নেপালে দুই দিনের ভারি বৃষ্টিতে দেখা দেওয়া বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বন্যার কারণে কাঠমাণ্ডু উপত্যকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। ৪০ লাখ বাসিন্দার এ অঞ্চলটিতে ৫৬ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, জানিয়েছে রয়টার্স।
মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ও প্রবীণ মন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুং বলেছেন, সরকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং পুনর্নির্মাণের ব্যয় মূল্যায়ন করছে।
কাঠমান্ডুর কিছু আবহাওয়া স্টেশনে কয়েক দশকের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
অবকাঠামো ও নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ সূর্য রাজ আচার্য বলেন, কাঠমান্ডুতে মৌলিক প্রকৌশল ও পরিকল্পনা ছাড়াই যথেচ্ছ নির্মাণ ও নগরায়ণ এই বিশাল ক্ষতির জন্য দায়ী।
পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে প্রকৌশল ও পরিকল্পনার মৌলিক প্রয়োগ উপেক্ষা করে নদীর তীর মানুষ দখল করে রেখেছে। আচার্য বলেন, “বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির জন্য পর্যাপ্ত আউটলেট না থাকায় বন্যার পানি বাড়িতে প্রবেশ করে।”
তিনি আরও বলেন, “নেপালের ভূগোল, ভূখণ্ড, নদী ব্যবস্থা, মৌসুমি বায়ুর ধরন এবং চরম জলবায়ু বিপর্যয়ের সম্ভাবনা এ ধরনের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।”
জলবায়ু বিজ্ঞানীরা তার বক্তব্যে সহমত প্রকাশ করেছেন। কাঠমান্ডুভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের (আইসিআইএমওডি) জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিশেষজ্ঞ অরুণ ভক্ত শ্রেষ্ঠা বলেন, “দুর্বল নগর পরিকল্পনা ও অবকাঠামোর কারণে জলবায়ু পরিবর্তন দুর্যোগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।”
চেতনায়২৪ ডেস্ক : 





































