বিএনপি নেতা কে এম জুয়েল (বায়ে) এবং ইউএনও ফয়সাল আহমেদ।
২ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ওই অডিওটি বুধবার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
দলীয় পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন সরিয়ে নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিএনপির এক নেতা ‘ধমকাচ্ছেন’ এমন একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী কে এম জুয়েল এবং ইউএনও ফয়সাল আহমেদের মধ্যে মঙ্গলবার বিকালে এই কথোপকথন হয়।
২ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ওই অডিওটি বুধবার রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
একজন বিএনপি নেতা জানান, প্রকৌশলী কে এম জুয়েল রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। এলাকায় প্রচারের জন্য সমর্থকরা গোদাগাড়ি সদরের ডাইংপাড়া মোড় চত্বরে তার পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগায়। এসবের মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ছিল। সেগুলো মঙ্গলবার অপসারণ করে উপজেলা প্রশাসনের লোকজন।
এরপর বিএনপি নেতা জুয়েল ইউএনওকে ফোন করেন। পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণের ‘প্রকৃত কারণ’ জানতে চান। জবাবে ইউএনও বলেন, জনগণের অভিযোগ ছিল।
তখন ওই বিএনপি নেতা প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কেন শুধু ওই জায়গার পোস্টার সরানো হল, অন্য জায়গার পোস্টার তো সরানো হয়নি।
একপর্যায়ে বিএনপি নেতা জুয়েল কিছুটা উচ্চস্বরেই ইউএনওর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি যেখানকার পোস্টার সেখানে লাগিয়ে দেওয়ার কথা বলেন।
তিনি ইউএনওকে উদ্দেশে করে বলেন, “কোন দল থেকে এসেছেন আপনি? কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন আপনি? কালকে পোস্টার ভদ্রলোকের মতো লাগবেন।”
ইউএনও তখন, ‘ঠিক আছে, ঠিক আছে’ বলে জবাব দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গোদাগাড়ী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে গত ৬ এপ্রিল ডাইংপাড়া মোড়ের চত্বরের সব দিক থেকে সব ধরনের ব্যানার, ফেস্টুনসহ ভ্যানগাড়ী, ছোট ছোট দোকানপাট ও ফুটপাতের উপর উপবিষ্ট সব ব্যক্তিকে নিজ উদ্যোগে ৭ এপ্রিল ২০২৫ এর মধ্যে অপসারণের নোটিস দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়। এতে কোনো সাড়া না পাওয়ায় পোস্টারগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
বিএনপি নেতা প্রকৌশলী কে এম জুয়েল বলেন, “পোস্টার সরালে পুরো এলাকায় সারিয়ে নেবেন। শুধু ওই নির্দিষ্ট এলাকায় পোস্টার সরানো মোটেও কাম্য নয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসককেও জানানো হয়েছে। সব দিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।”
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 






































