ইতালির পিসা শহরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন গাজার তরুণী মারাহ আবু জুহরি (১৯)।
ইসরাইল দাবি করেছিল, তিনি লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। তবে ইতালির চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লিউকেমিয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং তিনি ছিলেন ‘চরম অপুষ্টি ও অজ্ঞাত রোগে’ আক্রান্ত।
গত বুধবার ইতালির পন্তাসেরকিও শহরে শত শত মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় বারবার ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান ওঠে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ইসরাইলের গাজা নীতির নিন্দা জানিয়ে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
মারাহর কফিন ছিল ফিলিস্তিনি পতাকা ও কেফিয়াহ স্কার্ফে মোড়ানো। স্থানীয় মেয়র মাত্তেও চেচেল্লি বলেন, “গাজায় প্রতিদিন মানুষ মরছে অথচ বিশ্ব সরকারগুলো কর্ণপাত করছে না। আমরা নীরব থাকতে পারি না, তাই আজ শান্তির মাঠে দাঁড়িয়ে আমরা আওয়াজ তুলেছি এই গণহত্যার বিরুদ্ধে।”
গত ১৩-১৪ আগস্ট রাতে ইতালির এক মানবিক বিমানযোগে ৩১ জন অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনিকে ইতালিতে আনা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন মারাহও। গত এক বছরে প্রায় এক হাজার রোগী ও তাদের পরিবারকে এভাবে ইতালিতে নেওয়া হয়েছে।
পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্তা কিয়ারা হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর ১৫ আগস্ট মারাহ মারা যান। হাসপাতালের বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি ‘অত্যন্ত জটিল ও বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য অবস্থায়’ পৌঁছেছিলেন এবং ‘চরম অপুষ্টিতে ভুগছিলেন’। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ও পরবর্তী হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে।
বিভাগীয় প্রধান ডা. সারা গালিমবার্তি জানান, তাকে ‘লিউকেমিয়া সন্দেহে’ ভর্তি করা হলেও পরীক্ষায় কোনো খারাপ কোষ বা লিউকেমিয়ার লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “রোগী সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ছিলেন এবং মারাত্মকভাবে অপুষ্টিতে ভুগছিলেন। বয়স মাত্র ১৯ হলেও অবস্থাটি ছিল ভয়াবহ।”
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ হাজারেরও বেশি রোগী ও আহতকে গাজার বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের বিলম্ব ও বাতিল সিদ্ধান্তের কারণে অনেকেই মারা যাচ্ছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরাইলের ২২ মাসের হামলা ও অবরোধে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জুলাই মাসে শুধু ৫ বছরের নিচে প্রায় ১২ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে আড়াই হাজার শিশু ছিল গুরুতর অবস্থায়।
তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার দাবি করেছেন, “গাজায় কেউ না খেয়ে মরছে না, কোনো ক্ষুধানীতিও নেই।” কিন্তু এপি-র অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিদিন গাজার হাসপাতালে কেবল অপুষ্টিজনিত কারণে শিশু ভর্তি হচ্ছে এবং অনেকে মারা যাচ্ছে।
মারাহর মা নাবিলা আবু জুহরি কন্যার সঙ্গে ইতালিতে এসেছিলেন। মেয়ে হারানোর বেদনায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার হৃদয়ের একটি অংশ আপনাদের সঙ্গে রেখে যাচ্ছি।” ধর্মীয় কারণে তিনি মেয়ের ময়নাতদন্তে সম্মতি দেননি।
জানাজায় উপস্থিত পিসার ইমাম মুহাম্মদ খালিল বলেন, “আজ আমরা মারাহর জন্য দোয়া করছি, একই সঙ্গে গাজার ক্ষুধা ও অবরোধের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুলছি।”
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 





































