সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ৮ দিনের দিনের ব্যবধানে অর্ন্তত তিনটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। পর পর তিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। সন্ধ্যা হলেও এলাকায় রাস্তা ঘাটে লোকজন চলাফেরা করে না ভয়ে। এই এই শান্তি প্রিয় এলাকায় দিন দিন হত্যা করার মতো ঘটনা বেড়ে চলছে।
বুধবার (৬ আগষ্ট) রাত সাড়ে ৮ টার সময়ে জেলা শহরের সিনেমা হল মার্কেটের সামনে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে জাবেদ উমর জয় (১৯) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
জয় জেলা শহরের পুরাতন ক্যাম্প এলাকার জহিরুল হকের ছেলে। তিনি পঞ্চগড় পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের কর্মী বলে জানা গেছে।
এদিকে এ ঘটনায় শহরে উত্তেজনা দেখা দেয়। দোকানপাট বন্ধ করে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে শহরের পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কে বিক্ষোভ করে তার প্রতিবেশী, সহপাঠী ও বন্ধুরা। অপরাধীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত মরদেহ থানায় নিতে আপত্তি করেন বিক্ষুব্ধরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা সদস্যসহ অতিরিক্ত পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে মধ্যরাত পর্যন্ত শহরে থমথমে অবস্থা ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে বুধবার রাতে জয়কে ছুরিকাঘাত করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ও জেলা শহরের নতুনবস্তি এলাকার আল আমিন, পারভেজসহ কয়েকজন ছিলেন।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জয়কে উদ্ধার করে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
এছাড়াও গত মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাত ৮ টার সময়ে উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের শিলাইকুঠি বাজার এলাকায় বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের পরিত্যক্ত বাথরুম থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আল-হাবিব উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের শিলাইকুঠি গ্রামের ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি মো. আশরাফুল ইসলামের একমাত্র ছেলে।
নিহত আল-হাবিবকে মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও গলায় তার পড়নের শার্ট প্যাঁচ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ইউনিয়ন পরিষদের বাথরুমে ফেলে দিয়েছে। এটা পরিকল্পনা মাফিক হত্যা। যারা এই অমানবিক কাজ করেছেন তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় এলাকাবাসী।
অন্যদিকে গত মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার টুনিহাট বাজারে একটি জ্বালানি কাঠের (খড়ি) গোডাউন থেকে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতের নাম রফিকুল ইসলাম ওরফে ডুবু (৭০)। তিনি সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের কহরুহাট এলাকার বাসিন্দা হলেও টুনিহাট বাজারের পাশে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় আজিজুল ইসলাম ওরফে বাচ্চা নামের এক ব্যক্তি গোডাউনে গিয়ে গলাকাটা মরদেহটি দেখতে পান। এ সময় তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে তারা ইউপি চেয়ারম্যান ও থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধার সুরতহাল শেষে পুলিশ জানায়, গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে এবং জবাই করে হত্যা করা হয়েছে।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মুসা বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলমান খুব শীঘ্রই হত্যার মূল কাহিনী বেরিয়ে আসবে। গত বুধবারের ঘটনায় সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ হিল জামান বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা নেয়া হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শইমী ইমতিয়াজ বলেন, ‘পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের আঘাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আল আমিন ও পারভেজসহ কয়েকজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের গ্রেফতার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথঅভিযান অব্যাহত রেখেছে।
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 





































