ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টি-টোয়েন্টিতে রশিদ খানের ইতিহাস, নট আউট ৬৫০!

  • চেতনায়২৪ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
  • ২৬২ বার পড়া হয়েছে

টি-টোয়েন্টির রাজা রশিদ খান


টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের নামটা নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন আফগানিস্তানের লেগস্পিনার রশিদ খান। ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে এই ফরম্যাটে ৬৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। ইংল্যান্ডে চলমান ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে লন্ডন স্পিরিটের বিপক্ষে ওভাল ইনভিন্সিবলসের হয়ে খেলতে নেমেই গড়েন ইতিহাস! ২৬ রানে তিন উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েন রশিদ। ঐতিহাসিক লর্ডস মাঠে গড়েন এই কীর্তি!

এই ম্যাচ শেষে তার টি-টোয়েন্টি উইকেট সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৫১। ৪৮২টি ম্যাচ খেলে ৪৭৮ ইনিংসে তার গড় ১৮.৫৪, স্ট্রাইক রেট ১৬.৯০ এবং ইকোনমি রেট ৬.৫৭। এমন পারফরম্যান্স যে কোনো বোলারের স্বপ্ন, অথচ রশিদ এটি করে চলেছেন প্রায় প্রতি মৌসুমেই। তার ঝুলিতে আছে চারটি পাঁচ উইকেটের পারফরম্যান্সও।

টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত ইতিহাসে বহু নাম উজ্জ্বল থাকলেও, রশিদ খানের মতো ধারাবাহিক ও বিধ্বংসী বোলার খুব কমই দেখা গেছে। তিনি যখন বল হাতে নেন, তখন প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চোখেমুখে একটা চাপ লক্ষ করা যায়। তার প্রতিটি বল যেন সম্ভাব্য উইকেট। এই কারণেই তাকে ‘ব্যাটারদের যম’ বলে অভিহিত করা হয়। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নয়, আইপিএল, পিএসএল, বিপিএল, বিগ ব্যাশসহ বিশ্বের প্রায় সব জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেই সফল রশিদ।

রশিদের এই কীর্তির পর স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীদের তালিকায় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার ডোয়াইন ব্রাভো, যিনি ৬৩১ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। তবে ব্রাভো ইতিমধ্যেই সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন এবং বর্তমানে মূলত কোচিংয়ে ব্যস্ত।

এই তালিকায় এরপর আছেন সুনীল নারাইন, যিনি এখনও আইপিএলসহ নানা লিগে খেলছেন এবং তার উইকেট সংখ্যা ৫৮৯। দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহিরের উইকেট সংখ্যা ৫৪৭ এবং বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানের ৪৯৮।

সাকিব আল হাসান কিছুদিন আগেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন। তবে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তিনি এখনও খেলে থাকেন। যদিও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং মাঠের বাইরে নানা ইস্যুতে তার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। পিএসএলে মাত্র একটি উইকেট ও গ্লোবাল সুপার লিগে পাঁচ উইকেট নেওয়ায় বোঝা যায়-সাকিব হয়তো আর আগের মতো ছন্দে নেই। এছাড়া বোলিং নিষেধাজ্ঞার সময়টাও তার ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে রশিদের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে ২০১৫ সালে। মাত্র ১০ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি যা করে দেখিয়েছেন, তা অনেক কিংবদন্তিও করতে পারেননি। সাকিব, ব্রাভো ও তাহির যেখানে ২০০৬ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি খেলছেন, সেখানে রশিদ এবং নারাইন অনেক কম সময়েই উঠে এসেছেন সেরা পাঁচে। তার মানে এই নয় যে তাদের প্রভাব কম ছিল, বরং রশিদের ক্ষেত্রে এটি তার অল্প সময়ে অনেক বেশি পারফরম্যান্স করার প্রমাণ।

বর্তমানে দ্য হান্ড্রেডে ওভাল ইনভিন্সিবলসের হয়ে খেলছেন রশিদ। পরবর্তী ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার অরিজিনালসের সঙ্গে। এমন ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অচিরেই তার উইকেট সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে শীর্ষ পাঁচ উইকেটশিকারী

বোলার উইকেট

রশিদ খান ৬৫১

ডোয়াইন ব্রাভো ৬৩১

সুনীল নারাইন ৫৮৯

ইমরান তাহির ৫৪৭

সাকিব আল হাসান ৪৯৮

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী দেখতে ‘সুন্দর’ না হওয়ায় তাকে তালাক দেওয়া যাবে?

টি-টোয়েন্টিতে রশিদ খানের ইতিহাস, নট আউট ৬৫০!

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

টি-টোয়েন্টির রাজা রশিদ খান


টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের নামটা নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন আফগানিস্তানের লেগস্পিনার রশিদ খান। ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে এই ফরম্যাটে ৬৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। ইংল্যান্ডে চলমান ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে লন্ডন স্পিরিটের বিপক্ষে ওভাল ইনভিন্সিবলসের হয়ে খেলতে নেমেই গড়েন ইতিহাস! ২৬ রানে তিন উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েন রশিদ। ঐতিহাসিক লর্ডস মাঠে গড়েন এই কীর্তি!

এই ম্যাচ শেষে তার টি-টোয়েন্টি উইকেট সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৫১। ৪৮২টি ম্যাচ খেলে ৪৭৮ ইনিংসে তার গড় ১৮.৫৪, স্ট্রাইক রেট ১৬.৯০ এবং ইকোনমি রেট ৬.৫৭। এমন পারফরম্যান্স যে কোনো বোলারের স্বপ্ন, অথচ রশিদ এটি করে চলেছেন প্রায় প্রতি মৌসুমেই। তার ঝুলিতে আছে চারটি পাঁচ উইকেটের পারফরম্যান্সও।

টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত ইতিহাসে বহু নাম উজ্জ্বল থাকলেও, রশিদ খানের মতো ধারাবাহিক ও বিধ্বংসী বোলার খুব কমই দেখা গেছে। তিনি যখন বল হাতে নেন, তখন প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চোখেমুখে একটা চাপ লক্ষ করা যায়। তার প্রতিটি বল যেন সম্ভাব্য উইকেট। এই কারণেই তাকে ‘ব্যাটারদের যম’ বলে অভিহিত করা হয়। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নয়, আইপিএল, পিএসএল, বিপিএল, বিগ ব্যাশসহ বিশ্বের প্রায় সব জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেই সফল রশিদ।

রশিদের এই কীর্তির পর স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীদের তালিকায় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার ডোয়াইন ব্রাভো, যিনি ৬৩১ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। তবে ব্রাভো ইতিমধ্যেই সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন এবং বর্তমানে মূলত কোচিংয়ে ব্যস্ত।

এই তালিকায় এরপর আছেন সুনীল নারাইন, যিনি এখনও আইপিএলসহ নানা লিগে খেলছেন এবং তার উইকেট সংখ্যা ৫৮৯। দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহিরের উইকেট সংখ্যা ৫৪৭ এবং বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানের ৪৯৮।

সাকিব আল হাসান কিছুদিন আগেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন। তবে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তিনি এখনও খেলে থাকেন। যদিও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং মাঠের বাইরে নানা ইস্যুতে তার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। পিএসএলে মাত্র একটি উইকেট ও গ্লোবাল সুপার লিগে পাঁচ উইকেট নেওয়ায় বোঝা যায়-সাকিব হয়তো আর আগের মতো ছন্দে নেই। এছাড়া বোলিং নিষেধাজ্ঞার সময়টাও তার ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে রশিদের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে ২০১৫ সালে। মাত্র ১০ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি যা করে দেখিয়েছেন, তা অনেক কিংবদন্তিও করতে পারেননি। সাকিব, ব্রাভো ও তাহির যেখানে ২০০৬ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি খেলছেন, সেখানে রশিদ এবং নারাইন অনেক কম সময়েই উঠে এসেছেন সেরা পাঁচে। তার মানে এই নয় যে তাদের প্রভাব কম ছিল, বরং রশিদের ক্ষেত্রে এটি তার অল্প সময়ে অনেক বেশি পারফরম্যান্স করার প্রমাণ।

বর্তমানে দ্য হান্ড্রেডে ওভাল ইনভিন্সিবলসের হয়ে খেলছেন রশিদ। পরবর্তী ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার অরিজিনালসের সঙ্গে। এমন ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অচিরেই তার উইকেট সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে শীর্ষ পাঁচ উইকেটশিকারী

বোলার উইকেট

রশিদ খান ৬৫১

ডোয়াইন ব্রাভো ৬৩১

সুনীল নারাইন ৫৮৯

ইমরান তাহির ৫৪৭

সাকিব আল হাসান ৪৯৮