
সরজমিনে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টারগুলো সাঁটিয়েছেন বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা। সেখানে শহীদ জিয়ার ছবি স্থান পেয়েছে এক কোণায়। নেতাদের ছবিই পোস্টার-ফেস্টুনের বড় জায়গাজুড়ে স্থান পাচ্ছে।
কবরের অবকাঠামোর উপরে ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফ উদ্দীন জুয়েল ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কলাবাগান থানার আহ্বায়ক সাইদুর রহমান সাইদ। আর দেয়ালজুড়ে পোস্টার সাঁটিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম উপদেষ্টা যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালিক, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. বাবুল মৃধা, বিএনপি নেতা সাইফুল আলম নীরব, হানিফ ব্যাপারী, লিটন মাহামুদ বাবু, মো. আব্দুল কাদের।
দর্শনার্থীরা বলছেন, এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান। এখানে এর আগে এমন ব্যানার-ফেস্টুন তেমন দেখা যায়নি। জায়গাটি এমনিতেই অনেক সুন্দর। সাধারণ মানুষও প্রতিদিন এখানে আসেন। শহীদ জিয়ার কবরসহ আশেপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন। এখানে ব্যানার-ফেস্টুনগুলো বেমান ও অসম্মানজনকও। কারণ এখানে কিছু ব্যক্তি নিজের প্রচার করছেন। এমনটি কখনই কাম্য নয়।
পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় কাজে এসেছিলেন শমশের আলী। বুধবার সকালে শহীদ জিয়ার কবরের পাশে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তার। শমশের আলী বলেন, আমি বিএনপির কর্মী। গ্রামে থাকি। আগে কখনো আসা হয়নি। টিভিতে শহীদ জিয়ার কবর দেখেছি। এখন সরাসরি দেখতে এলাম। জায়গাটা এতো সুন্দর, সরাসরি না দেখলে বুঝতাম না। কিন্তু কবরের পাশে এমন ফেস্টুন-পোস্টার শুধু দৃষ্টিকটু নয়, শহীদ জিয়ার প্রতি অসম্মানও।

দর্শনার্থী শাহিনুর রহমান বলেন, আমরা তো প্রায়ই আসি। কিন্তু আগে এমন পোস্টার দেখিনি। এই পোস্টারগুলো এখানে দৃষ্টিকটুই লাগছে। আমাদের ন্যূনতম সম্মান দেখানো উচিত। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
পরিচ্ছন্নতা কর্মী মনিরুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বারবার অনুরোধ করি যেন পোস্টার না লাগায়। কিন্তু তারা শোনেন না। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগে লাগিয়েছে। এখনও আছে। প্রতিদিন দেখি দুয়েকটা করে পড়ে থাকে। নোংরা হয়।
দলীয় ও কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা মানে না কেউ: গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে এই সমাধি এলাকা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নতা ইনচার্জ নূর হোসেন জানান, আমাদেরসহ বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকেও স্পষ্ট নির্দেশনা আছে যে সমাধি এলাকায় কোনো পোস্টার লাগানো যাবে না। আমরা বারবার জানিয়েছি, এমনকি বিএনপির অফিস থেকেও কর্মীদের নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও তারা শোনে না। নেতাকর্মীরা যখন অনুষ্ঠান বা সমাবেশে আসে, তখনই এলোমেলোভাবে পোস্টার ঝুলিয়ে দেয়।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য (দফতরে সংযুক্ত) আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী ঢাকা মেইলকে বলেন, শেরেবাংলা নগরে সমাহিত আছেন আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। আমাদের দলের পক্ষ থেকে অনেকবার বলা হয়েছে এখানে ব্যানার ফেস্টুন বা পোস্টার লাগিয়ে যেন মাজারের সৌন্দর্য নষ্ট করা না হয়। কিন্তু তারপরও অনেককে নিবৃত্ত করা যাচ্ছে না, যা দুঃখজনক। মাজার প্রাঙ্গণের পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার, তাই ভবিষ্যতেও যদি এরকম কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত করা যায় তাহলে দল হয়ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।
আমার সবার কাছে অনুরোধ থাকবে কেউ যেন ব্যানার ফেস্টুন বা পোস্টার লাগিয়ে মাজার প্রাঙ্গণের সৌন্দর্য নষ্ট না করেন।
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 





































