্থন চাইছে। ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য ইঙ্গিত দিয়েছে যে যুদ্ধ শেষ হলে তারা ইউক্রেনে সেনা মোতায়েন করতে প্রস্তুত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার দেশ ইউক্রেনে সেনা মোতায়েন করবে না, তবে আকাশপথের সুরক্ষাসহ অন্যান্য সহযোগিতা দেবে।
এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করলেও পুতিন মনে করেন, এ ধরনের বৈঠকের খুব বেশি অর্থ নেই। কারণ ইউক্রেনীয় পক্ষের সঙ্গে মূল বিষয়গুলো নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। তবে তিনি আবারও জেলেনস্কিকে মস্কোয় আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
জবাবে জেলেনস্কি বলেছেন, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু তিনি মনে করেন না যে পুতিন আসলে যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “পুতিন কথা বলতে পারেন, কিন্তু সেগুলো শুধুই কথার কথা এবং কেউ তার কথা বিশ্বাস করে না।”
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 





































